হাওড়া ব্রিজে প্রেমের আলো!

যা জানা জরুরি
- জন্মদিনে প্রিয়জনকে চমকে দিতে এবার কেক, ফুল কিংবা উপহারের বাইরেও ভাবতে পারেন অন্য কিছু।
- সঙ্গে বাজবে পছন্দের গান কিংবা ভেসে আসবে নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা শুভেচ্ছাবার্তা।
- কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সেতুকে ব্যক্তিগত আনন্দের মুহূর্তের সঙ্গী করে তুলতে এমনই পরিকল্পনা করেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জন্মদিনে প্রিয়জনকে চমকে দিতে এবার কেক, ফুল কিংবা উপহারের বাইরেও ভাবতে পারেন অন্য কিছু। আপনার পছন্দের রঙে সেজে উঠবে হাওড়া ব্রিজ। সঙ্গে বাজবে পছন্দের গান কিংবা ভেসে আসবে নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা শুভেচ্ছাবার্তা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সেতুকে ব্যক্তিগত আনন্দের মুহূর্তের সঙ্গী করে তুলতে এমনই পরিকল্পনা করেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ।
নতুন আলোকসজ্জার পাশাপাশি থাকছে আলো ও শব্দের সমন্বয়ে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন। জন্মদিন, বিয়ে কিংবা বিবাহবার্ষিকী—প্রিয়জনকে অভিনব উপায়ে শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে এই ব্যবস্থায়।
তবে আপাতত পরিকল্পনাই চূড়ান্ত। পরিষেবার জন্য কত টাকা লাগবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে কিংবা কবে থেকে বুকিং শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ঘোষণা হয়নি। ফলে ইচ্ছা থাকলেও এখনই নির্দিষ্ট দিনে এই পরিষেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
আলো আপনার, গানও আপনার
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের পছন্দ অনুযায়ী হাওড়া ব্রিজ সাজানোর জন্য বছরে দশ দিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবেদনকারীরা বেছে নিতে পারবেন আলোর রং। তাঁদের পছন্দের গান অথবা রেকর্ড করা শুভেচ্ছাবার্তা শোনানো হবে মিলেনিয়াম পার্কে। নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও সেই শব্দ শোনার ব্যবস্থা থাকবে।
অর্থাৎ, হুগলির ধারে দাঁড়িয়ে সেতুর আলোর খেলা দেখার পাশাপাশি প্রিয়জনের জন্য বেছে নেওয়া গান বা শুভেচ্ছাবার্তাও উপভোগ করা যাবে।
বছরের আরও ৫০ দিন সংরক্ষিত থাকবে জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন উৎসবের জন্য। সেই দিনগুলিতে ব্যক্তিগত আয়োজনের সুযোগ থাকবে না। স্বাধীনতা দিবসে তেরঙা আলোকসজ্জা কিংবা দুর্গাপুজোয় উৎসবের উপযোগী আলোর সঙ্গে পুজোর গান—এমন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক।
দুর্গাপুজো থেকেই নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত আয়োজনের জন্য কোন দশ দিন নির্দিষ্ট করা হবে, তা পরে চূড়ান্ত হবে।
২২ কোটির আলোর সাজ
হাওড়া ব্রিজের নতুন আলোকসজ্জা প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২২ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।
সেতুর ইস্পাতের কাঠামো, প্রধান স্তম্ভ এবং উপরের অংশ আলাদা করে ফুটিয়ে তুলতে বসানো হয়েছে মোট ৩,৮২৫টি আলোকযন্ত্র। গোটা ব্যবস্থার স্থাপিত ক্ষমতা ৩৮৫ কিলোওয়াট।
এই আলোকসজ্জার বিশেষত্ব, আলো এক জায়গায় স্থির থাকবে না। উপলক্ষ অনুযায়ী বদলাবে রং ও আলোর বিন্যাস। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যুক্ত হবে শব্দ। প্রজাতন্ত্র দিবস, গান্ধী জয়ন্তী, দুর্গাপুজো, দীপাবলি ও হোলির মতো দিনগুলির জন্য আলাদা সাজের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, শহরবাসীর পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও রাতের হাওড়া ব্রিজকে নতুন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা।
ঐতিহ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত আবেগ
বন্দর চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমনের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্যোগটির উদ্দেশ্য শুধু সেতুকে আলোকিত করা নয়; কলকাতার ঐতিহ্যকে নতুনভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা। হাওড়া ব্রিজের সঙ্গে শহর ও দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। আধুনিক আলোকসজ্জার মাধ্যমে সেই পরিচিত স্থাপত্যের সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট করে তোলাই লক্ষ্য।
১৯৪৩ সালে চালু হওয়া হাওড়া ব্রিজ বহু দশক ধরে হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হুগলির উপর দাঁড়িয়ে থাকা তার সুবিশাল ইস্পাতের কাঠামো শহরের পরিচয়েরও অংশ।
এবার সেই চেনা অবয়বেই যুক্ত হতে পারে ব্যক্তিগত উদ্যাপনের ছোঁয়া। তবে আগ্রহী মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা—প্রিয়জনের জন্য হাওড়া ব্রিজ সাজাতে কত খরচ হবে?
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিষেবাটি বিনামূল্যে দেওয়া হবে, না কি টাকা নেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তাই গোটা আলোকসজ্জা প্রকল্পের খরচকে ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা জানানোর সম্ভাব্য মূল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাবে না।
পরিষেবার দিন, আবেদনের পদ্ধতি এবং মূল্য সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা এলেই স্পষ্ট হবে, হাওড়া ব্রিজকে নিজের আনন্দের সঙ্গী করে তোলার এই সুযোগ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে কতটা থাকবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



