বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

চাঁদে নতুন গর্তের চার পাশে শীতল বলয়

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মের মধ্যে কোনও এক সময়ে তিন থেকে ছয়তলা বাড়ির সমান একটি গ্রহাণু বা ধূমকেতুর অংশ চাঁদের পূর্ব…
  • দেড় বছর পরে পুরনো ও নতুন মানচিত্র তুলনা করতে গিয়ে নাসার বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার তার চিহ্ন খুঁজে পান।
  • নতুন গর্তটির নাম দেওয়া হয়েছে ম্যাকগেচিন—চন্দ্রবিজ্ঞানী টম ম্যাকগেচিনের স্মরণে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মের মধ্যে কোনও এক সময়ে তিন থেকে ছয়তলা বাড়ির সমান একটি গ্রহাণু বা ধূমকেতুর অংশ চাঁদের পূর্ব প্রান্তে আঘাত করেছিল। সংঘর্ষটি পৃথিবী থেকে দেখা হয়নি। দেড় বছর পরে পুরনো ও নতুন মানচিত্র তুলনা করতে গিয়ে নাসার বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার তার চিহ্ন খুঁজে পান।

নতুন গর্তটির নাম দেওয়া হয়েছে ম্যাকগেচিন—চন্দ্রবিজ্ঞানী টম ম্যাকগেচিনের স্মরণে। প্রস্থ প্রায় ২২২ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ৪৩ মিটার। নাসার লুনার রিকনেসান্স অরবিটার দিয়ে শনাক্ত নতুন গর্তগুলির মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত দুটি গবেষণায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এবং তাপমাত্রাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর ওয়াগনার প্রশস্ত-কোণ ক্যামেরার কয়েকশো পুরনো ও নতুন ছবি স্তরে বসিয়ে পরিবর্তন খুঁজছিলেন। সফ্টওয়্যার অপরিবর্তিত অংশ ধূসর এবং পরিবর্তিত অংশ উজ্জ্বল বা অন্ধকার দেখায়। আলো ও ছায়ার সামান্য হেরফেরও বহু ভুয়ো সংকেত তৈরি করে, তাই মানুষের চোখে প্রতিটি প্রার্থী যাচাই করতে হয়। ম্যাকগেচিনের চারদিকে ছড়িয়ে পড়া পদার্থের বিশাল উজ্জ্বল ছাপ সেই ভিড়ের মধ্যে আলাদা হয়ে ওঠে।

পরে অরবিটারের সরু-কোণ ক্যামেরা দিয়ে প্রতি পিক্সেলে প্রায় এক মিটার রেজোলিউশনের ছবি নেওয়া হয়। সেগুলি গর্তের আকার, গভীরতা ও চারদিকে ছিটকে যাওয়া চন্দ্রধূলির বিস্তার দেখায়। নাসার হিসাবে এমন আকারের সংঘর্ষ চাঁদে গড়ে এক শতাব্দী বা তারও বেশি ব্যবধানে ঘটে। তবে এটি গড় সম্ভাবনা; পরবর্তী সংঘর্ষ ঠিক একশো বছর পরে হবে, এমন সময়সূচি নয়।

আরও বিস্ময়কর ফল দিয়েছে ডিভাইনার তাপযন্ত্র। গর্তের চারদিকে প্রায় ৬.৪ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি অঞ্চল চন্দ্ররাতে আশপাশের তুলনায় প্রায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঠান্ডা। আঘাতে উপরিভাগের রেগোলিথ বা ভাঙা ধুলোপাথর আলগা হয়ে তার ঘনত্ব ও তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কমেছে। দৃশ্যমান গর্তের বহু বাইরে পর্যন্ত সংঘর্ষ মাটির ভৌত আচরণ বদলে দিয়েছে।

লুনার রিকনেসান্স অরবিটার ১৭ বছরের বেশি সময়ে অন্তত এক হাজার নতুন দৃশ্যমান গর্ত এবং প্রায় এক লাখ পৃষ্ঠ-পরিবর্তন শনাক্ত করেছে। ছোট আঘাত আরও ঘন ঘন ঘটে; অধিকাংশই দূর থেকে দেখা যায় না।

বিশ্লেষণ: ম্যাকগেচিন আবিষ্কার চাঁদকে অপরিবর্তনীয় মৃত ভূদৃশ্য ভাবার ভুল ভাঙায়। বায়ুমণ্ডল না-থাকায় মহাজাগতিক পাথর গতি না-হারিয়েই মাটিতে পৌঁছয়। ভবিষ্যৎ ঘাঁটি, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও চলাচলের পথ পরিকল্পনায় বড় সংঘর্ষ বিরল হলেও ছোট আঘাত এবং দূরে ছড়িয়ে পড়া ধুলোর ঝুঁকি ধরতে হবে।

‘শতাব্দীতে একবার’ কথাটি নজরকাড়া, কিন্তু বর্তমান পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভরশীল পরিসংখ্যান। অতীতে অদেখা গর্তের সংখ্যা ও আঘাতকারী বস্তুর আকারের হিসাব সংশোধিত হলে হারও বদলাতে পারে। সবচেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা হল, গর্তের কিনারা নয়—তার বহু দূরের বদলে যাওয়া মাটিকেও ঝুঁকির অঞ্চলে ধরতে হবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles