এক রাতের ক্লান্তিতে থামল দশকের স্বপ্ন

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: প্রথম দিনের তিন ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের লড়াই এবং দ্বিতীয় দিনের মাত্র ৬৮ মিনিটের পরাজয়—দুটি ম্যাচের ব্যবধানেই ভারতের ডেভিস কাপ অভিযান শেষ হল।
- সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ১–৩ ব্যবধানে হেরে ফাইনাল এইটে ওঠার সুযোগ হারাল ভারত।
- উল্টো দিকে, প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবার ডেভিস কাপের শেষ আটে জায়গা করে নিল দক্ষিণ কোরিয়া।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: প্রথম দিনের তিন ঘণ্টা পাঁচ মিনিটের লড়াই এবং দ্বিতীয় দিনের মাত্র ৬৮ মিনিটের পরাজয়—দুটি ম্যাচের ব্যবধানেই ভারতের ডেভিস কাপ অভিযান শেষ হল। সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ১–৩ ব্যবধানে হেরে ফাইনাল এইটে ওঠার সুযোগ হারাল ভারত। উল্টো দিকে, প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবার ডেভিস কাপের শেষ আটে জায়গা করে নিল দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রথম দিন ভারত দুটি একক ম্যাচেই প্রথম সেট জিতেছিল। ধক্ষিণেশ্বর সুরেশ কোরিয়ার এক নম্বর খেলোয়াড় সুনউ কনের বিরুদ্ধে ৬–৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু কন ফেরার অবস্থান বদলে সুরেশের সার্ভ দ্রুত নিতে শুরু করেন। পরের দুটি সেট ৬–৩, ৬–৪ জিতে কোরিয়াকে প্রথম পয়েন্ট দেন তিনি।
সুমিত নাগালের ম্যাচটি আরও কঠিন ছিল। হিয়ন চাংয়ের বিরুদ্ধে নাগাল প্রথম সেট ৬–২ জেতেন এবং দ্বিতীয় সেটেও ৪–৩ ব্যবধানে সার্ভ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেখান থেকেই ম্যাচ ঘুরে যায়। চাং ৬–৪ ব্যবধানে দ্বিতীয় সেট নেন; সিদ্ধান্তমূলক সেটে দীর্ঘ র্যালি ও বারবার পালাবদলের পরে ৭–৫-এ জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচটি চলে তিন ঘণ্টা পাঁচ মিনিট।
দ্বিতীয় দিন এন শ্রীরাম বালাজি ও সুরেশ ভারতকে প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনেন। জিসুং নাম ও উইসুং পার্ককে ৬–৩, ৩–৬, ৬–৩ হারিয়ে ব্যবধান ১–২ করেন তাঁরা। প্রথম দিনের একক খেলার পরেও সুরেশকে দ্বৈতে নামানোর সিদ্ধান্ত কাজে লাগে; শেষ পর্যায়ে তাঁর পরপর দুটি জয়ী শট ম্যাচটি ভারতের হাতে দেয়।
কিন্তু প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। প্রথম দিনের দীর্ঘ ম্যাচের পরে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের সময় না-পাওয়া নাগালকে বিপরীত এককে কনের বিরুদ্ধে নামতে হয়। কোরীয় খেলোয়াড় শুরু থেকেই বেসলাইন নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রথম সেটে নাগাল মাত্র একবার সার্ভ ধরে রাখতে পারেন। দ্বিতীয় সেটে ১–১ অবস্থায় বিরতির সুযোগ তৈরি করলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। কন ৬–১, ৬–২ জিতে কোরিয়ার ঐতিহাসিক যোগ্যতা নিশ্চিত করেন।
ভারতের পরাজয়টি শুধু শেষ ম্যাচের নয়। প্রথম দিনের দুটি এককে এগিয়ে গিয়েও ম্যাচ শেষ করতে না-পারা পুরো দ্বৈরথের গতিপথ ঠিক করে দেয়। ধীর ও নিচু বাউন্সের কোর্টে কোরীয় খেলোয়াড়েরা রিটার্নের অবস্থান এবং র্যালির দৈর্ঘ্য বদলেছেন; ভারতীয়রা সেই কৌশলগত পরিবর্তনের পরে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।
ভারত নতুন ব্যবস্থায় প্রথমবার ফাইনাল এইটে ওঠার চেষ্টা করছিল। এর আগে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সিউলে পৌঁছেছিল দলটি। এখন ২০২৭ সালে আবার প্রথম যোগ্যতা পর্ব থেকে অভিযান শুরু করতে হবে।
বিশ্লেষণ: নাগালের শেষ ম্যাচকে ইচ্ছাশক্তির অভাব হিসেবে দেখানো অন্যায্য। আগের সন্ধ্যায় তিন ঘণ্টার বেশি খেলার পরে শরীরের পুনরুদ্ধার, ঘুম ও প্রস্তুতির সীমা ছিল। তবে ডেভিস কাপের দল নির্বাচনেই এই পরিস্থিতির হিসাব থাকা প্রয়োজন। একক বিভাগে প্রথম সারির দুই বা তিনজন সমমানের খেলোয়াড় না-থাকলে একজনের ক্লান্তি পুরো দলের সীমাবদ্ধতা হয়ে ওঠে।
দ্বৈতে ভারতের শক্তি আবার প্রমাণিত হয়েছে। সমস্যা এককে ম্যাচ শেষ করার ক্ষমতা ও বিকল্পের গভীরতায়। কোরিয়ার জয় ঘরের মাঠের সুবিধা মাত্র নয়; তারা ম্যাচ চলাকালীন ভারতীয়দের দুর্বলতা বুঝে পরিবর্তন করেছে। ভারত সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু কোরিয়াই সুযোগগুলিকে ইতিহাসে বদলেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



