খবর

তেল থেকে তাণ্ডব

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রতিবেদন ধূসর চুল, বদলে যাওয়া চেহারা, আর মুখে একটানা দশ মিনিটের বক্তৃতা—টম ক্রুজকে এমন রূপে খুব একটা দেখা যায়নি।
  • আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতুর নতুন ছবি ‘ডিগার’-এ তিনি অ্যাকশন-তারকার চেনা ছক ছেড়ে ঢুকেছেন এক অতি-ক্ষমতাবান তেল-ব্যবসায়ীর চরিত্রে।
  • ২২ সেপ্টেম্বর লন্ডনের লেস্টার স্কোয়ারে ছবিটির বিশ্ব-অভিষেক হয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রতিবেদন

ধূসর চুল, বদলে যাওয়া চেহারা, আর মুখে একটানা দশ মিনিটের বক্তৃতা—টম ক্রুজকে এমন রূপে খুব একটা দেখা যায়নি। আলেহান্দ্রো গনসালেস ইনারিতুর নতুন ছবি ‘ডিগার’-এ তিনি অ্যাকশন-তারকার চেনা ছক ছেড়ে ঢুকেছেন এক অতি-ক্ষমতাবান তেল-ব্যবসায়ীর চরিত্রে। ২২ সেপ্টেম্বর লন্ডনের লেস্টার স্কোয়ারে ছবিটির বিশ্ব-অভিষেক হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বরের রয়টার্সের প্রতিবেদনে ক্রুজ চরিত্র ডিগার রকওয়েলকে তাঁর অভিনয় করা সবচেয়ে অস্বাভাবিক চরিত্রগুলির একটি বলে উল্লেখ করেছেন।

রকওয়েলের সংস্থা পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটিয়েছে। কিন্তু বিপর্যয়ের দায় নেওয়ার বদলে তিনি নিজেই হয়ে উঠতে চান মানবতার উদ্ধারকর্তা। নিজের তৈরি সমস্যার সমাধান করেই নিজের নায়ক হওয়ার এই দৌড়েই ছবির ব্যঙ্গের মূল সুর।

ব্রিটেনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে আয়োজিত রাজকীয় প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস কেট। তবে লালগালিচায় রাজপরিবারের উপস্থিতিকে ছবির মানের সরকারি স্বীকৃতি হিসেবে দেখার কারণ নেই। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের ফিল্ম অ্যান্ড টিভি চ্যারিটিকে সমর্থন করেছে—এটাই এর সামাজিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য।

ক্রুজের পরিচিত দৌড়, মোটরবাইক কিংবা আকাশপথের বিপজ্জনক স্টান্টের বদলে ‘ডিগার’-এর প্রচারে সামনে এসেছে ধূসর চুল, বদলে যাওয়া শরীর এবং কথার অস্বস্তিকর কৌতুক। রয়টার্সকে ক্রুজ জানিয়েছেন, ছবিতে প্রায় দশ মিনিটের একটি একটানা বক্তৃতার দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। সেটি ‘এক টেকে নিখুঁত’ বলে বর্ণনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ছবিতে কোন সংস্করণ রাখা হয়েছে এবং সম্পাদনায় কী বদল এসেছে, তা আলাদা বিষয়। আর চেহারার পরিবর্তন যতই নজর কাড়ুক, সেটি একা চরিত্রের গভীরতার প্রমাণ নয়।

ইনারিতুর ছবিটি তৈরি হতে সময়ও কম লাগেনি। সহ-অভিনেত্রী সান্দ্রা হ্যুলার প্রায় এক দশকের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। চিত্রনাট্যে ইনারিতুর সঙ্গে কাজ করেছেন আলেকসান্দার দিনেলারিস, নিকোলাস জিয়াকোবোনে ও সাবিনা বেরমান। অভিনয়ে আরও রয়েছেন জেসি প্লেমন্স, রিজ আহমেদ, সোফি ওয়াইল্ড, এমা ডি’আর্সি, মাইকেল স্টুলবার্গ ও জন গুডম্যান। সিনেমাটোগ্রাফার ইমানুয়েল লুবেজকি।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৩৫ মিলিমিটার ভিস্তাভিশনে ছবিটির চিত্রগ্রহণের কথা এসেছে। অর্থাৎ বড় বাজেটের স্টুডিয়ো কমেডি হলেও দৃশ্যভাষায় ফিল্মের ব্যবহারই গুরুত্ব পেয়েছে।

২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে ছবিটির মুক্তির কথা রয়েছে, যদিও অঞ্চলভেদে তারিখ আলাদা হতে পারে। তাই ২২ সেপ্টেম্বরের লেস্টার স্কোয়ারের অনুষ্ঠানকে বিশ্ব-অভিষেক বলা ঠিক, কিন্তু সেটিকে সর্বত্র বাণিজ্যিক মুক্তি বলা যাবে না।

বিশ্লেষণ

তেল-ব্যবসায়ী নিজের তৈরি পরিবেশবিপর্যয় থেকে নিজেকেই নায়ক বানাতে চাইছেন—এই গল্পের মধ্যে কর্পোরেট ‘সমাধান’-এর ব্যঙ্গের যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতি করেছে, তার প্রধানই যদি পরে উদ্ধারকর্তার ভাষা দখল করেন, তখন দায় আর প্রচারের সীমারেখা কোথায়? ছবির ব্যঙ্গ কতটা ধারালো হবে, তা নির্ভর করবে শুধু রকওয়েলের অদ্ভুত আচরণ নয়, তাঁকে সম্ভব করে তোলা অর্থ, রাজনীতি ও গণমাধ্যমের কাঠামোকেও কতটা দৃশ্যমান করা হচ্ছে তার উপর।

সেখানেই টম ক্রুজের তারকাখ্যাতি ছবিটির জন্য একই সঙ্গে সম্পদ ও চ্যালেঞ্জ। দর্শকের চোখ প্রথমেই আটকে যেতে পারে তাঁর বদলে যাওয়া চেহারায়। কিন্তু অতিচেনা তারকার উপস্থিতি যদি চরিত্রকে ছাপিয়ে যায়, তবে ক্ষমতার ব্যঙ্গ ব্যক্তিগত খেয়ালের গল্পে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। ইনারিতুর কাজ হবে ক্রুজের তারকাভাবকেই ব্যবহার করে ক্ষমতাবান মানুষের আত্মবিশ্বাসের হাস্যকর দিকটি সামনে আনা।

ছবিটির নির্মাণব্যয় ১২৫ মিলিয়ন ডলার বলে শিল্প-বাণিজ্য প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। তবে স্টুডিয়োর পূর্ণ নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশিত না হলে এটিকে চূড়ান্ত অঙ্ক হিসেবে ধরা যায় না। আর বাজেট জানলেই লাভ-ক্ষতির হিসাবও হয় না—বিপণন, পরিবেশন এবং প্রেক্ষাগৃহের অংশীদারি ধরতে হবে।

পরিবেশ নিয়ে ব্যঙ্গ করার আরেকটি স্তরও রয়েছে। ছবির বক্তব্য পরিবেশগত বিপর্যয় নিয়ে হলেও, তার মানে এই নয় যে ছবিটির নিজস্ব নির্মাণ প্রক্রিয়াও পরিবেশবান্ধব। ভ্রমণ, সেট, শক্তি ও উপকরণের ব্যবহার মিলিয়ে প্রযোজনার পূর্ণ কার্বন হিসাব প্রকাশিত হয়েছে কি না, উদ্ধৃত তথ্য থেকে তা স্পষ্ট নয়। রকওয়েলের ভণ্ডামি নিয়ে হাসতে গেলে ছবির নির্মাণের বাস্তব পরিবেশগত দায়ও একই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

আর রাজকীয় লালগালিচার ঝলকের আড়ালে রয়েছে চলচ্চিত্রশিল্পের নেপথ্য শ্রম। ফিল্ম অ্যান্ড টিভি চ্যারিটি অনিয়মিত কাজ, আর্থিক সংকট ও শিল্পীদের নানা সমস্যায় সহায়তা করে। সেই সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মঘণ্টা বা দীর্ঘমেয়াদি শ্রম-সুরক্ষার বিকল্প নয়। একটি ছবির অভিষেক শিল্পের সব সমস্যার সমাধান করে না; বরং সেই সমস্যাগুলিকে দৃশ্যমান করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তাই ‘ডিগার’-এর গল্প শুধু এক তেল-সম্রাটের নিজের তৈরি বিপর্যয় থেকে নায়ক হয়ে ওঠার গল্প নয়। এর বাইরেও প্রশ্ন থাকে—কে বিপর্যয় ঘটায়, কে তার দায় নেয়, কে উদ্ধারকর্তার মঞ্চ পায়, আর সেই মঞ্চ তৈরির নেপথ্যে কারা কাজ করেন। লালগালিচার আলো নিভে গেলে শেষ প্রশ্নটিই হয়তো থেকে যায়।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles