আইনে ক্ষমতা, সফটওয়্যারে বাধা: ইসিআইনেট বদলাতে চিঠি মহারাষ্ট্রের নির্বাচনী কর্তার
বাংলাস্ফিয়ার ডেস্কপ্রকাশ: 29 সেপ্টেম্বর 2026, 10:42 পূর্বাহ্নআপডেট: 29 সেপ্টেম্বর 2026, 10:44 পূর্বাহ্ন · পড়তে 5 মিনিট

যা জানা জরুরি
- ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব স্থানীয় আধিকারিকদের, অথচ সেই দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা সফটওয়্যারে কতটা রয়েছে?
- এই প্রশ্ন সামনে এনে ইসিআইনেট ব্যবস্থায় চারটি পরিবর্তন চেয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস চোকালিঙ্গম।
- ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো তাঁর চিঠিতে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের বা ইআরওদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব স্থানীয় আধিকারিকদের, অথচ সেই দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা সফটওয়্যারে কতটা রয়েছে? এই প্রশ্ন সামনে এনে ইসিআইনেট ব্যবস্থায় চারটি পরিবর্তন চেয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস চোকালিঙ্গম। ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো তাঁর চিঠিতে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের বা ইআরওদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিটি পাঠানো হয় কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সীমা খন্না এবং আরও দুই আধিকারিককে। এ বিষয়ে কমিশনের মুখপাত্রের কাছে প্রশ্নমালা পাঠানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি।
এই দাবির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর আগের আপত্তি। অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, গত দশ মাসে অন্তত চোদ্দো বার তাঁরা কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার অন্তর্ভুক্তি, নাম বাদ দেওয়া, নাম ফেরানো এবং ভোটার তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ ছিল উদ্বেগের কেন্দ্রে। তাঁদের অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল, স্থানীয় কর্তাদের দায়িত্ব বহাল থাকলেও দিল্লিতে সফটওয়্যারের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। আপত্তিগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ মতভেদ কেবল বাইরের রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ ছিল না; কমিশনের নিজস্ব নথিতেও তার চিহ্ন রয়েছে। মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক আবেদন সেই বিতর্কের সঙ্গে মাঠের কাজের বাস্তব সমস্যাকে যুক্ত করেছে।
বিতর্কের তাৎক্ষণিক ক্ষেত্র ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। পুরনো তালিকার সঙ্গে নিজের বা পরিবারের সদস্যদের তথ্যের সংযোগ প্রতিষ্ঠিত না হলে কাউকে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আবার সফটওয়্যারে তথ্যের অসংগতি ধরা পড়লে উঠছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র প্রশ্ন। এই শ্রেণিবিভাগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হচ্ছে। ফলে তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিচারবিবেচনার সুযোগ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চোকালিঙ্গমের প্রথম প্রস্তাব, সন্তোষজনক নথি পাওয়া গেলে ইআরও যেন ব্যক্তিগত শুনানি থেকে ভোটারকে অব্যাহতি দিতে পারেন। তিনি ভোটার নিবন্ধন বিধির উল্লেখ করে জানিয়েছেন, কাউকে সশরীরে হাজির হতে বলা প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের রয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পোর্টালে শুনানি থেকে অব্যাহতির আলাদা বিকল্প চেয়েছেন তিনি। প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং অন্য অসহায় ভোটারদের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও উদ্বেগ কমানো এর উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় প্রস্তাব নথি গ্রহণ নিয়ে। নোটিসে উল্লিখিত তেরো ধরনের নথির পাশাপাশি অন্য বা সমতুল্য নথি জমা দেওয়ার চতুর্দশ বিকল্প চান তিনি। তাঁর যুক্তি, তালিকাটি সম্ভাব্য নথির নির্দেশিকা; গ্রহণযোগ্য প্রমাণের শেষ সীমা নয়। বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ আদিবাসী গোষ্ঠী, গৃহহীন মানুষ কিংবা যৌনকর্মীদের কাছে নির্দিষ্ট তালিকার নথি না-ও থাকতে পারে। বিকল্প প্রমাণের প্রাসঙ্গিকতা ও যথার্থতা সম্পর্কে ইআরও সন্তুষ্ট হলে তা বিবেচনার সুযোগ থাকা দরকার।
