কল্যাণী বিমানবন্দরের জন্য নয়টি মৌজায় জমি কেনাবেচা বন্ধ, অধিগ্রহণের আগে বাড়ল অনিশ্চয়তা

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: নদিয়ার কল্যাণীতে প্রস্তাবিত নতুন বিমানবন্দরের জন্য নয়টি মৌজায় জমি কেনাবেচার নথিভুক্তি বন্ধ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
- মুখ্যসচিবের নির্দেশে নিবন্ধন ও স্ট্যাম্প রাজস্ব দপ্তর স্থানীয় নিবন্ধন আধিকারিকদের জানিয়েছে, বীরপাড়া, চর যদুবাটি, গঙ্গা মোহনপুর, চর মধুসূদনপুর, সারাটি, মুরুটিপুর, উমাপুর, ঈশ্বরীপুর ও কল্যাণীর…
- এই নিষেধাজ্ঞা জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: নদিয়ার কল্যাণীতে প্রস্তাবিত নতুন বিমানবন্দরের জন্য নয়টি মৌজায় জমি কেনাবেচার নথিভুক্তি বন্ধ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যসচিবের নির্দেশে নিবন্ধন ও স্ট্যাম্প রাজস্ব দপ্তর স্থানীয় নিবন্ধন আধিকারিকদের জানিয়েছে, বীরপাড়া, চর যদুবাটি, গঙ্গা মোহনপুর, চর মধুসূদনপুর, সারাটি, মুরুটিপুর, উমাপুর, ঈশ্বরীপুর ও কল্যাণীর নির্দিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে আপাতত কোনও দলিল নথিভুক্ত করা যাবে না।
এই নিষেধাজ্ঞা জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত ঘোষণা নয়। বিমানবন্দর এলাকার সম্ভাব্য সীমানায় হঠাৎ কেনাবেচা, জমির কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বা প্রকল্প জেনে মধ্যস্বত্বভোগীদের জমি সংগ্রহ ঠেকানো এর উদ্দেশ্য হতে পারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরিধি, মেয়াদ এবং জরুরি পারিবারিক হস্তান্তর বা বন্ধক রাখার ক্ষেত্রে ছাড়ের নিয়ম প্রকাশ করা প্রয়োজন।
২০২৬–২৭ রাজ্য বাজেটে কল্যাণীর নতুন বিমানবন্দরের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কলকাতা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জায়গা সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতের যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ সামলানোর বিকল্প হিসেবে প্রকল্পটি ভাবা হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জুনে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে লিখেছিলেন, দিল্লির জেওয়ার ও নবি মুম্বই বিমানবন্দরের মতো দ্বিতীয় বৃহৎ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার একর জমি প্রয়োজন। সরকারের হাতে বর্তমানে প্রায় ২৪০ একর রয়েছে, যার মধ্যে ১৭২ একরের একটি সরকারি ইটভাটা এলাকা। অর্থাৎ মোট প্রয়োজনের প্রায় ৮৮ শতাংশ জমি এখনও সংগ্রহ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি জমি লাগতে পারে কল্যাণী ও বীরপাড়া মৌজায়; তারপর সারাটি, মুরুটিপুর ও উমাপুরে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম অভিমুখে দুটি সমান্তরাল রানওয়ের কথা রয়েছে। রানওয়ে ও দুই প্রান্তের নিরাপত্তা-পরিসর মিলিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং প্রায় ৫০০ মিটার প্রস্থ প্রয়োজন হতে পারে। পূর্ব দিকে যাত্রী ও পণ্য টার্মিনাল, বিমান রাখার জায়গা, চলাচলের পথ এবং নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সম্ভাব্য অবস্থান ভাবা হচ্ছে। এগুলি এখনও অনুমোদিত চূড়ান্ত নকশা নয়।
বিমানবন্দর করতে শুধু জমি পেলেই চলে না। বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি, আকাশপথ ও পরিবেশগত মূল্যায়ন, জলাভূমি ও বন্যা-ঝুঁকি পরীক্ষা, যোগাযোগপথ এবং আর্থিক কার্যকারিতা যাচাই প্রয়োজন। কলকাতা থেকে যাতায়াতের দ্রুত রেল ও সড়ক না-থাকলে দূরের দ্বিতীয় বিমানবন্দর যাত্রীর সময় কমানোর বদলে বাড়াতেও পারে।
সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব জমির মালিকদের উপর। দলিল নথিভুক্তি বন্ধ থাকলে বিয়ে, চিকিৎসা বা ঋণের প্রয়োজনে জমি বিক্রি আটকে যেতে পারে। আবার প্রকল্পের খবর জানার পরে কম দামে বিক্রি করিয়ে নেওয়া বা ভুয়ো দালালি থেকে তাঁদের রক্ষাও দরকার। সরকারকে মৌজা-মানচিত্র, আপত্তি জানানোর পথ এবং সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের নীতি দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।
বিশ্লেষণ: বিমানবন্দর অর্থনৈতিক সুযোগ, নির্মাণকাজ ও নতুন সংযোগ আনতে পারে; কিন্তু ঘোষণা এবং বিমান ওঠার মধ্যে দীর্ঘ পথ থাকে। জমি আটকে রেখে প্রকল্পের সমীক্ষা বছরের পর বছর না-এগোলে স্থানীয় মানুষ নিজের সম্পত্তি ব্যবহার করতে না-পেরে অনির্দিষ্ট ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জমি অধিগ্রহণের আগে সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা, বসতবাড়ি ও জীবিকার পৃথক তালিকা, বাজারমূল্যের স্বচ্ছ হিসাব এবং পুনর্বাসনের সময়সীমা অপরিহার্য। প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত কি না, তার প্রথম পরীক্ষা রানওয়ের ছবি নয়—জমির মালিককে কত দ্রুত ও ন্যায্যভাবে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, সেখানে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



