খবর

বর্ষা যায়, ঘাটতি রয়

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ১৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিম রাজস্থানের একাংশ থেকে বিদায় নিতে শুরু করেছে।
  • ভারতের আবহাওয়া দফতরের হিসাবে, প্রত্যাহাররেখা এখন রামগড়, মোহনগড়, ফলৌদি ও খাজুওয়ালার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত।
  • সাধারণত ১৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিম রাজস্থান থেকে বর্ষার বিদায় শুরু হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ১৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিম রাজস্থানের একাংশ থেকে বিদায় নিতে শুরু করেছে। ভারতের আবহাওয়া দফতরের হিসাবে, প্রত্যাহাররেখা এখন রামগড়, মোহনগড়, ফলৌদি ও খাজুওয়ালার মধ্য দিয়ে বিস্তৃত। সাধারণত ১৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিম রাজস্থান থেকে বর্ষার বিদায় শুরু হয়। অর্থাৎ, এ বছর বর্ষা সরে যাওয়ার সূচনা মোটামুটি স্বাভাবিক সময়েই হয়েছে। কিন্তু ক্যালেন্ডার মেনে বর্ষা বিদায় নিলেও দেশের বৃষ্টির হিসাব বলছে অন্য কথা।

১ জুন থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে গড়ে ৬৯৫.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘকালীন গড়ের তুলনায় যা প্রায় ১৫ শতাংশ কম। দেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকায় বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। রাজ্যগুলির মধ্যে মেঘালয়ে ঘাটতি প্রায় ৫৯ শতাংশ, অন্ধ্রপ্রদেশে ৪৩ শতাংশ এবং অরুণাচল প্রদেশে ৪১ শতাংশ। উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ উপদ্বীপীয় অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়েছে।

জুনের ঘাটতি, জুলাইয়ের স্বস্তি

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানেও বৃষ্টির অসম বণ্টন স্পষ্ট। জুনে বর্ষার অগ্রগতি দুর্বল থাকায় ঘাটতি ৩৫ শতাংশের বেশি হয়েছিল। জুলাইয়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়, বৃষ্টি হয় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় এক শতাংশ বেশি। কিন্তু আগস্টে ফের ঘাটতি দেখা দেয়, সেপ্টেম্বরেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

ফলে সারা দেশের গড় বৃষ্টিপাত দিয়ে কোনও নির্দিষ্ট জেলার জলপরিস্থিতি বোঝা কঠিন। একই সময়ে কোথাও অতিবৃষ্টিতে বন্যা হয়েছে, আবার কোথাও কৃষিজমিতে দেখা দিয়েছে মাটির আর্দ্রতার অভাব। জাতীয় গড় তাই জলসংকটের আঞ্চলিক ছবিকে অনেকটাই আড়াল করতে পারে।

বর্ষা বিদায়, বৃষ্টি অব্যাহত

পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষা সরে যেতে শুরু করলেও পূর্ব ও মধ্য ভারতে বৃষ্টির সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ২১ সেপ্টেম্বর নাগাদ অবদাপে এবং ২২ সেপ্টেম্বর গভীর অবদাপে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

ব্যবস্থাটি ২৩ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাবে ওড়িশা, উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই বৃষ্টি দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিঘাটতির কতটা পূরণ করবে, তা নির্ভর করবে বৃষ্টির পরিমাণ, সময় এবং ভৌগোলিক বণ্টনের উপর।

বৃষ্টি এলেও প্রশ্ন থেকেই যায়

স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে নদী, শহুরে নিকাশি এবং পাহাড়ি এলাকায় বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। অন্যদিকে, কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি আর্দ্রতা কিংবা জলাধারের ঘাটতি শুধুমাত্র কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সম্পূর্ণ পূরণ নাও হতে পারে।

খরিফ ফসলের বপন জুলাই ও আগস্টে কিছুটা গতি পেলেও বৃষ্টিনির্ভর অঞ্চলে ফলন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে শেষ পর্যায়ের বৃষ্টি, মাটির আর্দ্রতা এবং ফসলের বৃদ্ধিকালীন জলপ্রাপ্যতা।

তাই প্রশ্ন শুধু কত মিলিমিটার বৃষ্টি হল, তা নয়। কোথায় কতটা বৃষ্টি হল এবং তার জল কতটা কাজে এল—সেটিই আসল।

জাতীয় গড়ের বাইরে নজর

দেশে বৃষ্টিঘাটতি ১৫ শতাংশ—এই পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ হলেও নীতিনির্ধারণের জন্য যথেষ্ট নয়। কোন জেলায় সেচের প্রয়োজন, কোথায় পানীয় জলের সংকট তৈরি হচ্ছে কিংবা কোন অঞ্চলে পশুখাদ্যের সহায়তা দরকার, তা বুঝতে জেলা ও জলাধারভিত্তিক তথ্য জরুরি।

মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশের মতো সাধারণত বৃষ্টিবহুল রাজ্যেও বড় ঘাটতি দেখা দিলে স্থানীয় জলনিরাপত্তা ও কৃষির উপর তার প্রভাব আলাদা করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আসন্ন নিম্নচাপের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় তাই দুই ধরনের প্রস্তুতি দরকার। একদিকে ঘাটতিপ্রবণ অঞ্চলে জল সংরক্ষণ ও কৃষি সহায়তা, অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য দুর্যোগের জন্য সরিয়ে নেওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং যোগাযোগব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা।

বর্ষা তার নিজস্ব ক্যালেন্ডার মেনে সরে যাচ্ছে। কিন্তু জলনিরাপত্তার সংকট ক্যালেন্ডার মেনে শেষ হয় না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles