খবর

রামমন্দিরের অনুদান চুরির মামলায় ১৩৩ সাক্ষী, তালিকায় চম্পত ও অনিল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদানের টাকা চুরির মামলায় দাখিল হওয়া অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে মন্দির পরিচালনাকারী শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ন্যাসের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত…
  • বিশেষ তদন্তকারী দলের অভিযোগপত্রে মোট ১৩৩ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়েছে।
  • ২৩ সেপ্টেম্বর অযোধ্যার বিশেষ দুর্নীতি দমন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদানের টাকা চুরির মামলায় দাখিল হওয়া অভিযোগপত্রে সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে মন্দির পরিচালনাকারী শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ন্যাসের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং প্রাক্তন সদস্য অনিলকুমার মিশ্রের। বিশেষ তদন্তকারী দলের অভিযোগপত্রে মোট ১৩৩ জনকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে আটজনের। ২৩ সেপ্টেম্বর অযোধ্যার বিশেষ দুর্নীতি দমন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত চলাকালে চম্পত ও অনিলকে অনুদান সংগ্রহ এবং টাকা গোনার ব্যবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়নি। সাক্ষীদের তালিকায় রয়েছেন অভিযোগকারী কৃষ্ণমোহন এবং ন্যাসের প্রাক্তন বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য গোপাল এম নাগরকাট্টেও, যিনি গোপাল রাও নামে পরিচিত। অনুদান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষ্যের উপরও তাই নির্ভর করছে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা।

আট অভিযুক্ত হলেন অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। তাঁদের অধিকাংশই মন্দিরে অনুদানের টাকা গোনার কাজে যুক্ত ছিলেন। সুভাষ ছিলেন সেই কাজের দায়িত্বে। টিন্নু গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত ছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, মন্দির চত্বরে বসানো নজরদারি ক্যামেরার ছবিতে টাকা গোনার সময় অনুমতি ছাড়া নগদ সরানো অথবা লুকিয়ে রাখার ১০৫টি ঘটনা ধরা পড়েছে। সংগ্রহবাক্স ও অনুদান গ্রহণের কাউন্টার থেকে ব্যাঙ্কে জমা পড়া পর্যন্ত অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তে টাকা গোনার পর্যায়েই অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে; ব্যাঙ্কে নিয়ে যাওয়ার সময় অর্থ সরানোর প্রমাণ মেলেনি।

ধৃত আটজনের মধ্যে সাতজনের কাছ থেকে প্রায় ৭৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। সুভাষ শ্রীবাস্তবের কাছ থেকে নগদ অর্থ কিংবা মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হয়নি। অযোধ্যার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব গ্রোভার জানিয়েছেন, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিধানসহ একাধিক অভিযোগে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

নগদ টাকার পাশাপাশি মন্দিরে দেওয়া মূল্যবান উপহারের হিসাবও পরীক্ষা করেছে তদন্তকারী দল। ন্যাসের বৈদ্যুতিন নথিতে থাকা ৮০৩টি মূল্যবান সামগ্রী যাচাই করে কোনও গরমিল পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে জানানো হয়েছে। রসিদবিহীন আরও ৮৬টি মূল্যবান সামগ্রী সরেজমিনে মিলিয়ে দেখা হয়। রুপোর ইটসহ বিভিন্ন রৌপ্যসামগ্রীর অনুদান এবং সেগুলির পরবর্তী ব্যবস্থাপনাও তদন্তের আওতায় ছিল।

অভিযুক্তদের ব্যাঙ্কের হিসাব, টাকা জমা ও তোলার তথ্য, জমিজমা, গাড়ি, গয়না এবং নির্মাণে ব্যয়ের বিবরণও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাঁদের পরিচিত আয়ের সঙ্গে সম্পত্তি ও খরচের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করেছেন তদন্তকারীরা। এই আর্থিক অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য ছিল, অনুদান থেকে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠা অর্থের পরবর্তী গতিপথ শনাক্ত করা।

তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে রয়েছেন লক্ষ্ণৌ রেঞ্জের আইজি কিরণ এস। সদস্যরা হলেন ডিআইজি সোমেন বর্মা এবং অযোধ্যার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব গ্রোভার। তদন্তে আর্থিক হিসাবের বিশেষ নিরীক্ষার সাহায্যও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকেরা।

গত ২৫ জুন কৃষ্ণমোহনের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তার দু’দিন আগে প্রাথমিক তদন্তের ফল সরকারের কাছে জমা পড়েছিল। অনুদান চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে মন্দির পরিচালনার ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। চম্পত ও অনিল পরে দায়িত্ব ছাড়েন। অভিযোগপত্র দাখিলের সময় স্থানীয় আইনজীবীদের একাংশও আদালতে উপস্থিত হন।

অযোধ্যা আইনজীবী সংগঠনের সভাপতি কালিকাপ্রসাদ মিশ্র জানিয়েছেন, তাঁরা আগেই চম্পত রাই, অনিল মিশ্র ও গোপাল রাওয়ের ভূমিকা তদন্তের আবেদন করেছিলেন। সেই পটভূমিতে তাঁদের সাক্ষী করার সিদ্ধান্ত নজর কেড়েছে। তবে অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে, তা তদন্তকারীদের বক্তব্য; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার এখনও বাকি। সাক্ষ্য, নজরদারি ক্যামেরার ছবি এবং আর্থিক নথির ভিত্তিতেই আদালতে মামলাটির নিষ্পত্তি হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles