ভোটের খাতায় নোটিস

যা জানা জরুরি
- দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ তথ্য যাচাইয়ের নোটিস পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল।
- তাঁদের পাশাপাশি নোটিসপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটার।
- শনিবার প্রকাশিত তালিকায় নাম রয়েছে নয়াদিল্লির সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ এবং দিল্লি বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বীরেন্দ্র কুমার সচদেবেরও।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এ তথ্য যাচাইয়ের নোটিস পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তাঁদের পাশাপাশি নোটিসপ্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৩৩ লক্ষ ভোটার। শনিবার প্রকাশিত তালিকায় নাম রয়েছে নয়াদিল্লির সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ এবং দিল্লি বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বীরেন্দ্র কুমার সচদেবেরও।
তবে নোটিস পাওয়া মানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নয়। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দেওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ভোটারের যোগ্যতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন দফতর।
মুখ্যমন্ত্রীর ফর্মেও গরমিল
উত্তর-পশ্চিম দিল্লির শালিমার বাগের ভোটার রেখা গুপ্তের গণনাপত্রে তাঁর সঙ্গে বাবা-মায়ের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম বলে উল্লেখ ছিল। এই অসংগতির কারণেই তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়। নির্বাচন দফতর জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর তাঁর তথ্য যাচাই করা হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রেখা গুপ্তের নাম থাকবে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের পাশাপাশি নোটিস পেয়েছেন তাঁর স্ত্রী সুনীতা, ছেলে পুলকিত এবং বাবা-মাও। নয়াদিল্লি কেন্দ্রের নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের বক্তব্য, তাঁদের জমা দেওয়া গণনাপত্রে এমন কিছু তথ্যের ঘাটতি ছিল, যার ফলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আগের সংশোধিত ভোটার তালিকার সঙ্গে নামের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। সেই তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি চেয়েই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র খুঁজে না পাওয়া কিংবা জমা দেওয়া তথ্যে অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে নোটিস দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের কাছে জবাব এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, নোটিস মানেই নাম বাতিল নয়; যাচাইয়ের পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত।
নামেও সমস্যা, বয়সেও
বীরেন্দ্র কুমার সচদেবের ক্ষেত্রে নোটিসের কারণ নামের অসংগতি। পূর্ব দিল্লির ত্রিলোকপুরী কেন্দ্রের এই ভোটার জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পরে তিনি নিজের কাগজপত্র পরীক্ষা করবেন।
ফলে শাসক ও বিরোধী—দুই শিবিরের নেতারাই যাচাইয়ের আওতায় এসেছেন। তবে প্রত্যেকের নোটিসের কারণ এক নয়। কারও ক্ষেত্রে বয়সের হিসাবে অসংগতি, কারও ক্ষেত্রে নামের বানান, আবার কারও ক্ষেত্রে পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্যের সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নোটিসের নেপথ্যে প্রধানত দু’ধরনের সমস্যা রয়েছে। প্রায় ১৩ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোটারের তথ্য আগের বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়নি। আরও প্রায় ১৯ লক্ষ ৩৩ হাজার ভোটারের তথ্যে অসংগতি ধরা পড়েছে।
দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, প্রায় ৩১ লক্ষ ৬০ হাজার নোটিস তৈরি হয়েছে। সেগুলি বিলির কাজ চলছে।
তালিকা ঘিরে বড় উদ্বেগ
দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। গণনাপত্র সংগ্রহের পর্যায়ে প্রায় ৪৭ লক্ষ ৬০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের ফর্ম জমা না পড়ায় তাঁদের নাম খসড়া তালিকায় না থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সংশোধনপর্ব শুরুর সময় রাজধানীতে প্রায় এক কোটি ৪৫ লক্ষ ভোটার ছিলেন। ৩১ অগস্ট প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে প্রায় ৯৭ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের।
এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টির জাতীয় সংবাদমাধ্যম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুরাগ ঢান্ডা অভিযোগ করেছেন, সংশোধনের আড়ালে বিজেপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে। কেজরীওয়াল ও তাঁর পরিবারের ভোটার তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দলটি।
অন্যদিকে, নির্বাচন দফতর নথিগত ঘাটতি এবং নির্ধারিত যাচাইপদ্ধতির কথাই জানিয়েছে। অভিযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও প্রশাসনিকভাবে নোটিসের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ভোটারের জবাব—দুটিই যাচাইয়ের বিষয়।
চূড়ান্ত তালিকা নভেম্বরে
দিল্লির ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা অনুযায়ী—
- ৩০ সেপ্টেম্বর: খসড়া তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ দিন।
- ২৯ অক্টোবর: নোটিসের জবাব যাচাই ও নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়সীমা।
- ৪ নভেম্বর: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ।
নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন এবং বিদ্যমান তথ্য সংশোধনের জন্যও নির্দিষ্ট আবেদনপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে।
নোটিসের তালিকায় পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের নাম থাকায় আলোচনা তীব্র হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সাধারণ ভোটারের অধিকার ঘিরে। নোটিস যথাসময়ে পৌঁছচ্ছে কি না, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ সহজলভ্য কি না এবং প্রতিটি ভোটার নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন কি না—তার উপরই সংশোধনপর্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করবে।
রাজনৈতিক অভিযোগ ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যার বাইরে, শেষ পর্যন্ত নজর থাকবে যাচাই এবং নিষ্পত্তির বাস্তব প্রক্রিয়ায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



