খামের মালিক কে: উপনির্বাচনের প্রতীক-বিতর্কে হাইকোর্টে আইএসএফ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নতুন আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে।
- ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ করেছে, যে প্রতীক ব্যবহার করে তারা প্রচার চালাচ্ছিল, নির্বাচন কমিশন সেটিই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল…
- ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের আদালতে মামলাটি ওঠে; কমিশন জবাব দেওয়ার সময় চেয়েছে এবং আদালত পরদিন শুনানির কথা বলেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে নতুন আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ কলকাতা হাইকোর্টে অভিযোগ করেছে, যে প্রতীক ব্যবহার করে তারা প্রচার চালাচ্ছিল, নির্বাচন কমিশন সেটিই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের আদালতে মামলাটি ওঠে; কমিশন জবাব দেওয়ার সময় চেয়েছে এবং আদালত পরদিন শুনানির কথা বলেছে।
আইএসএফের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের যুক্তি, একই নির্বাচনে একটি দলকে দিয়ে প্রচার করানোর পরে হঠাৎ অন্য দলকে একই প্রতীক দেওয়া যুক্তিসঙ্গত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। তাঁর প্রার্থনা ছিল আরও সংযত: খাম প্রতীক আইএসএফকে দিতেই হবে, এমন দাবি না-করে তিনি বলেছেন, বর্তমান নির্বাচনে প্রতীকটি কোনও পক্ষকেই না-দেওয়া হোক এবং নতুন দলকে অন্য প্রতীক দেওয়া যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান, আইএসএফ স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়; তাই কোনও প্রতীকের উপর স্থায়ী সংরক্ষিত অধিকার দাবি করতে পারে না। কমিশনের মতে, খাম প্রতীক সাময়িকভাবে দেওয়া হয়েছিল, আইএসএফ দু’বার তা ব্যবহার করেছে এবং পরে সেটি পুনর্বণ্টিত হয়েছে। এই ব্যাখ্যার আইনি বৈধতা, সমতা এবং প্রচারে তৈরি ভোটার-পরিচয়ের ক্ষতি—তিনটিই আদালতের বিবেচ্য হতে পারে।
বিতর্কের পটভূমিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। নির্বাচন কমিশন অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নেতৃত্বাধীন অংশকে আলাদা নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দিয়েছে; প্রতিদ্বন্দ্বী অংশকে আলাদা নাম ও ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মূল দলের নাম ও জোড়া ফুল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ফলে বর্তমান প্রতীক বণ্টনকে স্থায়ী দলীয় মালিকানার রায় বলা যাবে না।
প্রতীক শুধু ব্যালটের ছবি নয়। বহু ভোটার দল বা প্রার্থীকে প্রতীকের মাধ্যমে শনাক্ত করেন; সাক্ষরতার মাত্রা নির্বিশেষে এটি ভোটদানের ব্যবহারিক সহায়তা। প্রচারপত্র, দেওয়াললিখন ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ এক প্রতীক ধরে এগোনোর পরে বদল হলে বিভ্রান্তির বাস্তব ঝুঁকি থাকে। তবে সেই ঝুঁকি প্রমাণ করতে প্রচারের সময়কাল, কমিশনের আগের আদেশ এবং দলকে দেওয়া নোটিসও দেখা প্রয়োজন।
উপনির্বাচনে প্রতীক ছাপা, ডাকযোগে ভোটের কাগজ প্রস্তুত এবং ভোটযন্ত্রে প্রার্থীর নাম বসানোর প্রশাসনিক সময়সীমাও রয়েছে। আদালত কোনও পরিবর্তন নির্দেশ দিলে কমিশনকে সেই কাজগুলি আবার করতে হতে পারে। তাই দ্রুত শুনানি শুধু রাজনৈতিক সুবিধার প্রশ্ন নয়, নির্বাচন পরিচালনার বাস্তব প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক অসুবিধা দেখিয়ে অন্যায্য বণ্টন বহাল রাখা যায় না। আদালত চাইলে প্রতীক বদল না-করে ভোটারকে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার মতো মধ্যবর্তী প্রতিকারও বিবেচনা করতে পারে; তবে এখনও এমন কোনও নির্দেশ হয়নি।
অন্যদিকে অবাধ প্রতীকের তালিকা থেকে প্রতীক বরাদ্দে কমিশনের প্রশাসনিক স্বাধীনতা দরকার। কোনও অস্বীকৃত দল একবার ব্যবহার করলেই প্রতীক চিরদিনের জন্য আটকে গেলে নতুন প্রার্থী ও দলের সুযোগ কমে যেতে পারে। সমস্যাটি তাই স্থায়ী মালিকানা বনাম কোনও অধিকার নেই—এই দুই চরমের মাঝখানে। একই নির্বাচনী চক্রে আচমকা পুনর্বণ্টন কতটা ন্যায়সঙ্গত, সেটিই নির্দিষ্ট প্রশ্ন।
বিশ্লেষণ: আদালতের সামনে সবচেয়ে কার্যকর পরীক্ষা হতে পারে প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা: সিদ্ধান্তের আগে আইএসএফকে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, একই পরিস্থিতিতে অন্য অস্বীকৃত দলের সঙ্গে একই নিয়ম মানা হয়েছে কি না এবং ভোটারের বিভ্রান্তি কমাতে কী ব্যবস্থা আছে। রাজনৈতিক পরিচিতি নিয়ে বৃহত্তর তৃণমূল-বিরোধ এই ছোট প্রশ্নকে ঢেকে দিলে মামলার মূল হারাবে।
কমিশনের লিখিত জবাব না-আসা পর্যন্ত কার ‘খাম’ বৈধ, সেই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের নয়। আপাতত আদালত কোনও প্রতীক বাতিল করেনি, আইএসএফকেও তা ফিরিয়ে দেয়নি। নিশ্চিত পরিবর্তনটি হল, প্রশাসনিক প্রতীক-বণ্টনের যুক্তি এখন বিচারিক পরীক্ষার মুখে এবং উপনির্বাচনের সময়সূচি সেই পরীক্ষাকে দ্রুততার চাপ দিচ্ছে।
ভোটারদের জন্য কমিশনের চূড়ান্ত প্রার্থী-প্রতীক তালিকাই নির্ভরযোগ্য; দলীয় প্রচারপত্র নয়। পরিবর্তন হলে বুথকর্মীদের নতুন প্রশিক্ষণও দরকার।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



