খবর

নদিয়ায় মহাকাশ উদ্যান, কালিম্পংয়ে জীবপ্রযুক্তি কেন্দ্র

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নদিয়ায় একটি মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান উদ্যান এবং কালিম্পংয়ে উপগ্রহ জীবপ্রযুক্তি কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
  • ১৬ সেপ্টেম্বর নিউ টাউনে ৩৩তম রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসে বিজ্ঞান ও জীবপ্রযুক্তিমন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী ডিজিটাল মাধ্যমে দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
  • নদিয়ার উদ্যানটি জাতীয় বিজ্ঞান সংগ্রহশালা পরিষদের সহযোগিতায় প্রায় দুই একর জমিতে গড়ে তোলার কথা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নদিয়ায় একটি মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান উদ্যান এবং কালিম্পংয়ে উপগ্রহ জীবপ্রযুক্তি কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১৬ সেপ্টেম্বর নিউ টাউনে ৩৩তম রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসে বিজ্ঞান ও জীবপ্রযুক্তিমন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী ডিজিটাল মাধ্যমে দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

নদিয়ার উদ্যানটি জাতীয় বিজ্ঞান সংগ্রহশালা পরিষদের সহযোগিতায় প্রায় দুই একর জমিতে গড়ে তোলার কথা। মন্ত্রী জানিয়েছেন, কর্কটক্রান্তি রেখা জেলার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে। রেখাটি ভূগোল ও সূর্যের আপাত অবস্থান বোঝানোর চমৎকার শিক্ষামাধ্যম; তবে শুধু কর্কটক্রান্তির উপর অবস্থান করলেই কোনও স্থান পেশাদার জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের জন্য আদর্শ হয় না। আলোদূষণ, মেঘ, আর্দ্রতা ও যন্ত্রের মানও গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্যানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার জায়গা হতে পারে। সৌরঘড়ি, গ্রহের কক্ষপথ, দূরবীক্ষণ পর্যবেক্ষণ এবং রাত্রিকালীন আকাশচর্চা বইয়ের বিমূর্ত ধারণাকে দৃশ্যমান করে। তবে ঘোষণায় কী প্রদর্শনী থাকবে, মানমন্দিরের যন্ত্র কত শক্তিশালী হবে বা নিয়মিত বিজ্ঞানশিক্ষক কতজন থাকবেন—সেসব বিস্তারিত প্রকাশ হয়নি।

কালিম্পংয়ের উপগ্রহ জীবপ্রযুক্তি কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য ও পরিচালন কাঠামো এখনও স্পষ্ট নয়। পাহাড়ি অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় কৃষি, ঔষধি উদ্ভিদ ও উদ্ভিদরোগ নিয়ে গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রটি গবেষণাগার, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, নমুনা-ভাণ্ডার নাকি কলকাতাকেন্দ্রিক কোনও মূল কেন্দ্রের সম্প্রসারণ—ঘোষণায় পরিষ্কার করা হয়নি।

একই অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল অ্যাটলাস অ্যান্ড থিম্যাটিক ম্যাপিং অর্গানাইজেশনের সঙ্গে রাজ্যের একটি বিস্তারিত মানচিত্র তৈরির সমঝোতার কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে দৃষ্টিহীন ব্যবহারকারীদের জন্য ব্রেইল মানচিত্রের পরিকল্পনাও আছে। আইআইটি খড়্গপুরের সঙ্গে সরকারি উদ্ভাবন এবং ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সঙ্গে মহাকাশশিক্ষা ও গবেষণার যোগাযোগ বাড়ানোর আলোচনার উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে জাতীয় সংস্থার নাম থাকলেই যৌথ প্রকল্পের সব শর্ত স্থির হয়েছে—এমন নয়। কে অর্থ দেবে, ভবন কার মালিকানায় থাকবে, বৈজ্ঞানিক কর্মী কে নিয়োগ করবে এবং পাঠ্যক্রম বা গবেষণার মান কে যাচাই করবে—সমঝোতাপত্র বা সরকারি প্রকল্প-প্রতিবেদনেই তার উত্তর থাকা উচিত। ঘোষণায় মোট ব্যয় ও কাজ শেষ করার সময়সীমাও জানানো হয়নি।

জেলা-ভিত্তিক বিজ্ঞানকেন্দ্রের সাফল্য পর্যটকের সংখ্যায় সীমিত হতে পারে না। সরকারি বিদ্যালয়ের নিয়মিত সফর, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, স্থানীয় ভাষায় ব্যাখ্যা, প্রতিবন্ধী প্রবেশ এবং কম খরচে রাতের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। যন্ত্র নষ্ট হলে দ্রুত মেরামত এবং প্রশিক্ষিত প্রদর্শকের উপস্থিতি না-থাকলে ব্যয়বহুল ভবনও কয়েক বছরের মধ্যে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে।

জীবপ্রযুক্তি কেন্দ্রে স্থানীয় জ্ঞান ব্যবহারের নৈতিক নিয়ম আরও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের কোনও উদ্ভিদ বা বীজ নিয়ে গবেষণা হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি, জীবসম্পদ আইনের বিধান এবং সম্ভাব্য লাভ ভাগের ব্যবস্থা প্রয়োজন। গবেষণার নামে নির্বিচারে নমুনা সংগ্রহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে। আবার স্থানীয় কৃষককে অংশীদার করলে রোগনির্ণয় ও উন্নত চারা বাস্তব উপকার দিতে পারে।

নদিয়া ও কালিম্পংয়ে বিজ্ঞান-পরিকাঠামো ছড়িয়ে দেওয়া ইতিবাচক, কারণ উচ্চমানের বিজ্ঞানচর্চা কলকাতাকেন্দ্রিক থাকা উচিত নয়। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তর কোনও চলমান প্রতিষ্ঠান নয়। ব্যয়, সময়সীমা, যন্ত্রের তালিকা, কর্মী, পাঠক্রম এবং বার্ষিক ব্যবহার-লক্ষ্য প্রকাশ করলে ঘোষণাকে বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে মেলানো যাবে। ভবনের ছবির চেয়ে কত শিক্ষার্থী দূরবীক্ষণে আকাশ দেখল এবং কত স্থানীয় সমস্যার গবেষণা হল—সেটিই প্রকল্পের স্থায়ী মূল্য নির্ধারণ করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles