বিসর্জনের পর ২,৭৫৫ টন প্রতিমা ও বর্জ্য, পুনর্ব্যবহারের পথ খুঁজছে মুম্বই

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: গণেশোৎসব শেষ হয়েছে, কিন্তু বিসর্জনের পরে জমে থাকা সামগ্রী সরিয়ে তার পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করার কাজ এখনও বাকি মুম্বই পুরসভার।
- বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা বিএমসি জানিয়েছে, ১৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২,৭৫৪.৮৫ মেট্রিক টন প্রতিমার অবশেষ ও অন্যান্য বিসর্জন-পরবর্তী সামগ্রী…
- এতে পরিবহণের গাড়িগুলি মোট ৭০৭ বার যাতায়াত করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: গণেশোৎসব শেষ হয়েছে, কিন্তু বিসর্জনের পরে জমে থাকা সামগ্রী সরিয়ে তার পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থা করার কাজ এখনও বাকি মুম্বই পুরসভার। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা বিএমসি জানিয়েছে, ১৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২,৭৫৪.৮৫ মেট্রিক টন প্রতিমার অবশেষ ও অন্যান্য বিসর্জন-পরবর্তী সামগ্রী উদ্ধার করে সরানো হয়েছে। এতে পরিবহণের গাড়িগুলি মোট ৭০৭ বার যাতায়াত করেছে।
এক দিনে সর্বাধিক সামগ্রী সরানো হয় ২৬ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ১৩১ বার গাড়ি চালিয়ে পরিবহণ করা হয়েছে ৫১০.৯২ মেট্রিক টন। ওয়ার্ডভিত্তিক হিসাবে শীর্ষে রয়েছে আন্ধেরির কে-পশ্চিম ওয়ার্ড: সেখানে সরানো হয়েছে ৩১৪.৮২ মেট্রিক টন। এস ওয়ার্ডে পরিমাণ ২৫৩.৫৮ এবং ডি ওয়ার্ডে ২৪৯.৪৩ মেট্রিক টন। এই হিসাব প্রতিমা ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর সম্মিলিত ওজন; শুধু প্লাস্টার অব প্যারিসের পরিমাণ নয়।
সংগৃহীত সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুলুন্ডের নির্দিষ্ট অস্থায়ী সংরক্ষণস্থলে। সেখানে একত্র করে রাখার পরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনর্ব্যবহার বা প্রক্রিয়াকরণের কথা। অর্থাৎ জলাশয় থেকে উদ্ধার এবং পরিবহণের কাজ এগোলেও গোটা বর্জ্য ইতিমধ্যে পুনর্ব্যবহার হয়ে গিয়েছে, এমন দাবি করেনি পুরসভা। উপযুক্ত, পরিবেশসম্মত প্রযুক্তি খুঁজতে আগ্রহী সংস্থাগুলির কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
পুরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনার কিরণ দিঘাভকর জানিয়েছেন, মাটির প্রতিমার মতো প্লাস্টার অব প্যারিস বা পিওপি বিসর্জনের পরে সহজে জলে মিশে যায় না। কৃত্রিম পুকুরে পড়ে থাকলে বা প্রাকৃতিক জলাশয়ে পৌঁছলে তা জলের গুণমানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিসর্জনের পুকুর পুনরায় ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি এবং সৈকতে অবশেষ জমে থাকার সমস্যাও রয়েছে।
বিএমসির বক্তব্য অনুযায়ী, বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ মেনে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। নির্দিষ্ট কৃত্রিম বিসর্জনস্থল থেকে সামগ্রী তুলে পরিবেশসম্মতভাবে সংরক্ষণ করার কথা রয়েছে। পুনরুদ্ধার, পুনর্ব্যবহার অথবা অন্য উপযুক্ত প্রক্রিয়া শুরু না-হওয়া পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পুরসভার। বিসর্জন শেষ হওয়ার সঙ্গে তাই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কাজ শেষ হচ্ছে না।
পুনর্ব্যবহারের প্রস্তুতির প্রমাণ রয়েছে পুরসভার দরপত্রের তালিকায়। মুলুন্ডে বিসর্জিত গণেশপ্রতিমার পিওপি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য সংস্থা নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি সেখানে নথিভুক্ত। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের গোড়াতেই প্রতিমা সংগ্রহ ও সংরক্ষণস্থলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ডাম্পার ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। যন্ত্রপাতি ভাড়ার ব্যবস্থাও ছিল। ফলে পরিবহণ এবং চূড়ান্ত প্রক্রিয়াকরণকে আলাদা কাজ হিসেবে এগিয়েছে পুরসভা।
তবে শেষ ধাপের অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ফ্রি প্রেস জার্নালের ২৮ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পালঘরের ওয়াডার একটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হলেও তাদের উত্তর তখনও আসেনি। আগ্রহপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চূড়ান্ত না-হওয়া পর্যন্ত মুলুন্ডেই অবশেষ রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আগের বছরের অভিজ্ঞতাও। একই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে দশ মেট্রিক টন সামগ্রী প্রক্রিয়াকরণ করে বেঞ্চ ও ব্যবহারযোগ্য কিছু জিনিস তৈরি হয়েছিল। কিন্তু খরচ ও বাস্তব প্রয়োগের সমস্যায় সেই পদ্ধতি বড় পরিসরে কার্যকর হয়নি। শহরের সমস্ত বিসর্জন-বর্জ্য সামলানোর ব্যবস্থা তাই এখনও গড়ে ওঠেনি।
উৎসবের আগেই, ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মিড-ডের প্রতিবেদনে দিঘাভকর জানিয়েছিলেন, দু’বছরের সংগৃহীত পিওপি একত্র করে প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমা নির্মাণ, প্লাস্টারবোর্ড, সিরামিক বা ইটের মতো কাজে উপাদানটি ব্যবহারের সম্ভাবনা খোঁজা হচ্ছে। এই সম্ভাবনাগুলির বাস্তব প্রয়োগ অবশ্য এখনও বাকি।
মুম্বইয়ের সামনে তাই এখন দ্বিতীয় পরীক্ষা: সংগৃহীত সামগ্রী কতটা নিরাপদে, কত খরচে এবং কত সময়ে কাজে ফেরানো যাবে। অস্থায়ী জায়গায় সরিয়ে রাখলে জলাশয়ের তাৎক্ষণিক চাপ কমতে পারে, কিন্তু বর্জ্যের চূড়ান্ত সমাধান হয় না। উৎসব-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতার সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে সংগ্রহের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব প্রক্রিয়াকরণের হিসাব কতটা মেলে, তার উপর।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



