নানির ‘প্যারাডাইস’: হইচই, সংশয়

যা জানা জরুরি
- মুক্তির দিনেই প্রশংসা ও আপত্তির টানাপোড়েন, আইনি বিতর্কও সঙ্গী তেলুগু ছবিটির প্রতিবেদন দু’বার মুক্তির তারিখ বদলের পরে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে এল তেলুগু ছবি দ্য…
- নানি ও পরিচালক শ্রীকান্ত ওডেলার এটি দ্বিতীয় যৌথ কাজ।
- নতুন ছবিতে নানির চরিত্র জাদাল—আশির দশকের সেকেন্দরাবাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা এক বিদ্রোহী চরিত্র।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুক্তির দিনেই প্রশংসা ও আপত্তির টানাপোড়েন, আইনি বিতর্কও সঙ্গী তেলুগু ছবিটির
প্রতিবেদন
দু’বার মুক্তির তারিখ বদলের পরে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে এল তেলুগু ছবি দ্য প্যারাডাইস। নানি ও পরিচালক শ্রীকান্ত ওডেলার এটি দ্বিতীয় যৌথ কাজ। তাঁদের আগের ছবি ছিল দশরা। নতুন ছবিতে নানির চরিত্র জাদাল—আশির দশকের সেকেন্দরাবাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে উঠে আসা এক বিদ্রোহী চরিত্র। কায়াদু লোহার, রাঘব জুয়াল ও মোহন বাবুও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন। সংগীতের দায়িত্বে অনিরুদ্ধ রবিচন্দর।
মুক্তির দিনের নিশ্চিত খবর আপাতত এতটুকুই। সমাজমাধ্যমে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় উচ্ছ্বাস যেমন দেখা গিয়েছে, তেমনই এসেছে তীব্র আপত্তিও। কিন্তু সেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াকে এখনও চূড়ান্ত দর্শক-রায় বলা যাচ্ছে না।
মুক্তির আগেই অবশ্য ছবিকে ঘিরে অন্য একটি ঘটনা আলোচনায় চলে আসে—আইনি লড়াই।
প্রযোজক শ্রী লক্ষ্মী ভেঙ্কটেশ্বরা সিনেমাসের আবেদনের ভিত্তিতে বেঙ্গালুরুর একটি আদালত ১৯ সেপ্টেম্বর কয়েকটি নির্দিষ্ট অনলাইন বিষয় ছড়ানোর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী একতরফা নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদেশটির লক্ষ্য ছিল কথিত মিথ্যা ও মানহানিকর প্রচার। প্রকৃত পর্যালোচনা বা ন্যায্য সমালোচনা বন্ধ করার নির্দেশ সেখানে ছিল না।
অভিনেতা নানিও মুক্তির আগের অনুষ্ঠানে এই পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছিলেন। ফলে ‘নেতিবাচক রিভিউ নিষিদ্ধ’—এমন সরলীকৃত শিরোনাম আদালতের আদেশের প্রকৃত সীমা পুরোপুরি বোঝায় না।
মুক্তির প্রথম কয়েক ঘণ্টায় দর্শকের প্রতিক্রিয়াও ছিল দুই মেরুর। কেউ নানির অভিনয়, আলোকসজ্জা এবং মধ্যবর্তী অংশের উত্তেজনার প্রশংসা করেছেন। আবার কেউ অতিরিক্ত উচ্চ শব্দ, সম্পাদনা এবং দ্বিতীয়ার্ধের গতির সমালোচনা করেছেন।
তবে এগুলি নির্দিষ্ট দর্শকের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, কোনও প্রতিনিধিত্বশীল সমীক্ষা নয়। একই কারণে দিনের মাঝামাঝি প্রকাশিত টিকিট বিক্রির অনুমানকেও চূড়ান্ত বক্স অফিস ফলাফল বলা যায় না। ব্লক করা আসন, মোট বুকিং এবং বাস্তবে ব্যবহৃত টিকিট—তিনটির হিসাব এক নয়। পূর্ণ দিনের তথ্য এবং পরিবেশকের নিশ্চিত হিসাব হাতে না আসা পর্যন্ত কোনও অঙ্ককে সাফল্য বা ব্যর্থতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
ছবিটির প্রচারে সামাজিক বঞ্চনা, মর্যাদা ও প্রতিরোধের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলেই নির্মাণ সফল—এমন সরল সমীকরণও নেই।
প্রান্তিক মানুষের ইতিহাসকে অ্যাকশন-নাটকে রূপ দেওয়ার সময় কয়েকটি প্রশ্ন তাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জীবন কি শুধুই নায়কের ক্রোধের পটভূমি হয়ে উঠেছে? নারী চরিত্রের উপর সহিংসতা কি আবেগ তৈরির সহজ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে? রাজনৈতিক বক্তব্য কি চরিত্রের অভিজ্ঞতা থেকে স্বাভাবিক ভাবে উঠে এসেছে?
প্রচারে ছবির বিষয়বস্তুর যে দাবি করা হয়, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর আগাম দিয়ে দেয় না।
বিশ্লেষণ
দ্য প্যারাডাইস-এর মুক্তি একই সঙ্গে দুটি পুরনো সমস্যাকে সামনে এনেছে।
এক দিকে, বড় ছবির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভুয়ো প্রচার বা বট-চালিত আক্রমণ হলে তা বাণিজ্যিক ক্ষতি করতে পারে। অন্য দিকে, অস্পষ্ট বা অতিরিক্ত বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা দর্শকের মতপ্রকাশ এবং সমালোচকের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
তাই আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোন পোস্ট বা দাবি মিথ্যা, তার প্রমাণ কী এবং তাতে কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে—এসব নির্দিষ্ট করে দেখা জরুরি। আদালতের আদেশ এবং প্রযোজকের প্রচারকে একই বিষয় হিসেবে দেখলে ছবিকে ঘিরে বিতর্কের আসল চরিত্রটাই অস্পষ্ট হয়ে যায়।
প্রথম দিনের হইচই থিতিয়ে যাওয়ার পরে ছবির আসল পরীক্ষা হবে দীর্ঘস্থায়ী দর্শকপ্রতিক্রিয়া। নানির তারকাখ্যাতি প্রাথমিক আগ্রহ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই আগ্রহ ধরে রাখবে কাহিনি, চরিত্র এবং নির্মাণের মান।
তাই মুক্তির দিনেই ‘হিট’ বা ‘ফ্লপ’ তকমা দেওয়ার চেয়ে আপাতত যা বলা যায়, তা হল—এটি একটি বহুল প্রতীক্ষিত ছবি, যার প্রথম দিনের প্রতিক্রিয়া বিভক্ত এবং যার মুক্তির সঙ্গে সমালোচনা ও মানহানির সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
বাণিজ্যিক হিসাবেও একটু ধৈর্য প্রয়োজন।
তেলঙ্গানা সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাড়তি টিকিটের দাম এবং ২৩ সেপ্টেম্বর বিশেষ প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বেশি টিকিটের দাম মোট আয়ের অঙ্ক বাড়াতে পারে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে বেশি মানুষ ছবিটি দেখেছেন। আবার একটি রাজ্যে দেওয়া অনুমতিকে ভারতের সব শহরের টিকিটের দাম হিসেবে ধরা যায় না।
দর্শকসংখ্যা, গড় টিকিটদর এবং প্রেক্ষাগৃহের ভাগ—এই তিনটি আলাদা করে না দেখলে বক্স অফিসের তুলনাও বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তারকা-ছবির প্রথম সপ্তাহে বিপণন এবং স্বাধীন হিসাব একই অঙ্ককে ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করতে পারে বলেই এই স্বচ্ছতা আরও জরুরি।
পূর্ণ এক সপ্তাহের হিসাব সামনে এলে অঞ্চল ও ভাষাভিত্তিক আয়, দর্শকসংখ্যা এবং ছবিটির দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে অনেক পরিষ্কার ছবি পাওয়া যাবে।
এখন তাই রায় নয়, অপেক্ষাই যথাযথ।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



