টি রেক্সের তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৬ ডিগ্রি

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ছয় কোটি ষাট লাখ বছরের পুরনো দাঁতের এনামেল থেকে টিরানোসরাস রেক্স-এর শরীরের তাপমাত্রা মেপেছেন গবেষকেরা।
- ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় লস অ্যাঞ্জেলেসের নেতৃত্বে করা পরীক্ষায় প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ফল পাওয়া গেছে—আধুনিক মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি, অধিকাংশ বর্তমান সরীসৃপের চেয়ে বেশি এবং…
- গবেষণাটি ১৬ সেপ্টেম্বর সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত হয়; ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ছয় কোটি ষাট লাখ বছরের পুরনো দাঁতের এনামেল থেকে টিরানোসরাস রেক্স-এর শরীরের তাপমাত্রা মেপেছেন গবেষকেরা। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় লস অ্যাঞ্জেলেসের নেতৃত্বে করা পরীক্ষায় প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ফল পাওয়া গেছে—আধুনিক মানুষের স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি, অধিকাংশ বর্তমান সরীসৃপের চেয়ে বেশি এবং বহু পাখির চেয়ে কম।
গবেষণাটি ১৬ সেপ্টেম্বর সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত হয়; ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসে। নমুনা নেওয়া হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহশালায় রাখা ‘টমাস’ নামের টি রেক্সের দুটি দাঁত থেকে। মন্টানার হেল ক্রিক অঞ্চলে পাওয়া টমাস ওই সংগ্রহশালার তুলনামূলক সম্পূর্ণ টি রেক্স কঙ্কালগুলির একটি।
তাপমাত্রা মাপতে দাঁতের এনামেলে কার্বন ও অক্সিজেনের বিরল আইসোটোপ কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই বন্ধন তৈরির হার তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। অপেক্ষাকৃত ঠান্ডায় এমন যুগল বেশি এবং উষ্ণতায় কম তৈরি হয়। দাঁতের গুঁড়ো ফসফরিক অ্যাসিডে দ্রবীভূত করে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডের আইসোটোপ অনুপাত ভর-বর্ণালিমাপক যন্ত্রে মাপা হয়।
এক দশক আগে একই ধরনের ‘জীবাশ্ম তাপমাপক’ ব্যবহার করতে অনেক বেশি নমুনা নষ্ট করতে হত। নতুন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় জীবাশ্মের পরিমাণ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে। সেই কারণেই সংগ্রহশালা বিরল দাঁতের ছোট অংশ কাটার অনুমতি দিয়েছে। পরীক্ষাটি ধ্বংসাত্মক—কাটা অংশ ফিরিয়ে দেওয়া যায় না—তাই জ্ঞানের সম্ভাব্য লাভ ও সংগ্রহের স্থায়ী ক্ষতি আলাদা করে বিবেচনা করা হয়েছে।
একই ভূস্তর থেকে পাওয়া প্রাচীন কুমিরজাতীয় প্রাণীর জীবাশ্ম নিয়ন্ত্রণ হিসেবে পরীক্ষা করা হয়। তার আনুমানিক তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই পরিবেশে দীর্ঘদিন থাকার কারণে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন দুই নমুনার রাসায়নিক সংকেত একইভাবে বদলে দিলে এত বড় পার্থক্য প্রত্যাশিত ছিল না। এই তুলনা টি রেক্সের সংকেতটি জীবদ্দশার তাপমাত্রা বহন করছে—সেই ব্যাখ্যাকে শক্ত করেছে।
ফলটি টি রেক্সকে মানুষের মতো স্তন্যপায়ী বানায় না। প্রাণীটি ডিম পাড়ত এবং সরীসৃপীয় বৈশিষ্ট্য ছিল। তবে নিজে তাপ উৎপাদন ও ধরে রাখার ক্ষমতা তাকে সক্রিয় থাকতে এবং শীতল অঞ্চলে বসবাস করতে সাহায্য করে থাকতে পারে। ক্রিটেশাস যুগের আলাস্কায় টি রেক্সের আত্মীয়দের জীবাশ্ম পাওয়া গেলেও কুমির, কচ্ছপ ও গিরগিটির জীবাশ্মের অনুপস্থিতি এই ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিশ্লেষণ: দুটি দাঁত থেকে একটি প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা পাওয়া গোটা প্রজাতির সব বয়স, ঋতু ও অঞ্চলের স্থির মান নয়। প্রাণীর আকারও তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে; তাই ৩৬ ডিগ্রি মানেই আধুনিক স্তন্যপায়ীর মতো সম্পূর্ণ বিপাকীয় ব্যবস্থা—এমন সিদ্ধান্ত অতিরঞ্জিত হবে।
তবু এটি আচরণ অনুমানের বদলে শরীর থেকে পাওয়া প্রত্যক্ষ রাসায়নিক প্রমাণ। আরও টি রেক্স, কমবয়সী প্রাণী ও অন্য ডাইনোসরের দাঁত পরীক্ষা করলে বোঝা যাবে তাপমাত্রাটি প্রজাতিগত নিয়ম, বিশাল দেহের ফল, না দুটির সম্মিলন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



