হাইলাইটস:

  • ২০২৩-এ ত্রিপুরায় দু’টি আসনে লড়ে দু’টিতেই জামানত হারায় এনসিপিআই।
  • তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের ‘মার্জার’-এর পর সেই অচেনা দলই জাতীয় রাজনীতির আলোয়।
  • দলটির প্রতিষ্ঠাতা শিউলি কুণ্ডু; প্রতীক ‘সাত রশ্মিসহ কলমের নিব’।

বাংলাস্ফিয়ার: ত্রিপুরার রাজনীতিতে যে দলের নাম ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কার্যত কেউ মনে রাখেনি, সেই ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই এখন দিল্লির ক্ষমতার অঙ্কে হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আসাদ রহমান ও দেবরাজ দেবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানিয়েছেন, তাঁরা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে আলাদা ব্লক হিসেবে বসতে চান।

এনসিপিআইয়ের রাজনৈতিক ওজন এতদিন ছিল প্রায় অদৃশ্য। নির্বাচন কমিশনের নথিতে এটি ‘নিবন্ধিত কিন্তু অস্বীকৃত’ দল। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় তারা মাত্র দু’টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং দু’টিতেই জামানত হারায়। অর্থাৎ ভোটের ময়দানে দলটির কোনও প্রমাণিত শক্তি নেই; কিন্তু সংসদীয় কৌশলে সেটিই এখন আশ্রয়দল।

এই পদক্ষেপের মূল তাৎপর্য দলবদল-বিরোধী আইনে। দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনও দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ আইনপ্রণেতা অন্য দলে মিশলে তা ‘মার্জার’ হিসেবে দেখানো যায়; তাতে সরাসরি দলত্যাগের অভিযোগ এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির সেই পথেই হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে এনডিএ শিবিরে বসার আবেদন করেছেন।

রাজনৈতিক দিক থেকে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এটি শুধু তৃণমূলের ভাঙন নয়; এটি দেখাচ্ছে, ছোট ও অচেনা দলও কখনও কখনও সংসদীয় আইনের ফাঁকে বড় রাজনৈতিক বাহন হয়ে উঠতে পারে। ভোটে হারা দল দিল্লিতে হঠাৎ ‘সংসদীয় ঠিকানা’ হয়ে গেলে প্রশ্ন উঠবেই—এটি আদর্শগত মিল, না নিছক আইনি রণকৌশল?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের জন্য এই ঘটনা বড় ধাক্কা। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের সংগঠন, বিধানসভা দল ও লোকসভা শিবির—সব স্তরেই বিদ্রোহের খবর সামনে এসেছে। এনসিপিআই অধ্যায় সেই সংকটকে জাতীয় স্তরে দৃশ্যমান করল।

শেষ পর্যন্ত স্পিকারের সিদ্ধান্তই এখানে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট করে দেয় যে, ত্রিপুরায় দুটি আসনে পরাজিত হয়ে একটি নামহীন দল এখন ভারতীয় রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত ‘বিকল্প পথ’ বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।