ফ্রিজ অ্যাকাউন্টে ‘কিছুটা’ ছাড়, ইডিকে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ

যা জানা জরুরি
- তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ডেবিট-ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দলটির দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ ও আইনি খরচ চালানোর জন্য সীমিত পরিমাণ অর্থ ছাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা…
- তবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আইনি বৈধতা নিয়ে মূল বিতর্কে এই মুহূর্তে কোনও মত দিচ্ছে না শীর্ষ আদালত।
- সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ জানায়, একটি রাজনৈতিক দলের ন্যূনতম সাংগঠনিক কাজ চালানোর জন্য কিছু আর্থিক সংস্থান প্রয়োজন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ডেবিট-ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দলটির দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ ও আইনি খরচ চালানোর জন্য সীমিত পরিমাণ অর্থ ছাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে (ইডি) পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আইনি বৈধতা নিয়ে মূল বিতর্কে এই মুহূর্তে কোনও মত দিচ্ছে না শীর্ষ আদালত।
সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ জানায়, একটি রাজনৈতিক দলের ন্যূনতম সাংগঠনিক কাজ চালানোর জন্য কিছু আর্থিক সংস্থান প্রয়োজন। আদালতে মামলা লড়ার জন্য আইনি খরচও রয়েছে। সেই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সীমিত অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় কি না, ইডিকে তা বিবেচনা করতে বলেছে আদালত।
শুনানিতে ইডির আইনজীবীকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশ নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে নিজেদের অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে। এক সপ্তাহ পর ফের মামলাটি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
আদালতের বক্তব্য, প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য কিছু অর্থ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বৈধতা নিয়ে মূল মামলায় কোনও পর্যবেক্ষণ করছে না আদালত, কারণ বিষয়টি এখনও কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন।
মামলার কেন্দ্রে রয়েছে টিএমসির তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ইডির নির্দেশে এগুলিতে ডেবিট-ফ্রিজ থাকায় অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়লেও তা তোলা বা খরচ করা যাচ্ছে না। এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
দীর্ঘদিন কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কার্যত অচল থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে অফিস পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, প্রশাসনিক খরচ, আইনি লড়াই এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে। সেই কারণেই পুরো ফ্রিজ তুলে না দিয়ে সীমিত অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সামনে এনেছে আদালত।
অন্যদিকে, ইডির যুক্তি, তদন্তের স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা জরুরি। এখন আদালতের পরামর্শের পর সংস্থাটিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তদন্তে কোনও প্রভাব না ফেলে সীমিত অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব কি না।
সুপ্রিম কোর্টের এ দিনের অবস্থান তাই কোনও পক্ষের জয় বা পরাজয় নয়। বরং তদন্তের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে একটি রাজনৈতিক দলের ন্যূনতম প্রশাসনিক ও আইনি কাজ যাতে থমকে না যায়, সেই ভারসাম্যের পথ খোঁজাই আপাতত আদালতের লক্ষ্য।
আগামী সপ্তাহের শুনানিতে ইডি জানাবে, ফ্রিজ হওয়া তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও আইনি খরচের জন্য সীমিত অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সম্ভব কি না। সেই জবাবের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে শীর্ষ আদালত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



