খবর

খেতে আগুন লাগলে জমির নথিতে ১৫ মাসের লাল দাগ, কেন্দ্রের খসড়ায় নতুন শাস্তি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট জমির রাজস্ব নথিতে ১৫ মাসের জন্য ‘লাল দাগ’ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্র।
  • ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখের খসড়া বিধি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসে।
  • একই জমিতে আবার আগুন লাগানো হলে অথবা নির্ধারিত পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ না-মেটালে দাগটি আরও ১৫ মাস বহাল থাকতে পারে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট জমির রাজস্ব নথিতে ১৫ মাসের জন্য ‘লাল দাগ’ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্র। ১৬ সেপ্টেম্বর তারিখের খসড়া বিধি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসে। একই জমিতে আবার আগুন লাগানো হলে অথবা নির্ধারিত পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ না-মেটালে দাগটি আরও ১৫ মাস বহাল থাকতে পারে।

বিধিটি এখনও চূড়ান্ত নয়। খসড়া প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে নাগরিক, কৃষক সংগঠন, রাজ্য সরকার ও অন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ মতামত দিতে পারবে। সেই পরামর্শ বিবেচনার পরে কেন্দ্র ভাষা বদলাতে, শর্ত যোগ করতে অথবা প্রস্তাব প্রত্যাহারও করতে পারে। ফলে কোনও কৃষকের জমিতে এখনই নতুন বিধিতে দাগ পড়ছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

‘লাল দাগ’ জমির মালিকানা কেড়ে নেয় না। এটি রাজস্ব নথিতে নিয়মভঙ্গের উল্লেখ, যা ভবিষ্যতে ঋণ, ভর্তুকি বা অন্য সরকারি সুবিধার যাচাইয়ে দেখা যেতে পারে। ঠিক কোন সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে, খসড়ায় সর্বত্র তা নির্ধারিত নয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষক সংগঠনগুলির আশঙ্কা, ব্যাঙ্ক বা সরকারি দপ্তর দাগটিকে বিস্তৃত অযোগ্যতার কারণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

ফসল পোড়ানোর জন্য পরিবেশগত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও থাকছে। আদায় করা অর্থ ফসল-বৈচিত্র্য, খড় থেকে জৈবজ্বালানি বা অন্য পণ্য তৈরি, অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার যন্ত্র এবং কৃষকদের সহায়তায় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অর্থটি কোন জেলা থেকে কত উঠল এবং কোথায় ব্যয় হল, তার প্রকাশ্য হিসাব না-থাকলে ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা কমবে।

উত্তর ভারতে ধান কাটার পরে গম বোনার সময় খুব কম। খড় সরানোর শ্রম, যন্ত্রের ভাড়া ও পরিবহণের খরচ অনেক কৃষকের পক্ষে বহন করা কঠিন। আগুন দ্রুত ও প্রায় বিনা খরচে জমি পরিষ্কার করে। তার ধোঁয়া দিল্লি ও আশপাশের শীতকালীন দূষণে অবদান রাখে, যদিও যানবাহন, শিল্প, নির্মাণের ধুলো, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স্থানীয় জ্বালানিও গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

২০২৩ সালেও জমির নথিতে লাল দাগ দেওয়ার উদ্যোগ হয়েছিল। কৃষক সংগঠনগুলি তখন বলেছিল, ফসল পোড়ানোকে শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবে দেখলে বাজার ও সময়ের বাধা আড়ালে যায়। নতুন খসড়ায় দাগ রাখার নির্দিষ্ট সময় এবং মুছে দেওয়ার শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন কোথায় হবে—এই প্রক্রিয়াটি আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

কোন জমিতে আগুন লেগেছে তা উপগ্রহচিত্র, স্থানীয় পরিদর্শন ও প্রশাসনিক প্রতিবেদনে শনাক্ত হয়। ছোট রান্নার আগুন, দুর্ঘটনা বা পাশের জমির আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে খড় পোড়ানোকে আলাদা করতে মাঠপর্যায়ের যাচাই দরকার। শুধু দূর-অনুধাবন ছবির ভিত্তিতে শাস্তি দিলে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি থাকবে।

বিশ্লেষণ: ১৫ মাসের সীমা আগের অনির্দিষ্ট দাগের তুলনায় কিছুটা স্পষ্টতা আনে। কিন্তু শাস্তি কার্যকর হবে তখনই, যখন আগুন না-জ্বালানোর বাস্তব বিকল্প কৃষকের নাগালে থাকবে। একটি যন্ত্র গ্রামে আছে বলা এবং ফসল কাটার সংকীর্ণ সময়ে সেটি পাওয়া—দুটি আলাদা বিষয়।

খসড়ার চূড়ান্ত সংস্করণে শুনানির অধিকার, প্রমাণের মান, আপিলের সময়সীমা এবং দাগ মুছে ফেলার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি থাকা উচিত। জরিমানা থেকে পাওয়া অর্থ একই অঞ্চলে বিকল্প ব্যবস্থায় ফিরলে কৃষকও ফল দেখতে পাবেন। শুধু লাল কালি দূষণ কমায় না; খড়ের অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles