ছয়শো কোটি ডলার, ভাগ চাইছে ২১১ দেশ

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের অর্থ কোথায় জমবে এবং কে তা খরচ করবে—এই প্রশ্ন ঘিরে ফিফার শীর্ষপর্যায়ে প্রকাশ্য ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়েছে।
- ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দর চেফেরিন এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টালিয়ানি ফিফার আর্থিক সঞ্চয়ের স্বাধীন পর্যালোচনা চেয়েছেন।
- তাঁদের প্রস্তাব, ২০২৭–৩০ চক্রে ২১১টি সদস্য দেশকে অন্তত এক কোটি ডলার করে অতিরিক্ত দেওয়া হোক।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের অর্থ কোথায় জমবে এবং কে তা খরচ করবে—এই প্রশ্ন ঘিরে ফিফার শীর্ষপর্যায়ে প্রকাশ্য ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেকসান্দর চেফেরিন এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টালিয়ানি ফিফার আর্থিক সঞ্চয়ের স্বাধীন পর্যালোচনা চেয়েছেন। তাঁদের প্রস্তাব, ২০২৭–৩০ চক্রে ২১১টি সদস্য দেশকে অন্তত এক কোটি ডলার করে অতিরিক্ত দেওয়া হোক।
মোট প্রস্তাবিত বণ্টন ২১০ কোটি ডলার। এটি বর্তমানে চলা ফিফা ফরওয়ার্ড উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থের অতিরিক্ত হবে। দুই কর্তার যুক্তি, ২০২৩–২৬ আর্থিক চক্র শেষে ফিফার সঞ্চয় প্রায় ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে—সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অতএব মাঠ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, মহিলা ও যুব ফুটবল এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার জন্য সদস্য দেশগুলিকে আরও অর্থ দেওয়া সম্ভব।
চেফেরিন ও মন্টালিয়ানি দু’জনেই ফিফার সহ-সভাপতি। ফলে চিঠিটি বাইরের সমালোচকের নয়; পরিচালনা-কাঠামোর ভিতর থেকেই বর্তমান অর্থনৈতিক নীতির বিরোধিতা। তাঁরা অন্য মহাদেশীয় সংস্থার সভাপতিদেরও সমর্থন চাইছেন এবং পরবর্তী সুপারিশের আগে স্বাধীন আর্থিক বিশ্লেষণের দাবি জানিয়েছেন।
বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে বাতিল হয়ে যাওয়া ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ফিফার প্রতিযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্পদের একটি কাঠামোয় বাইরের বিনিয়োগ আনা এবং উন্নয়নের অর্থ বাড়ানো। বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, বিপুল নিজস্ব সঞ্চয় থাকলে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অধিকার বা অংশীদারি বাইরের বিনিয়োগকারীর কাছে দেওয়ার প্রয়োজন কী।
পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত এগোয়নি। কিন্তু তার আর্থিক যুক্তি, মূল্যনির্ধারণ এবং অনুমোদন-প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। চেফেরিন–মন্টালিয়ানি শিবির বলছে, ফিফার সঞ্চয়ের প্রকৃত প্রয়োজন, ঝুঁকি এবং সদস্যদের মধ্যে সম্ভাব্য বণ্টন স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা দরকার। ফিফা এখনও নতুন প্রস্তাবের বিস্তারিত জবাব দেয়নি।
এক কোটি ডলার সব দেশের জন্য একই অঙ্ক হলেও তার প্রভাব সমান হবে না। ইউরোপের বড় ফুটবল অর্থনীতির কাছে এটি তুলনামূলক ছোট; দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ বা ক্যারিবীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্র সংস্থার কাছে কয়েকটি মাঠ ও দীর্ঘমেয়াদি যুব কর্মসূচির অর্থ হতে পারে। আবার দুর্বল প্রশাসনে একই অর্থ অপচয়, রাজনৈতিক আনুগত্য কেনা বা স্বচ্ছতাহীন নির্মাণে হারিয়েও যেতে পারে।
প্রস্তাবটি এখনও অনুমোদিত সিদ্ধান্ত নয়। অর্থ বিতরণের সময়, শর্ত, নিরীক্ষা কিংবা প্রকল্প নির্বাচন—কোনওটিই চূড়ান্ত হয়নি। ১৫ অক্টোবরের ফিফা কাউন্সিল বৈঠকে বিষয়টি তোলার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষণ: সদস্য দেশকে বেশি অর্থ দেওয়া নিজে সুশাসনের প্রমাণ নয়। ফিফার অতীত দেখিয়েছে, কেন্দ্রীয় অনুদান স্থানীয় ফুটবলের উন্নয়ন যেমন করতে পারে, তেমনই দুর্বল নজরদারিতে কর্তাদের ক্ষমতা দৃঢ় করার উপকরণও হতে পারে। প্রতিটি প্রকল্প, সুবিধাভোগী, দরপত্র এবং কাজ শেষ হওয়ার প্রমাণ প্রকাশ না-হলে অঙ্ক বড় হওয়াই যথেষ্ট নয়।
অন্যদিকে ছয়শো কোটি ডলার সঞ্চয় করাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্বশীলতা নয়। অলাভজনক বিশ্ব ক্রীড়া সংস্থার অর্থ শেষ পর্যন্ত খেলাটির উন্নয়নে ব্যবহার হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় জরুরি সঞ্চয় কত এবং অতিরিক্ত অংশ কত—স্বাধীন পর্যালোচনার মূল প্রশ্ন সেটিই। বর্তমান বিরোধ অর্থ ভাগের পাশাপাশি ফিফার উপর নিয়ন্ত্রণ কার থাকবে, সেই রাজনৈতিক লড়াইও।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



