‘অস্বস্তিকর’ প্রস্তাবেই থমকে গিয়েছিলেন বিজয় বর্মা, সংগ্রামের দিনে কাস্টিং কাউচের তিক্ত অভিজ্ঞতা

যা জানা জরুরি
- বলিউডে নিজের অভিনয়শৈলীর জোরে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন বিজয় বর্মা।
- ‘গলি বয়’, ‘ডার্লিংস’ থেকে ‘দাহাড়’—একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে দর্শক ও সমালোচকদের।
- অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে কাস্টিং কাউচের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকেও।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বলিউডে নিজের অভিনয়শৈলীর জোরে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন বিজয় বর্মা। ‘গলি বয়’, ‘ডার্লিংস’ থেকে ‘দাহাড়’—একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছে দর্শক ও সমালোচকদের। কিন্তু এই সাফল্যের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে কাস্টিং কাউচের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকেও।
সম্প্রতি প্রখ্যাত ইউটিউবার প্রখর গুপ্তার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় সেই কঠিন সময়ের কথা খোলসা করেছেন বিজয়।
মডেলিংয়ের শুরুতেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা
অভিনয়ে পা রাখার আগে হায়দরাবাদে অল্প সময়ের জন্য মডেলিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন বিজয়। সেই সময় এক মডেল কো-অর্ডিনেটরের আচরণ তাঁকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে।
অভিনেতার কথায়, তিনি তখন একেবারেই ছোট পরিসরে, অপেশাদার পর্যায়ে মডেলিং করছিলেন। সেই সময় এক মডেল কো-অর্ডিনেটর তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ শুরু করেন। বারবার অকারণে গা-ঘেঁষে আসার চেষ্টা করছিলেন ওই ব্যক্তি।
বিজয় জানান, তিনি সরাসরি প্রতিবাদ করে প্রশ্ন করেছিলেন, “এ কী করছেন? এটা কী ধরনের আচরণ?”
ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। নতুন হিসেবে এমন অভিজ্ঞতা যে কতটা আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে, তা বুঝেছিলেন বিজয় নিজেই।
তাঁর কথায়, “যখন আপনি নতুন থাকেন, তখন এমন অভিজ্ঞতা খুব দ্রুত আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেয়।”
শেষ পর্যন্ত সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে নিজের পথ নিয়ে আরও দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। বিজয় ঠিক করেন, মডেলিং নয়, অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেবেন।
অভিনয় শেখার পথেও বাধা
অভিনয়ের জগতে ঢোকার সিদ্ধান্ত নিলেও পথটা সহজ হয়নি। হায়দরাবাদের ‘সূত্রধার স্কুল অব অ্যাক্টিং’-এ ভর্তি হয়ে অভিনয় শেখার ইচ্ছা ছিল বিজয়ের। কিন্তু সেখানেও প্রথম ধাক্কা খান তিনি।
বিজয়ের কথায়, “আমি গিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, আমি অভিনয় শিখতে চাই। কিন্তু ওরা বলল, এর জন্য নিষ্ঠা আর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দরকার। দু’দিন শিখে ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয়। আমাকে সুযোগই দেওয়া হয়নি।”
তবে একবার প্রত্যাখ্যাত হয়েই থেমে যাননি তিনি। এরপর পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-এ আবেদন করেন। প্রথম প্রচেষ্টায় সফল না হলেও দ্বিতীয়বার সুযোগ পান বিজয়।
এফটিআইআই-তেই তাঁর সহপাঠী ছিলেন রাজকুমার রাও এবং জয়দীপ আহলাওয়াতের মতো অভিনেতারা। সেই প্রশিক্ষণই পরবর্তী সময়ে তাঁর অভিনয়জীবনের ভিত আরও শক্ত করে।
একের পর এক চরিত্রে নিজের জায়গা পাকা
সংগ্রামের সেই দিন পেরিয়ে আজ বিজয় বর্মা বলিউডের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা। ‘গলি বয়’, ‘ডার্লিংস’ এবং ‘দাহাড়’-এর মতো ছবিতে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি।
কাজের ক্ষেত্রে তাঁকে শেষবার দেখা গিয়েছিল বিভূ পুরী পরিচালিত ‘গুস্তাখ ইশক’ ছবিতে। ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন নাসিরুদ্দিন শাহ, ফাতিমা সানা শেখ এবং শরিব হাশমি। ছবিটি ফ্যাশন ডিজাইনার মণীশ মালহোত্রার প্রযোজক হিসেবে অভিষেকও।
সম্প্রতি ‘মাটকা কিং’ ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে বিজয়কে। সিরিজে এক সাধারণ তুলা ব্যবসায়ীর ধীরে ধীরে জুয়া দুনিয়ার প্রভাবশালী ডনে পরিণত হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
মডেলিংয়ের জগতে অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা থেকে অভিনয় শেখার সুযোগ না পাওয়া—বারবার বাধা এসেছে। কিন্তু প্রতিটি ধাক্কাকে পিছনে ফেলে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন বিজয় বর্মা। তাঁর এই যাত্রাই যেন প্রমাণ করে, শুরুর প্রত্যাখ্যান শেষ কথা নয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



