জম্বি ফিরল, পিটও

যা জানা জরুরি
- ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’-এর ক্ষেত্রেও কথাটা বেশ খাটছে!
- ২০১৩ সালের ছবির পর দীর্ঘ তেরো বছর অপেক্ষা শেষে অবশেষে এগোচ্ছে তার দ্বিতীয় পর্বের কাজ।
- ব্র্যাড পিট ফিরছেন গেরি লেনের চরিত্রে, আর পরিচালকের আসনে আসছেন এডওয়ার্ড বার্গার।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জম্বিরা নাকি মরেও মরে না। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’-এর ক্ষেত্রেও কথাটা বেশ খাটছে! ২০১৩ সালের ছবির পর দীর্ঘ তেরো বছর অপেক্ষা শেষে অবশেষে এগোচ্ছে তার দ্বিতীয় পর্বের কাজ। ব্র্যাড পিট ফিরছেন গেরি লেনের চরিত্রে, আর পরিচালকের আসনে আসছেন এডওয়ার্ড বার্গার। ‘অল কোয়ায়েট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ ও ‘কনক্লেভ’-এর মতো ছবির জন্য পরিচিত এই নির্মাতার হাতে জম্বি-বিপর্যয় কেমন রূপ নেয়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
প্যারামাউন্টের এই প্রকল্পের নতুন অগ্রগতি নিয়ে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পিটের সঙ্গে চিত্রনাট্যের দায়িত্বে থাকছেন ডেনিস কেলি। নিজের প্রযোজনা সংস্থা প্ল্যান বি-র মাধ্যমে প্রযোজনাতেও থাকছেন পিট। তাঁর সঙ্গে প্রযোজনায় রয়েছেন ডিডি গার্ডনার ও জেরেমি ক্লাইনার।
তবে আপাতত একটা ছোট্ট কিন্তু জরুরি কথা—ছবির কাজ এগোচ্ছে মানেই শুটিং শুরু হয়ে গিয়েছে, এমন নয়। নতুন গল্পের বিস্তারিত, অন্য অভিনয়শিল্পীদের নাম, বাজেট কিংবা মুক্তির তারিখ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। অর্থাৎ জম্বিরা ফিরে আসার রাস্তা ধরেছে, কিন্তু এখনও সেটে পৌঁছয়নি।
প্রথম ছবিতে ব্র্যাড পিট ছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রাক্তন কর্মী গেরি লেন। আচমকা ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ সংক্রমণে মানুষ পরিণত হচ্ছিল হিংস্র জম্বিতে। সংক্রমণের উৎস এবং তা ঠেকানোর উপায় খুঁজতে গেরিকে ছুটতে হয়েছিল এক দেশ থেকে আর এক দেশে। এক দিকে পরিবারের নিরাপত্তা, অন্য দিকে গোটা পৃথিবীর বিপর্যয়—দুই দায়িত্বই এসে পড়েছিল তাঁর কাঁধে।
ম্যাক্স ব্রুকসের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি প্রথম ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন মার্ক ফর্স্টার। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় হয়েছিল ৫৪ কোটি ডলারেরও বেশি। তবু দ্বিতীয় পর্বের রাস্তা মসৃণ ছিল না।
একসময় ডেভিড ফিঞ্চারের পরিচালনায় ব্র্যাড পিটকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা হয়েছিল। ২০১৯ সালে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। চলতি বছরের এপ্রিলে প্যারামাউন্ট নতুন করে প্রকল্পটি এগোনোর কথা জানায়। তখন পরিচালক ও অভিনেতার নাম স্পষ্ট হয়নি। এবার সেই ধোঁয়াশার বড় অংশ কেটেছে—পিট আছেন, বার্গার আছেন, চিত্রনাট্যে ডেনিস কেলিও।
বার্গার ও পিটের এটিই অবশ্য প্রথম কাজ নয়। ‘দ্য রাইডার্স’-এ তাঁরা ইতিমধ্যে একসঙ্গে কাজ করেছেন। সেই সহযোগিতার পরেই নতুন ছবির আলোচনা এগোয় বলে ডেডলাইনের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’। প্যারামাউন্টের নতুন নেতৃত্বও প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্গার নির্বাহী প্রযোজনার দায়িত্বেও থাকবেন।
দ্বিতীয় ছবির এত দেরির পিছনে অবশ্য শুধু সৃজনশীল সিদ্ধান্ত ছিল না। বড় আকারের বিপর্যয়, বিভিন্ন জায়গায় কাহিনির বিস্তার এবং ব্যাপক ভিজ্যুয়াল এফেক্ট—সব মিলিয়ে এমন ছবির বাজেটও বড় হয়। আগের উদ্যোগ থেমে যাওয়ার ক্ষেত্রে খরচ নিয়ে উদ্বেগের কথাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আর প্রথম ছবির ৫৪ কোটি ডলারের বেশি আয় শুনেই যদি প্রশ্ন ওঠে, “তা হলে এতদিন দ্বিতীয় ছবি হল না কেন?”, হিসাবটা একটু জটিল। বক্স অফিসে টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ প্রযোজকের হাতে যায় না। প্রেক্ষাগৃহ, পরিবেশনা এবং অন্যান্য খরচের ভাগ থাকে। তার উপর নতুন ছবির জন্য আবার নতুন বাজেট, শুটিং পরিকল্পনা, কলাকুশলী এবং সময়—সব কিছুই নিশ্চিত করতে হয়। পুরনো ছবির সাফল্য তাই নতুন ছবির নির্মাণের জন্য নিজে থেকেই চেকবই খুলে বসে না।
দীর্ঘ বিরতির পরে পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ফেরা যেমন সুবিধার, তেমনই চ্যালেঞ্জের। পুরনো দর্শকের স্মৃতি আছে, কিন্তু নতুন দর্শকের কাছে সেই আবেগ তৈরি করতে নতুন গল্পও চাই। শুধু আগের ছবির চেয়ে আরও বড় বিপর্যয় দেখালেই হবে না। গেরি লেন এবার কী সমস্যায় পড়বেন, আর সেই সংকট আগের গল্প থেকে কতটা আলাদা—সেখানেই দ্বিতীয় ছবির নিজস্বতা তৈরি হতে পারে।
আর এ বার পরিচালক হিসেবে বার্গারের নাম কৌতূহলটা আরও বাড়িয়েছে। যুদ্ধ, প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতার টানাপোড়েন নিয়ে পরিচিত কাজের পরে জম্বি-দুনিয়ায় তিনি মানুষের কোন গল্প খুঁজে পান, সেটিই দেখার। পিট ফিরছেন পুরনো চরিত্রে, বার্গার আসছেন নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।
তেরো বছর পর আপাতত জম্বিদের কামড় নয়, খবরটাই কামড় বসাচ্ছে। এখন বাকি—ক্যামেরা কবে চালু হয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



