তিন-ভাষায় ষষ্ঠেও ছাড়?

যা জানা জরুরি
- সিবিএসই-র তিন-ভাষা নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে চলতি শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদেরও ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করতে কেন্দ্র ও বোর্ডকে বলল সুপ্রিম…
- সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ জানায়, সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, বর্তমান…
- তবে এই ছাড়ের অর্থ তৃতীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি তুলে দেওয়া নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সিবিএসই-র তিন-ভাষা নীতি কার্যকর করার ক্ষেত্রে চলতি শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদেরও ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করতে কেন্দ্র ও বোর্ডকে বলল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ জানায়, সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।
তবে এই ছাড়ের অর্থ তৃতীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি তুলে দেওয়া নয়। সিবিএসই-র ২৯ জুনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে থাকা পড়ুয়াদের দশম শ্রেণিতে ওঠার পর তৃতীয় ভাষায় বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে না। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে যারা ইতিমধ্যে বিদেশি ভাষা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ দুটি ভাষা পড়ছে, তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ভারতীয় ভাষা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তৃতীয় ভাষার মূল্যায়ন হবে স্কুলের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায়।
অর্থাৎ, আদালতের আলোচনায় মূল প্রশ্ন তৃতীয় ভাষা পড়ানো হবে কি না, তা নয়; বরং নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার সময়ে পড়ুয়াদের পরীক্ষা ও মূল্যায়নের চাপ কী ভাবে কমানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় ভাষা পাঠ্যক্রমে থাকলেও দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় ওই বিষয়ে বসা বাধ্যতামূলক হবে না। সেই পরীক্ষায় না বসার কারণে শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত উত্তরণ বা শংসাপত্রও আটকে থাকবে না।
কোথা থেকে বিতর্ক
বিতর্কের সূত্র সিবিএসই-র ১৫ মে-র বিজ্ঞপ্তি। জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০২০ এবং জাতীয় বিদ্যালয় শিক্ষাক্রম কাঠামো, ২০২৩ অনুসারে পাঠ্যব্যবস্থায় তিনটি ভাষা শেখার নিয়ম আনা হয়। এর মধ্যে অন্তত দুটি ভাষা ভারতীয় হতে হবে।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, শিক্ষাজীবনের মাঝপথে এই পরিবর্তন পড়ুয়াদের সমস্যায় ফেলেছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং পাঠ্যবইয়ের ঘাটতির কথাও তাঁরা আদালতে জানিয়েছেন।
আবেদনকারীদের আরও বক্তব্য, এপ্রিলের আগের বিজ্ঞপ্তিতে তৃতীয় ভাষার বাধ্যবাধকতা পিছিয়ে দেওয়ার যে ব্যবস্থা ছিল, মে মাসের সিদ্ধান্তে তা বদলে যায়। ফলে স্কুল, পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের প্রস্তুতির সময় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
বিশেষ করে আগে থেকে একটি ভাষা কয়েক বছর ধরে শেখার পর তা ছেড়ে অন্য ভাষা শুরু করতে হলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
কেন্দ্রের আপত্তি
কেন্দ্র অবশ্য চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন নীতি কার্যকর রাখার পক্ষে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির ব্যাচকে ছাড় দিতে আগ্রহী নয়।
সরকারের দাবি, প্রায় ৯৯ শতাংশ সিবিএসই স্কুল নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও রয়েছে। ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের নতুন ভাষাব্যবস্থার অধীনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে কেন্দ্রের মত।
আবেদনকারীদের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন অবশ্য বলেন, সমস্যা শুধু একটি অতিরিক্ত ভাষা যোগ করার নয়। ইতিমধ্যে কয়েক বছর ধরে শেখা ভাষা বদলাতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।
উদাহরণ হিসেবে দিল্লি পাবলিক স্কুলের পড়ুয়াদের কথা তুলে তিনি জানান, চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্প্যানিশ শেখা কিছু শিক্ষার্থীকে নতুন ব্যবস্থায় সংস্কৃত নিতে হয়েছে। ফলে একেবারে নতুন ভাষার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়েছে।
কমিটি, না কি সরাসরি সিদ্ধান্ত?
প্রধান বিচারপতি প্রস্তাব দেন, দায়িত্বশীল প্রবীণ আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করে সমস্যায় থাকা স্কুল ও আবেদনকারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা যেতে পারে।
তবে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আরও একটি কমিটি তৈরির বদলে স্পষ্ট সিদ্ধান্তই বেশি জরুরি।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর আদালত ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষেত্রে তিন-ভাষা নীতি ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর করার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে বলেছিল।
সোমবারের শুনানির পর মামলাটি ছয় সপ্তাহের জন্য পিছিয়েছে। সিবিএসই-কে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাবি হলফনামা দিতে হবে। তার পরের দুই সপ্তাহে আবেদনকারীরা পাল্টা বক্তব্য জানাতে পারবেন।
তিন-ভাষা নীতি নিয়ে বৃহত্তর আইনি বিরোধের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আপাতত আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন—নতুন নিয়ম কার্যকর করার সময় পড়ুয়াদের জন্য কতটা পরিবর্তনকালীন সুবিধা দেওয়া যায় এবং স্কুলগুলির পক্ষে সেই বদল কতটা বাস্তবসম্মত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



