সাড়ে আট বছর পরে কোরেগাঁও ভীমা কমিশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, রায় ৩১ অক্টোবর

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ২০১৮ সালের কোরেগাঁও ভীমা হিংসার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত মহারাষ্ট্র সরকারের বিচারবিভাগীয় কমিশন প্রায় সাড়ে আট বছর পরে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছে।
- রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ১১ সেপ্টেম্বর কমিশনের মেয়াদ আবার বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ করেছে।
- অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্ট বিচারপতি জে এন প্যাটেলের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের কমিশনের অন্য সদস্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব সুমিত মল্লিক।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ২০১৮ সালের কোরেগাঁও ভীমা হিংসার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত মহারাষ্ট্র সরকারের বিচারবিভাগীয় কমিশন প্রায় সাড়ে আট বছর পরে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছে। কমিশন এখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন লিখবে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ১১ সেপ্টেম্বর কমিশনের মেয়াদ আবার বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ করেছে।
অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্ট বিচারপতি জে এন প্যাটেলের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের কমিশনের অন্য সদস্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব সুমিত মল্লিক। ২০১৮ সালে গঠনের সময় চার মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। নতুনটি কমিশনের ২৩তম মেয়াদবৃদ্ধি। এই দীর্ঘতা তদন্তের ব্যাপ্তি বোঝালেও সময় ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
১ জানুয়ারি ২০১৮ পুণের কোরেগাঁও ভীমায় যুদ্ধের দ্বিশতবর্ষ স্মরণে বিপুল মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু, বহু মানুষ আহত এবং যানবাহন ও সম্পত্তির ক্ষতি হয়। পরে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার তাৎক্ষণিক কারণ, পুলিশি প্রস্তুতি এবং সংগঠিত উসকানি ছিল কি না—এসব অনুসন্ধান কমিশনের দায়িত্ব।
কমিশনে চার শতাধিক হলফনামা জমা পড়েছে এবং ৫৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাক্ষীদের মধ্যে রাজনীতিক, পুলিশ কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মী, সমাজকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছেন। কমিশনের সচিব ভি ভি পালনীতকর জানিয়েছেন, সাক্ষ্য, জেরা ও চূড়ান্ত যুক্তি শোনা শেষ; এখন সংগৃহীত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে সুপারিশ তৈরি হবে।
শুনানিতে হিন্দুত্ববাদী নেতা মিলিন্দ একবোটে ও সম্ভাজি ভিড়ের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠাই দায় প্রমাণ করে না। অন্যদিকে, এলগার পরিষদের আয়োজন এবং তার পরের হিংসার সম্পর্ক নিয়েও নানা পক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। কমিশন এখনও কারও দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
কোরেগাঁও ভীমা কমিশন এবং এলগার পরিষদ-সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা আলাদা। কমিশন তথ্য অনুসন্ধান ও প্রশাসনিক সুপারিশ করবে; কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত বা কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। ফৌজদারি মামলায় তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতকে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পৃথক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দীর্ঘ শুনানির একটি কারণ ছিল বিপুল নথি, বহু পক্ষের জেরা এবং মহামারির সময় ব্যাঘাত। কমিশনের সময়, কর্মী ও অর্থের সীমাও কাজের গতি প্রভাবিত করেছে। তবে ২৩ বার মেয়াদ বাড়ানোর পরে প্রতিবেদন সত্যিই ৩১ অক্টোবর জমা পড়বে কি না, তা এখনও ভবিষ্যতের বিষয়।
প্রতিবেদন রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়ার পরে প্রকাশ স্বয়ংক্রিয় নয়। সরকার তা বিধানসভায় পেশ করতে, সম্পূর্ণ বা আংশিক প্রকাশ করতে এবং সুপারিশ গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা এবং কোনও অংশ গোপন রাখলে তার লিখিত কারণ।
বিশ্লেষণ: সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, কিন্তু এটি বিচার বা জবাবদিহির সমাপ্তি নয়। আট বছরের ব্যবধানে মানুষের স্মৃতি দুর্বল হয়, নথি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে এবং সুপারিশের তাৎক্ষণিক মূল্য কমে। চার মাসের কাজ ২৩টি মেয়াদবৃদ্ধি পার করলে কমিশন-ব্যবস্থার নকশাই পর্যালোচনা দরকার।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শুধু কে কী বলেছেন তার সারাংশ নয়, পুলিশি গোয়েন্দা তথ্য, জনসমাবেশের অনুমতি, সংঘর্ষ প্রতিরোধ এবং পরবর্তী তদন্তের ত্রুটি প্রমাণসহ আলাদা করতে হবে। সরকার দ্রুত পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করলে নানা রাজনৈতিক বয়ানের বদলে নাগরিকেরা কমিশনের প্রকৃত সিদ্ধান্ত বিচার করতে পারবেন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



