খবর

ভোটের ফর্ম নয়, আগে ক্লাস: শিক্ষকদের সরকারি কাজে নেওয়ায় আইন আনছে কর্নাটক

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকা সংশোধন, জনগণনা বা নির্বাচনের কাজে শিক্ষক নেওয়ার আগে জেলাশাসককে লিখে জানাতে হবে—অন্য কোনও সরকারি কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।
  • এমন বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া করেছে কর্নাটক সরকার।
  • ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্কুলশিক্ষা দপ্তর খসড়াটি অন্যান্য দপ্তরের মতামতের জন্য পাঠিয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ভোটার তালিকা সংশোধন, জনগণনা বা নির্বাচনের কাজে শিক্ষক নেওয়ার আগে জেলাশাসককে লিখে জানাতে হবে—অন্য কোনও সরকারি কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। এমন বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া করেছে কর্নাটক সরকার। ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্কুলশিক্ষা দপ্তর খসড়াটি অন্যান্য দপ্তরের মতামতের জন্য পাঠিয়েছে। এটি এখনও বিধানসভায় পাশ হওয়া আইন নয়; নাম, চূড়ান্ত ধারা ও কার্যকর হওয়ার তারিখ সরকারি প্রক্রিয়ার পরে স্থির হবে।

প্রস্তাবের কেন্দ্রে থাকবে ‘শিক্ষক নন’ এমন সরকারি কর্মীদের জনদায়িত্ব তালিকা। নির্বাচন বা অন্য জরুরি কাজে প্রথমে সেই তালিকা থেকে কর্মী নিতে হবে। শিক্ষক ব্যবহার করতে হলে জেলাশাসকের অনুপস্থিতি-শংসাপত্র প্রয়োজন। তাতেও যত কম সম্ভব শিক্ষক নিতে হবে, নির্ধারিত ছাত্র–শিক্ষক অনুপাত বজায় রাখতে হবে এবং কোনও স্কুল বন্ধ করা যাবে না। প্রশিক্ষণ পাঠের সময়ের বাইরে রাখা ও স্বেচ্ছুক শিক্ষককে আগে সুযোগ দেওয়ার কথাও খসড়ায় আছে।

সমস্যাটি নতুন নয়। শিক্ষকরা নির্বাচন, ভোটার তালিকা, জনগণনা, সমীক্ষা, ত্রাণ ও নানা প্রশাসনিক কাজে দক্ষ ও সহজলভ্য সরকারি কর্মী হিসেবে ব্যবহৃত হন। সংবিধান ও নির্বাচনী আইনে কিছু দায়িত্বের বিশেষ গুরুত্ব আছে; একেবারে নিষেধ বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। কিন্তু একজন শিক্ষক কয়েক সপ্তাহ স্কুলের বাইরে থাকলে তাঁর জায়গায় শুধু উপস্থিতির সংখ্যা কমে না—পাঠক্রম, মূল্যায়ন ও দুর্বল ছাত্রের সহায়তা ব্যাহত হয়। ছোট স্কুলে একজন শিক্ষক সরলেই পুরো শ্রেণি অচল হতে পারে।

খসড়ায় বিকল্প শিক্ষক দিয়ে হারানো পাঠ পূরণের কথা রয়েছে। ব্যবহারিক প্রশ্ন হল, সেই বিকল্প কোথা থেকে আসবেন। রাজ্যে অনুমোদিত পদ শূন্য থাকলে বা অতিথি শিক্ষক কম থাকলে কাগজের বদলি শ্রেণিকক্ষে পৌঁছবে না। একইভাবে প্রশিক্ষণ ‘পাঠের সময়ের বাইরে’ মানে সন্ধ্যা বা ছুটির দিনে অতিরিক্ত শ্রম; তার সময়, যাতায়াত ও ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা দরকার। শিক্ষককে রক্ষা করতে গিয়ে বিনা পারিশ্রমিকের নতুন বোঝা দেওয়া সংস্কার নয়।

নির্বাচনী কাজের নিরপেক্ষতা ও প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অন্য দপ্তরের কর্মীকে তালিকায় রাখলেই তিনি বুথ বা ভোটার-নিবন্ধনের কাজ জানবেন না। নিয়মিত প্রশিক্ষিত একটি আন্তঃদপ্তর বাহিনী প্রয়োজন, যাতে নির্বাচনের আগে হঠাৎ শিক্ষক টানতে না-হয়। ডিজিটাল নথি ও মাঠযাচাইয়ের দায়িত্বও দক্ষতা অনুযায়ী ভাগ করা উচিত। জরুরি দুর্যোগে ছাড় থাকলে তার সংজ্ঞা সংকীর্ণ করতে হবে, নইলে প্রতিটি প্রশাসনিক কাজকেই ‘জরুরি’ বলা সহজ।

ভারতের শিশুদের শিক্ষার অধিকার আইনে শিক্ষককে জনগণনা, দুর্যোগ-ত্রাণ ও নির্বাচন ছাড়া অন্য অশিক্ষামূলক কাজে না-লাগানোর নীতি আগে থেকেই আছে। তবু বাস্তবে ‘নির্বাচন-সম্পর্কিত’ কাজের পরিসর বাড়ে এবং দীর্ঘ ভোটার তালিকা সংশোধনও মাসের পর মাস চলতে পারে। কর্নাটকের খসড়ার নতুনত্ব হবে ব্যতিক্রম ব্যবহারের আগে লিখিত প্রমাণ ও বিকল্প কর্মীর তালিকা। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার সঙ্গে দ্বন্দ্ব হলে আদালতি ব্যাখ্যা লাগতে পারে। তাই কমিশন, শিক্ষক সংগঠন ও শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞের মতামত খসড়া পর্যায়েই নেওয়া দরকার।

বিশ্লেষণ: আইনের সাফল্য মাপা যাবে কত শিক্ষককে কাজে নেওয়া হল তা দিয়ে নয়, কত পাঠঘণ্টা বাঁচল এবং সরকারি কাজের মান বজায় থাকল তা দিয়ে। প্রতিটি জেলায় অনুপস্থিতি-শংসাপত্র, নেওয়া শিক্ষকের সংখ্যা, দিনের হিসাব ও বদলি-পাঠ প্রকাশ করলে ব্যতিক্রম নিয়ম হয়ে যাচ্ছে কি না বোঝা যাবে। কেন্দ্রীয় নির্বাচন আইন ও আদালতের নির্দেশের সঙ্গে রাজ্য আইন কোথায় মিলবে, আইনি পরীক্ষা প্রয়োজন। খসড়া একটি সঠিক অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছে—শিক্ষকের প্রধান কর্মস্থল শ্রেণিকক্ষ। এখন প্রশাসনকে প্রমাণ করতে হবে, বাকিরা সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

স্কুল স্তরেও স্বচ্ছ অভিযোগপথ দরকার। শিক্ষককে হঠাৎ অন্য কাজে পাঠালে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা অভিভাবক কোথায় জানাবেন এবং বিকল্প ক্লাস কে নেবেন, তা নির্দিষ্ট না-থাকলে আইনের লক্ষ্য কাগজে আটকে যাবে। মাসে কত শিক্ষাদিবস অশিক্ষামূলক কাজে হারাল, জেলা ধরে সেই তথ্য প্রকাশ করলে বাস্তব প্রয়োগ মাপা সম্ভব হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles