সৎকারের টাকাও জমা, নিঃসঙ্গ দুই বোনের শেষ চিঠি

যা জানা জরুরি
- দক্ষিণ গোয়ার কানাকোনায় নিজেদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল দুই বৃদ্ধা বোনের পচনধরা দেহ।
- পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন তাঁরা।
- বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে নিজেদের সৎকারের জন্য ১৫ হাজার টাকারও বেশি জমিয়ে রাখার কথা লেখা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দক্ষিণ গোয়ার কানাকোনায় নিজেদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল দুই বৃদ্ধা বোনের পচনধরা দেহ। দু’জনের বয়স ৭০ ও ৭৩ বছর। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন তাঁরা। বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুটে নিজেদের সৎকারের জন্য ১৫ হাজার টাকারও বেশি জমিয়ে রাখার কথা লেখা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনার আট দিন আগে সরকারি রান্নার গ্যাস প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের এক সদস্য। দুই বোনই একা থাকতেন। সেই সময় তাঁদের এক জন এমন কিছু কথা বলেছিলেন, যা উদ্বেগের কারণ হতে পারত। তবে তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি ওই পঞ্চায়েত সদস্য।
এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়, “এক বোন ওই প্রকল্পের সুবিধা নিতে চাইছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, জীবন নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন, আর বেশি দিন বেঁচে থাকার ইচ্ছা নেই।”
রবিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ পুলিশ খবর পায়, একটি বাড়িতে দুই মহিলার দেহ পড়ে রয়েছে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। কানাকোনা থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, দেহ দু’টিতে ব্যাপক পচন ধরেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই বোনই অবিবাহিত ছিলেন। বহু বছর ধরে তাঁরা একসঙ্গে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন।
চিরকুটে সৎকারের হিসাব
বাড়ির একটি শোওয়ার ঘর থেকে একটি চিরকুট এবং চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত স্পিরিটের বোতল উদ্ধার হয়েছে। চিরকুটটিকে প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যার আগে লেখা বলে মনে করছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, সংক্ষিপ্ত ওই চিরকুটে দুই বোন নিজেদের সৎকারের জন্য ১৫ হাজার টাকারও বেশি জমিয়ে রাখার কথা লিখেছিলেন। সেই টাকা কোথায় রাখা আছে, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পদস্থ পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের অনুমান, প্রায় চার দিন আগে দুই বোন আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের কাছ থেকে সরকারি গ্যাস প্রকল্প নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টি জানা গিয়েছে। ওই প্রকল্পে বছরে তিনটি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
মৃত্যুর কারণ এখনও অজানা
পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে। সুরতহালের পর দেহ দু’টি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। তবে ব্যাপক পচনের কারণে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও মতামত দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওই আধিকারিকের বক্তব্য, “রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। শেষকৃত্যের জন্য দেহ দু’টি পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।”
তদন্তের মাধ্যমে দুই বোনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



