আমেরিকা সফরে অনুমতি না মেলায় ক্ষুব্ধ রেবন্ত রেড্ডি, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘গুজরাত-পক্ষপাতের’ অভিযোগ

যা জানা জরুরি
- তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরে অনুমতি দেয়নি বিদেশ মন্ত্রক।
- কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে তেলেঙ্গানার আত্মমর্যাদার প্রতি ‘অপমান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
- তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস-শাসিত তেলেঙ্গানার বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বাধা দিতেই রাজনৈতিক কারণে সফরের অনুমতি আটকে দেওয়া হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরে অনুমতি দেয়নি বিদেশ মন্ত্রক। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে তেলেঙ্গানার আত্মমর্যাদার প্রতি ‘অপমান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস-শাসিত তেলেঙ্গানার বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বাধা দিতেই রাজনৈতিক কারণে সফরের অনুমতি আটকে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে আমেরিকা ও কানাডা সফরের অনুমতি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরাসরি বৈষম্যের অভিযোগও করেছেন রেবন্ত।
সোমবার হায়দরাবাদে সাংবাদিক বৈঠকে রেবন্ত বলেন, ‘তেলেঙ্গানা রাইজ়িং’ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে তাঁর আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল। সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা, ক্রীড়া এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আনা। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দেয়, ‘রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না’। ফলে শেষ পর্যন্ত সফর বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি।
তিন দিনের ব্রিটেন সফর শেষে সোমবার হায়দরাবাদে ফিরে রেবন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁকে আমেরিকা যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল না। তাঁর কথায়, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীকে ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাত গ্লোবাল সামিট ২০২৭’-এর প্রচারের জন্য আমেরিকা ও কানাডা সফরের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ তেলেঙ্গানার জন্য বিনিয়োগ ও শিক্ষা-সহযোগিতা আনতে চাওয়া একটি প্রতিনিধিদলকে আটকে দেওয়া হয়েছে। এই বৈপরীত্যই কেন্দ্রের পক্ষপাতমূলক মনোভাব প্রমাণ করে বলে তাঁর দাবি।
রেবন্ত বলেন, “গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীকে সফরের অনুমতি দেওয়া হল, কিন্তু তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হল না। এটি শুধু আমার অপমান নয়; তেলেঙ্গানার চার কোটি মানুষের আত্মমর্যাদার অপমান।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র চায় গুজরাত এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি এগিয়ে যাক, কিন্তু বিরোধী দল পরিচালিত রাজ্যগুলি একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি উন্নতি না করুক।
তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আমেরিকা সফরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-সহ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের সম্ভাবনা ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের তেলেঙ্গানায় নিয়ে এসে শিক্ষা ও ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নত করার পরিকল্পনাও ছিল। এই উদ্যোগের সুফল বিশেষত দলিত, আদিবাসী, বহুজন এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের পড়ুয়ারা পেতে পারতেন বলে তিনি জানান।
রেবন্ত বলেন, তিনি আগে ব্যক্তিগতভাবে হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য আমেরিকা গিয়েছিলেন। কিন্তু এ বারের সফর ব্যক্তিগত ছিল না; ছিল রাজ্যের স্বার্থে। তাঁর ভাষায়, “আমি নিজের জন্য আমেরিকা যাচ্ছিলাম না। তেলেঙ্গানার জন্য যাচ্ছিলাম। অথচ আমাকে অনুমতি দেওয়া হল না, কারণ আমি কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী এবং তেলেঙ্গানার প্রতিনিধি।”
রেবন্তের সম্ভাব্য আমেরিকা সফর ঘিরে নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মামদানির সঙ্গে কোনও বৈঠক নির্ধারিত ছিল না। তিনি বলেন, “মামদানি কোনও অসামাজিক ব্যক্তি নন; তিনি নির্বাচিত মেয়র।” একইভাবে আমেরিকার উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়েও কোনও নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা অনুমতির আবেদন ছিল না বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, সফরের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য তারিখ এবং কর্মসূচি বিদেশ মন্ত্রককে যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক অনুমোদন মেলেনি। রেবন্তের প্রশ্ন, যদি তাঁর সফর নিয়ে নীতিগত বা নিরাপত্তাজনিত আপত্তি থাকত, তা হলে ব্রিটেন সফরের অনুমতি দেওয়া হল কেন? কেবল আমেরিকা সফরের ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক আপত্তি ওঠার কারণ প্রকাশ্যে জানানো উচিত বলে তিনি দাবি করেন।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী বলেও আক্রমণ করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বিদেশ সফর বা বিনিয়োগ সংগ্রহের উদ্যোগকে রাজনৈতিক আনুগত্যের মানদণ্ডে বিচার করা হলে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বার্থকে দলীয় রাজনীতির অধীন করা উচিত নয়।
প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে রেবন্ত ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদীর আকস্মিক লাহোর সফরের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী যখন পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, তখন তিনি কার অনুমতি নিয়েছিলেন?” যদিও প্রধানমন্ত্রী ও কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রশাসনিক বিধি এক নয়, তবু এই তুলনার মাধ্যমে রেবন্ত কেন্দ্রের রাজনৈতিক যুক্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে চেয়েছেন।
কংগ্রেস বিষয়টি সংসদে তুলবে বলেও জানিয়েছেন রেবন্ত। তাঁর মতে, এটি কেবল একজন মুখ্যমন্ত্রীর সফর বাতিলের ঘটনা নয়; বরং বিরোধী-শাসিত রাজ্যের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সংগ্রহের স্বাধীনতা এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর প্রশ্ন। এখন কেন্দ্র সফরের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করে কি না, সেই দিকেই নজর থাকবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



