খবর

৮০ দিনের জ্বালানি, আশ্বাস পুরীর

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতে প্রায় ৮০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো তেল রয়েছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয়…
  • সোমবার কলকাতায় ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৭-এর প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রবল চাপ তৈরি হলেও তার প্রভাব এখনও ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে জ্বালানি পৌঁছনোর…
  • তবে পুরীর বলা ‘৮০ দিনের মজুত’কে শুধু দেশের গুদামে জমা থাকা তেল হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতে প্রায় ৮০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো তেল রয়েছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। সোমবার কলকাতায় ইন্ডিয়া এনার্জি উইক ২০২৭-এর প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় প্রবল চাপ তৈরি হলেও তার প্রভাব এখনও ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে জ্বালানি পৌঁছনোর ক্ষেত্রে পড়েনি।

তবে পুরীর বলা ‘৮০ দিনের মজুত’কে শুধু দেশের গুদামে জমা থাকা তেল হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এই হিসাবের মধ্যে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভান্ডারের পাশাপাশি পাইপলাইনে থাকা তেল, শোধনাগারের মজুত এবং পরিবহণের পথে থাকা চালানও ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি দেশের সামগ্রিক সরবরাহব্যবস্থার একটি হিসাব। সমস্ত তেল ইতিমধ্যেই দেশের সংরক্ষণাগারে মজুত রয়েছে—এমন নয়। বিশেষ করে পথে থাকা চালান যথাসময়ে পৌঁছনোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সরবরাহের ঝুঁকি কমাতে আমদানির উৎস আরও ছড়িয়ে দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন পুরী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানির উৎস ২৭টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১টি করেছে। একই সময়ে দেশের বার্ষিক তেল শোধনক্ষমতা ২১.৫ কোটি টন থেকে বেড়ে ২৬.৭ কোটি টন হয়েছে। এলপিজি আমদানি টার্মিনালের সংখ্যাও ১১ থেকে বেড়ে ২২ হয়েছে।

মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অনুষ্ঠানে পুরীর দাবি, এই প্রস্তুতির ফলেই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের পেট্রল পাম্পগুলিতে সরবরাহ সচল রাখা এবং পরিবারগুলির কাছে রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তাঁর মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আর শুধু কোথা থেকে তেল কেনা হচ্ছে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণপথে বাধা, আন্তর্জাতিক দামের অস্থিরতা এবং হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও এর অংশ।

সমস্যা তেলে নয়, পথে

বিশ্ব পরিস্থিতির ঝুঁকিও স্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর ব্যাখ্যা, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা বিশ্বে জ্বালানির সম্পূর্ণ ঘাটতি নয়, বরং তা পরিবহণ ও বণ্টনের পথে বাধা তৈরি হওয়া।

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল বা তার কাছাকাছি অবস্থিত। আবার বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ পাঠালেও হুথি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আমদানির উৎস বাড়ালেও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না।

রান্নার গ্যাসের প্রাপ্যতাকে বিশেষ উদ্বেগের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন পুরী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে গার্হস্থ্য এলপিজি সংযোগের সংখ্যা ২০১৪ সালের ১৪ কোটি থেকে বেড়ে ৩৩.৫ কোটি হয়েছে। সেই বাড়তি চাহিদা সামলাতে দৈনিক দেশীয় এলপিজি উৎপাদনও ৩৪ হাজার মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার মেট্রিক টন করা হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য শুধু জ্বালানির প্রাপ্যতা বজায় রাখা নয়, তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও রাখা। পুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি দৈনিক প্রায় ৫৩০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়ছিল। সেই ঘাটতি সামলাতে সরকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভারতের জ্বালানি চাহিদা বর্তমানে বিশ্ব গড়ের প্রায় তিন গুণ হারে বাড়ছে। ফলে বর্তমান সরবরাহ সামলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদার জন্যও পরিকাঠামো তৈরি করা জরুরি।

জ্বালানির মানচিত্রে বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের জ্বালানি পরিকাঠামোর কথাও তুলে ধরেছেন পুরী। তাঁর দাবি, রাজ্যে ১৭,৬০০ কোটি টাকার তেল ও গ্যাস প্রকল্পের কাজ চলছে।

অশোকনগরে আবিষ্কৃত তেলক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। অগস্টে ওএনজিসির প্রথম অপরিশোধিত তেলের চালান হলদিয়ায় পৌঁছেছে। সেখানে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

পুরীর মতে, এই প্রকল্পগুলি শুধু জ্বালানি সরবরাহের পরিকাঠামো শক্তিশালী করবে না, শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকাও আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই পটভূমিতেই আগামী বছরের ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি কলকাতায় বসবে ইন্ডিয়া এনার্জি উইক। সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী দাম, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে।

কেন্দ্রের আশা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য নিরাপদ এবং সুলভ জ্বালানি নিশ্চিত করার প্রশ্নও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles