সংস্কৃতি ও বিনোদন

সমুদ্রের কাছে চিৎকার!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বয়স তিরিশ পেরিয়ে গেল, কিন্তু পরিবারের প্রশ্ন শেষ হচ্ছে না?
  • সান ফ্রান্সিসকোতে এমন সব হতাশার জন্যই ছিল এক অভিনব সমাধান—সমুদ্রের দিকে মুখ করে একসঙ্গে চিৎকার।
  • ১২ সেপ্টেম্বর সান ফ্রান্সিসকোর প্রেসিডিয়ো উপকূলে শতাধিক মানুষ জড়ো হন ‘গাটারাল স্ক্রিম অ্যাট দ্য সি’ অনুষ্ঠানে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

চাকরি গেছে? প্রেমে ধাক্কা? বয়স তিরিশ পেরিয়ে গেল, কিন্তু পরিবারের প্রশ্ন শেষ হচ্ছে না? সান ফ্রান্সিসকোতে এমন সব হতাশার জন্যই ছিল এক অভিনব সমাধান—সমুদ্রের দিকে মুখ করে একসঙ্গে চিৎকার

১২ সেপ্টেম্বর সান ফ্রান্সিসকোর প্রেসিডিয়ো উপকূলে শতাধিক মানুষ জড়ো হন ‘গাটারাল স্ক্রিম অ্যাট দ্য সি’ অনুষ্ঠানে। আয়োজক ড্যানিয়েল এগানের ভাবনা ছিল, হতাশা প্রকাশের জন্য এমন একটি সামষ্টিক জায়গা তৈরি করা, যেখানে কেউ কাউকে আঘাত না করে বুকের ভিতর জমে থাকা রাগ-দুঃখ একটু বের করে দিতে পারেন।

অনুষ্ঠানের তালিকাতেও ছিল জীবনের চেনা সব বিপর্যয়—চাকরি হারানো, প্রেম ভেঙে যাওয়া, তিরিশে পা দেওয়া কিংবা পরিবারের সেই চিরন্তন প্রশ্ন, ‘বিয়ে কবে?’ তবে চিৎকারও এখানে পুরোপুরি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে কণ্ঠ গরম, পাঁচটায় শব্দ ও অঙ্গভঙ্গির প্রতিযোগিতা, তার পরে অনুশীলন এবং সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে মূল সম্মিলিত চিৎকার। হতাশা যতই হোক, সময়সূচি কিন্তু একেবারে অফিসের মিটিংয়ের মতো।

চিৎকার শেষ হওয়ার পর ছিল কণ্ঠ ঠান্ডা করার পর্ব। তারপর নিজের আনা কাটা ফল খাওয়ার আয়োজন। অর্থাৎ অস্তিত্বের সংকট সামলানোর পরেও সভ্যতার শেষ চিহ্নটি অক্ষত—ফলের পাত্র সঙ্গে আনতে হবে নিজেকেই।

অনুষ্ঠানটি বিনামূল্যের এবং চিকিৎসা বা মানসিক-স্বাস্থ্য পরিষেবা হিসেবে দাবি করা হয়নি। চিৎকার করে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, কিন্তু উদ্বেগ, বিষণ্ণতা বা মানসিক আঘাতের চিকিৎসা হিসেবে এর কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। গুরুতর সমস্যা থাকলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের সাহায্য নেওয়াই প্রয়োজন।

শরীরের দিক থেকেও অবশ্য লাগাম দরকার। কণ্ঠ গরম না করে দীর্ঘক্ষণ চেঁচালে স্বরতন্ত্রীতে চাপ পড়তে পারে। তাই অনুষ্ঠানেই ছিল ছোট ছোট অনুশীলন ও পরে কণ্ঠ ঠান্ডা করার সময়। আর সমুদ্রের দিকে চিৎকার করার একটি বাড়তি সুবিধা—সে তর্ক করে না, পাল্টা পোস্টও দেয় না।

তবে এই আয়োজনের গুরুত্ব শুধু মজার জায়গায় নয়। শহুরে জীবনে একাকিত্বের মধ্যে এমন সাময়িক জমায়েত মানুষকে মনে করিয়ে দিতে পারে, হতাশা একার অভিজ্ঞতা নয়। নিজের সমস্যার খুঁটিনাটি কাউকে বলতে না চাইলেও একসঙ্গে চিৎকার করা যায়, তারপর অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ফল খাওয়া যায়।

এই ঘটনার সবচেয়ে মজার দিক হল এর পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা। মানুষ সভ্য জীবনযাত্রার ঝামেলায় বিরক্ত হয়ে সমুদ্রের সামনে চেঁচাতে এসেছে—কিন্তু ঠিক সময়ে, কণ্ঠ গরম করে, নিয়ম মেনে। হতাশারও এখানে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট আছে।

আর হয়তো এটাই শহুরে জনপরিসরের আর একটি সম্ভাব্য ব্যবহার। পার্ক বা সমুদ্রতট শুধু চুপচাপ হাঁটার জায়গা নয়; নিরাপদভাবে সামষ্টিক আবেগ প্রকাশের জায়গাও হতে পারে। অবশ্যই অন্য মানুষ, প্রাণী বা পরিবেশের ক্ষতি না করে।

সমুদ্র কোনও সমস্যার সমাধান দেয়নি। চাকরি ফেরায়নি, প্রেমও জোড়া লাগায়নি। কিন্তু সেদিন অন্তত কয়েকশো মানুষের অভিযোগ মন দিয়ে শুনেছে—মাঝে একবারও ‘ভাইব্রেশন কমান’ বলেনি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

সুমন চট্টোপাধ্যায়

<p data-path-to-node="3">সুমন চট্টোপাধ্যায় (জন্ম: ২৩ অক্টোবর ১৯৫৭) একজন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি সাংবাদিক, সম্পাদক এবং লেখক, যিনি তাঁর তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ ও অনন্য রচনাশৈলীর জন্য সুপরিচিত। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮১ সালে <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="239">আজকাল</i> পত্রিকায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ ২৫ বছর <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="337">আনন্দবাজার পত্রিকা</i>-র কার্যকরী সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ভারত ও শ্রীলঙ্কার নির্বাচন, ভূ-রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সাহসিকতার সাথে কভার করার পাশাপাশি স্টার আনন্দ, কলকাতা টিভি ও তারা বাংলার মতো টেলিভিশন মাধ্যমেও যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব সংবাদপত্র <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="664">একদিন</i> চালু করেন এবং ২০১২ সালে 'দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া' গ্রুপের বাংলা দৈনিক <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="738">এই সময়</i>-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি তাঁর নিজস্ব ব্লগ 'বাংলাস্ফিয়ার' (Banglasphere)-এ নিয়মিত বস্তুনিষ্ঠ লেখা ও মতামত প্রকাশ করে যাচ্ছেন এবং সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="950">মাই ডেট উইথ হিস্ট্রি</i>, <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="972">প্রথম নাগরিক</i>, <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="986">সেদিনের সপ্তারোহী</i> ও <i data-path-to-node="0" data-index-in-node="1006">গুমঘর গুলজার</i>-এর মতো বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।</p>

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles