৪,১৩৩ স্কুলে একজনও ছাত্র নেই

যা জানা জরুরি
- শূন্য ছাত্রভর্তির ৪,১৩৩টি সরকারি বিদ্যালয় চালাতে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারি গ্রহণ করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
- জেলা প্রশাসনকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভবন, অবস্থান, আশপাশের জনসংখ্যা এবং আবার ছাত্র আনার সম্ভাবনা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
- যে ভবন বিদ্যালয় হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়, সেগুলিকে প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য বা অন্য জনপরিষেবায় ব্যবহারের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
শূন্য ছাত্রভর্তির ৪,১৩৩টি সরকারি বিদ্যালয় চালাতে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারি গ্রহণ করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জেলা প্রশাসনকে প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভবন, অবস্থান, আশপাশের জনসংখ্যা এবং আবার ছাত্র আনার সম্ভাবনা যাচাই করতে বলা হয়েছে। যে ভবন বিদ্যালয় হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব নয়, সেগুলিকে প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য বা অন্য জনপরিষেবায় ব্যবহারের কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের ২০২৫–২৬ সালের সমন্বিত জেলা শিক্ষা তথ্যব্যবস্থার হিসাবে রাজ্যের ৪,১৩৩টি বিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র নথিভুক্ত ছিল না, অথচ সেখানে ১৯ হাজার ৫০২ জন শিক্ষক যুক্ত ছিলেন। দেশের মোট ৫,৬৬৩টি শূন্য-ভর্তির বিদ্যালয়ের প্রায় ৭৩ শতাংশই পশ্চিমবঙ্গে। বিপরীত দিকে রাজ্যে ৬,৭৬৯টি বিদ্যালয়ে একজন করে শিক্ষক প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৬৯ ছাত্রছাত্রীকে সামলাচ্ছেন।
‘যুক্ত’ শিক্ষক মানেই প্রতিদিন খালি বিদ্যালয়ে বসে থাকা—এমন সিদ্ধান্ত তথ্যটি থেকে সরাসরি টানা যায় না। কেউ অন্য বিদ্যালয়ে সাময়িক দায়িত্বে, প্রশাসনিক কাজে বা অনুমোদিত বদলির অপেক্ষায় থাকতে পারেন। আবার তথ্য সংগ্রহের নির্দিষ্ট দিনে শূন্য ভর্তি থাকলেও পরে ছাত্র এসেছে কি না, সেটিও জেলা যাচাইয়ে দেখা দরকার। সংখ্যা গুরুতর, তবে ব্যক্তি-শিক্ষককে দায়ী করার আগে পদায়নের নথি প্রয়োজন।
শূন্য ভর্তির কারণ সব জায়গায় একই নয়। গ্রাম থেকে পরিবার স্থানান্তর, জন্মহার কমা, পাশের বিদ্যালয়ের সঙ্গে দূরত্বের পরিবর্তন, বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রসার, বাংলা বা অন্য ভাষার মাধ্যম নিয়ে অভিভাবকের পছন্দ এবং ভবনের দুরবস্থা—সবই ভূমিকা রাখতে পারে। দুর্গম আদিবাসী বা পাহাড়ি এলাকায় মাত্র কয়েকজন শিশুর বিদ্যালয়ও সামাজিকভাবে প্রয়োজনীয় হতে পারে; শুধু ছাত্রপিছু ব্যয়ের অঙ্ক দিয়ে তা বন্ধ করা ঠিক নয়।
সরকারি–বেসরকারি অংশীদারি বলতে বেসরকারি সংস্থা কি শুধু ভবন চালাবে, শিক্ষক নিয়োগ করবে, মাশুল নেবে, না কি নির্দিষ্ট সামাজিক লক্ষ্য পূরণ করবে—এই কাঠামো এখনও প্রকাশ হয়নি। সরকারি জমি ও ভবন বেসরকারি হাতে গেলে মালিকানা, প্রবেশাধিকার, পাঠক্রম, শিক্ষক-চাকরি এবং লাভ করার সীমা আইনগতভাবে নির্দিষ্ট করতে হবে। বিনামূল্যের বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার কোনও পরিচালন চুক্তিতে সংকুচিত হতে পারে না।
শিক্ষকদের ছাত্রবহুল বিদ্যালয়ে বদলি করলে একক-শিক্ষক বিদ্যালয়ের চাপ কমতে পারে। কিন্তু বিষয়, ভাষা, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, যাতায়াত এবং বিদ্যালয়ের অনুমোদিত পদের সঙ্গে মিল না-করলে শুধু সংখ্যাগত বদলি কাজে আসবে না। শিক্ষক সংগঠন ও স্থানীয় অভিভাবকদের শুনানি প্রয়োজন।
৪,১৩৩টি খালি বিদ্যালয় সম্পদের ভয়াবহ অসামঞ্জস্য দেখায়; আবার ৬,৭৬৯টি একক-শিক্ষক বিদ্যালয় বলে দেয়, রাজ্যে মোট শিক্ষক না-থাকা একমাত্র সমস্যা নয়—তাঁরা কোথায় আছেন সেটিও সমস্যা। প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত বিদ্যালয়ভিত্তিক যাচাইকৃত তালিকা, শিক্ষক পদায়ন এবং আশপাশের শিশু-জনসংখ্যা প্রকাশ।
অংশীদারি কোনও জাদুকরী সমাধান নয়। বেসরকারি পরিচালকের প্রণোদনা ছাত্রবহুল বা শহরঘেঁষা বিদ্যালয়ে বেশি; দূরবর্তী দরিদ্র অঞ্চলে কম। বন্ধ, একত্রীকরণ বা বিকল্প ব্যবহার—প্রতিটি সিদ্ধান্তের আগে শিশু কত দূর যাবে, নিরাপদ পরিবহণ আছে কি না এবং মাতৃভাষায় শিক্ষা থাকবে কি না দেখতে হবে। ভবন বাঁচানো নয়, প্রতিটি শিশুর কাছে কার্যকর বিদ্যালয় পৌঁছনোই নীতির মাপকাঠি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



