প্রাচীন ডিএনএ-তে প্লেগের ফেরার পথ

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ১৩৪৭ থেকে ১৩৫৩ সালের ব্ল্যাক ডেথ ইউরোপের জনজীবন ধ্বংস করেছিল।
- কিন্তু প্রথম মহামারি-ঢেউ সরে যাওয়ার পরে প্লেগ উধাও হয়নি।
- পরবর্তী চার শতকেরও বেশি সময় ধরে রোগটি কেন বারবার ফিরেছিল, প্রাচীন জীবাণুর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে তার আরও সূক্ষ্ম কালপঞ্জি তৈরি করেছেন তার্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ১৩৪৭ থেকে ১৩৫৩ সালের ব্ল্যাক ডেথ ইউরোপের জনজীবন ধ্বংস করেছিল। কিন্তু প্রথম মহামারি-ঢেউ সরে যাওয়ার পরে প্লেগ উধাও হয়নি। পরবর্তী চার শতকেরও বেশি সময় ধরে রোগটি কেন বারবার ফিরেছিল, প্রাচীন জীবাণুর ডিএনএ বিশ্লেষণ করে তার আরও সূক্ষ্ম কালপঞ্জি তৈরি করেছেন তার্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বাধীন গবেষকেরা।
২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গবেষণা-পরিচিতির আগে মূল নিবন্ধটি ৯ সেপ্টেম্বর প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত হয়। দলটি এস্তোনিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও সুইৎজারল্যান্ডের ১১টি প্রত্নস্থল থেকে পাওয়া মানুষের দেহাবশেষ পরীক্ষা করেছে। চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ শতকের নমুনা থেকে প্লেগের জীবাণু ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস-এর ২৬টি জিনোম পুনর্গঠন করা হয়েছে।
আগেও শতাধিক প্রাচীন প্লেগ-জিনোম পাওয়া গিয়েছিল। নতুন কাজটির বিশেষত্ব শুধু আরও নমুনা যোগ করা নয়। গবেষকেরা জীবাণুর জিনগত পরিবর্তনের কাল নির্ধারণের পদ্ধতি পরিমার্জন করেছেন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক তারিখ, কার্বন-তারিখ ও লিখিত মহামারি-নথির সঙ্গে ফল মিলিয়েছেন। এতে কোনও নমুনা সম্ভাব্য কোন প্রাদুর্ভাবের অংশ ছিল, তা আগের তুলনায় নির্দিষ্টভাবে বিচার করা সম্ভব হয়েছে।
ফল বলছে, ব্ল্যাক ডেথের পরে ইউরোপের একটিমাত্র স্থায়ী উৎস থেকে প্রতিবার জীবাণু ছড়িয়েছে—এমন সরল ছবি যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন সময়ে রোগটি নতুন অঞ্চলে পৌঁছেছে, কিছু শাখা ছড়িয়ে পড়েছে এবং সম্ভাব্যভাবে একাধিক স্থানীয় প্রাণী-ভাণ্ডার তৈরি করেছে। এস্তোনিয়ায় জীবাণুটি বহুবার আলাদা পথে প্রবেশ করেছিল। বাণিজ্য, মানুষের স্থানান্তর ও যুদ্ধের পথ রোগের ভৌগোলিক চলাচলেও ভূমিকা রেখেছে বলে জিনগত ও ঐতিহাসিক প্রমাণের মিল ইঙ্গিত করে।
১৪৫০ থেকে ১৫০০ সালের মধ্যে প্লেগের বংশবৃক্ষ দ্রুত প্রসারিত হয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ভাগ হয়েছিল। গবেষকদের ধারণা, এই পর্যায়ে বন্য ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মধ্যে নতুন সংরক্ষণ-ভাণ্ডার প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকতে পারে। একই সময়ে ‘গ্রেট রেনেসাঁ ড্রট’ নামে পরিচিত দীর্ঘ শুষ্ক পর্ব প্রাণীর জনসংখ্যা ও পরজীবীবাহী মাছির পরিবেশ বদলে থাকতে পারে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট খরা সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট মহামারি ঘটিয়েছে—গবেষণাটি তা প্রমাণ করেনি। জলবায়ু, প্রাণীর ভাণ্ডার, জনচলাচল ও শহরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য চালক।
বিশ্লেষণ: প্রাচীন ডিএনএ অতীত মহামারির শক্তিশালী দলিল, কিন্তু অসম্পূর্ণ দলিল। যেসব কবরস্থানে নমুনা টিকে আছে এবং গবেষকেরা প্রবেশ পেয়েছেন, মানচিত্রে সেসব অঞ্চলই বেশি দৃশ্যমান। কোনও এলাকায় জীবাণুর জিনোম না-পাওয়া মানে সেখানে প্লেগ ছিল না—এমন নয়।
নতুন কালপঞ্জি দেখায়, সংক্রামক রোগের ‘শেষ’ সবসময় জীবাণুর বিলুপ্তি নয়। মানুষের মধ্যে বড় ঢেউ থামলেও প্রাণীর ভাণ্ডারে জীবাণু থেকে যেতে পারে এবং চলাচলের নতুন পথে ফিরতে পারে। বর্তমানে ইউরোপে প্লেগ বড় জনস্বাস্থ্য-ঝুঁকি নয়, কিন্তু পৃথিবীর কয়েকটি অঞ্চলের বন্য প্রাণীতে জীবাণুটি এখনও আছে। তাই গবেষণার প্রাসঙ্গিকতা আতঙ্কে নয়—রোগ কীভাবে স্থানীয় হয়ে শতাব্দী ধরে টিকে থাকে, তা বোঝায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



