১৩২ বছর পরে ফেরত!

যা জানা জরুরি
- নিউ হ্যাম্পশায়ারের কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরিতে ফিরে এসেছে ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যার দ্য সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড মান্থলি ম্যাগাজিন।
- ৮৪ বছরের জন হ্যানসন বহু দশক ধরে নিজের বাড়িতে থাকা পত্রিকাটি শেষ পর্যন্ত লাইব্রেরিতে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
- তবে এত বছর পরেও আসল রহস্যের সমাধান হয়নি—কে এটি ধার নিয়েছিলেন?
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বই ফেরত দিতে দেরি হয়—এমন ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু ১৩২ বছর পরে? নিউ হ্যাম্পশায়ারের কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরিতে ফিরে এসেছে ১৮৯৪ সালের সেপ্টেম্বর সংখ্যার দ্য সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড মান্থলি ম্যাগাজিন। ৮৪ বছরের জন হ্যানসন বহু দশক ধরে নিজের বাড়িতে থাকা পত্রিকাটি শেষ পর্যন্ত লাইব্রেরিতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে এত বছর পরেও আসল রহস্যের সমাধান হয়নি—কে এটি ধার নিয়েছিলেন?
হ্যানসনের হাতে পত্রিকাটি আসে ১৯৬৬ সালে, তাঁদের পরিবার যখন বাড়ি বদলাচ্ছিল। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বাবা-মায়ের লাইব্রেরি কার্ডই ছিল না। তাঁর প্রয়াত স্ত্রীও বইপত্র সময়মতো ফেরানোর ব্যাপারে যথেষ্ট নিয়মিত ছিলেন। ফলে পারিবারিক তদন্ত চালিয়েও পত্রিকাটির প্রথম ধারগ্রহীতার সন্ধান মেলেনি।
তবে লাইব্রেরির পুরনো নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা হিসাব করলে গল্পটা আরও মজার। এত দিনের বিলম্বের জন্য দিতে হত আনুমানিক ১২,০৫৫ ডলার—ভারী দামের এক ‘লাইব্রেরি ফাইন’। কিন্তু হ্যানসনের ভাগ্য ভালো। কনকর্ড পাবলিক লাইব্রেরি ১ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য বিলম্ব-জরিমানা স্থগিত করেছে। হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী কিংবা পাঁচটির বেশি বকেয়ার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম থাকলেও এই পত্রিকার জন্য তাঁকে এক পয়সাও দিতে হয়নি।
লাইব্রেরির উদ্দেশ্য ছিল সহজ—জরিমানার ভয় দেখিয়ে পাঠককে দূরে রাখা নয়, বরং পুরনো ধার নেওয়া বইপত্র ফিরিয়ে আনা। কর্তৃপক্ষ হয়তো কয়েক মাস বা কয়েক বছর আগের বই ফেরার আশা করেছিল। কিন্তু নীতির ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই হাজির হল ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে আসা এক ‘বকেয়া’।
পত্রিকাটিও নিছক পুরনো কাগজ নয়। দ্য সেঞ্চুরি ইলাস্ট্রেটেড মান্থলি ম্যাগাজিন-এ সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞাপন এবং সমকালীন নানা বিতর্ক প্রকাশিত হত। মার্ক টোয়েন ও হেনরি জেমসের মতো লেখকের লেখাও এই সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে। ১৮৯৪ সালের ওই সংখ্যায় শহুরে স্কুলের শিশুদের জন্য বাইরে খেলাধুলার জায়গা নিয়ে আলোচনাও রয়েছে—এক শতাব্দীরও বেশি পরে বিষয়টি শুনে একেবারে অচেনা লাগবে না।
পত্রিকাটি অবশ্য আর সাধারণ ধার দেওয়ার তাকে ফিরবে না। এর জায়গা হতে পারে কনকর্ডের স্থানীয় ইতিহাস-সংগ্রহে। সেখানে কাগজের অবস্থা পরীক্ষা করে, উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষণ করা হবে এবং এত বছরের যাত্রার চিহ্নটিও নথিবদ্ধ করা হতে পারে।
এই গল্পের সবচেয়ে মজার দিক অবশ্য জরিমানা নয়, ফেরার সময়। ১৩২ বছর দেরি করে কেউ বই ফেরালে তাকে দেখে লাইব্রেরিয়ান রাগ করবেন, না হাততালি দেবেন—সেটাই প্রশ্ন। তবে জরিমানা মকুবের নীতির একটি বাস্তব দিক স্পষ্ট: ভয় কমালে মানুষ পুরনো ধার করা জিনিস ফিরিয়ে দিতে উৎসাহিত হতে পারেন।
কনকর্ড লাইব্রেরি হয়তো ১২ হাজার ডলারের সম্ভাব্য জরিমানা পেল না। তার বদলে পেল এমন একটি ঐতিহাসিক সাময়িকী, যার আসল মূল্য জরিমানার অঙ্কে মাপা যায় না।
আর যিনি ১৮৯৪ সালে পত্রিকাটি ধার নিয়েছিলেন? ১৩২ বছর পরেও তাঁর পরিচয় অমীমাংসিত। বলা যায়, বইটি ফিরেছে—ধারগ্রহীতা এখনও বেপাত্তা।
আর একটা কথা পরিষ্কার: ১৩২ বছর যে গ্রহণযোগ্য ফেরত-সময়সীমা নয়, সেটা সম্ভবত কাউকে আলাদা করে বোঝাতে হবে না!
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