তৃতীয় পরিবর্তনটি সরাসরি সিদ্ধান্তের কর্তৃত্ব নিয়ে। কিছু অসংগতির নিষ্পত্তিতে বুথস্তরের আধিকারিকের বক্তব্যের পাশাপাশি নথি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের যাচাইয়ের জন্য পাঠাতে হয়। চোকালিঙ্গম চান, প্রমাণে সন্তুষ্ট হলে ইআরও নিজেই সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। চতুর্থত, প্রতিটি অসংগতির ক্ষেত্রে আগের এসআইআরের তালিকার অংশ আপলোডের বাধ্যবাধকতা তুলে তা ঐচ্ছিক করতে বলেছেন। কারণ, সেই পুরনো তালিকার ভিত্তিতেই অসংগতি চিহ্নিত হচ্ছে।
এই চারটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বাইরে লিখিত নির্দেশিকাও চেয়েছেন তিনি। নোটিস, নথি জমা, শুনানি এবং নিষ্পত্তি নিয়ে মাঠের আধিকারিকদের বহু প্রশ্ন রয়েছে। মৌখিক নির্দেশ যথেষ্ট নয় বলে জানিয়ে প্রশ্নোত্তরের আকারে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
এই আবেদনের গুরুত্ব বোঝায় মহারাষ্ট্রের পরিসংখ্যান। এসআইআরের আগে রাজ্যে ভোটার ছিলেন ৯ কোটি ৭৯ লক্ষ; ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়ায় নাম ছিল ৭ কোটি ৭২ লক্ষের। প্রায় ২ কোটি ৭ লক্ষ মানুষের গণনাপত্র সংগ্রহ করা যায়নি। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, খসড়ায় নাম না থাকা মানেই চূড়ান্তভাবে বাদ পড়া নয়; দাবি ও আপত্তির পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা যাবে। এই পার্থক্যটি জরুরি, কারণ খসড়ায় অনুপস্থিতি এবং চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া এক বিষয় নয়।
অন্যদিকে, খসড়ায় থাকা প্রায় ১ কোটি ২২ লক্ষ ভোটারকে নোটিস প্রক্রিয়ার আওতায় চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬২ লক্ষ ৪৮ হাজারের ক্ষেত্রে পুরনো তালিকায় আত্মীয়ের তথ্যের অসংগতি রয়েছে; প্রায় ৫৯ লক্ষ ৭৬ হাজারের ক্ষেত্রে আত্মীয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যায়নি। খসড়ায় অনুপস্থিত ভোটার এবং নোটিসপ্রাপ্তির জন্য চিহ্নিত এই ভোটাররা পৃথক গোষ্ঠী। এত বিপুল সংখ্যক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় ধাপ নাগরিক ও প্রশাসন উভয়ের চাপ বাড়াতে পারে।
ইতিমধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিশনের বৈঠকে শুনানির নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়ি গিয়ে বিএলওরা নথি সংগ্রহ করে ইসিআইনেটে আপলোড করবেন; সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে শুনানি প্রয়োজন হলে সম্ভব হলে তা অনলাইনে হবে। ভোটার চাইলে পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও নিজের হয়ে শুনানিতে অংশ নিতে অনুমতি দিতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত হাজিরার চাপ কমানোর পথ খুলেছে।
সফটওয়্যার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন আইআইটি বা আইআইআইটি বিশেষজ্ঞ-সহ কমিটি গড়ার কথাও জানিয়েছে কমিশন। মাঠের আধিকারিকদের আরও নমনীয়তা প্রয়োজন হলে তা কার্যকর করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তালিকার বাইরের নথি গ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। তাই শুনানির ছাড়ের পাশাপাশি নথি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তবে কতটা স্বাধীনতা মিলছে, সেটিই এখন দেখার। পরবর্তী পদক্ষেপে তাই ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মহারাষ্ট্রে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময় বাড়িয়ে ১২ অক্টোবর এবং নিষ্পত্তির সময় ১০ নভেম্বর করা হয়েছে। সংশোধিত সূচিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ১৬ নভেম্বর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক
বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।
আরও লেখা →আরও পড়ুন
সম্পর্কিত প্রতিবেদন
খবর‘পিছড়া’ থেকে ‘পণ্ডিত’: অখিলেশের পিডিএ নিয়ে উত্তরপ্রদেশে অর্থ বদলের রাজনীতি
সেপ্টেম্বর 29, 2026
খবরনির্বাচন কমিশনারকে ‘চাপ’ দেওয়ার অভিযোগ, মোদীর পদত্যাগ চাইলেন খাড়্গে
সেপ্টেম্বর 29, 2026
খবরকানহাইয়াকে কেন ডেকে পাঠালেন রাহুল, কী জানতে চাইলেন?
সেপ্টেম্বর 29, 2026
খবরসার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর: বদলেছে জঙ্গি তৎপরতার ভূগোল, পাল্টেছে ভারতের প্রত্যাঘাতের কৌশল
সেপ্টেম্বর 29, 2026সকালের খবর, একসঙ্গে
ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে
বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।