বাংলাস্ফিয়ার: কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনের অভিযোগ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শতাধিক ছাত্র-আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে বহু ছাত্রকে নজরদারি ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার ছাত্রদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে তারা।

সিজেপির অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সমাজমাধ্যম এক্স-এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংকে উদ্দেশ করে লেখেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও পুলিশি ব্যবস্থা না নেওয়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। তাঁর দাবি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে শত শত ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারি ও হয়রানি চলছে।

সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাসও এক বিবৃতিতে বলেন, আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই সিজেপি আইনি সহায়তা দিয়ে আসছে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে দেশজুড়ে আটক ছাত্র-আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, সরকারের আশ্বাসের উপর আস্থা রেখেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরিস্থিতির ওপর সংগঠন কড়া নজর রাখবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে বিহারে ছাত্র গ্রেপ্তারের ঘটনার পর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা ২৭ জুলাই পাটনায় পৌঁছে বলেন, আন্দোলন করার জন্য ছাত্রদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সরকারকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, নইলে দিল্লির মতো আন্দোলন বিহারেও ছড়িয়ে পড়বে।

পাটনায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “যত দিন না প্রত্যেক গ্রেপ্তার ছাত্র-আন্দোলনকারী মুক্তি পাচ্ছেন, তত দিন এই আন্দোলন থামবে না। প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান-প্রদত্ত অধিকার, কোনও সরকার তা কেড়ে নিতে পারে না।”

উল্লেখ্য, পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ২০ জুন শুরু হওয়া সিজেপির আন্দোলন টানা ৩৬ দিন চলেছিল। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। পরে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে সোমবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ মন্তব্য করে, “শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছে। শুধু আন্দোলন হচ্ছে বলেই পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারে না।”

রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা-সহ একাধিক আবেদনের শুনানিতে শীর্ষ আদালত আরও জানায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ক্ষেত্রে পুলিশি নির্যাতন বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।