বুয়েনস আইরেসের চত্বরের নিচে নতুন মালবা: জাদুঘর বড় হচ্ছে, দায়ও

যা জানা জরুরি
- প্রতিবেদন: বুয়েনস আইরেসের লাতিন আমেরিকান শিল্পকলা জাদুঘর মালবা প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
- মেক্সিকান স্থপতি ফ্রিদা এসকোবেদোর নকশায় নতুন অংশটি পাশের প্লাসা পেরুর নিচে নির্মিত হবে।
- ২০২৭ সালে কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের শেষ অথবা ২০৩০ সালের শুরুতে উদ্বোধনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রতিবেদন: বুয়েনস আইরেসের লাতিন আমেরিকান শিল্পকলা জাদুঘর মালবা প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। মেক্সিকান স্থপতি ফ্রিদা এসকোবেদোর নকশায় নতুন অংশটি পাশের প্লাসা পেরুর নিচে নির্মিত হবে। ২০২৭ সালে কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের শেষ অথবা ২০৩০ সালের শুরুতে উদ্বোধনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বর্তমান ভবনের পাশে ভূগর্ভস্থ প্রদর্শনীকক্ষ তৈরির ফলে চত্বরের উপরিভাগ জনপরিসর হিসেবে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাকৃতিক আলো, পথচারীর চলাচল এবং পুরনো–নতুন ভবনের সংযোগ নকশার প্রধান প্রশ্ন। মাটির নিচে বড় জাদুঘরে জলরোধ, আর্দ্রতা, বায়ু চলাচল ও জরুরি নির্গমনও শিল্পসজ্জার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
মালবা ২০০১ সালে ব্যবসায়ী ও সংগ্রাহক এদুয়ার্দো কনস্তানতিনির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। ফ্রিদা কাহলো, দিয়েগো রিভেরা, তারসিলা দো আমারালসহ লাতিন আমেরিকার আধুনিক ও সমকালীন শিল্পীদের কাজ এর পরিচিত সংগ্রহে রয়েছে। সম্প্রসারণের পরে অস্থায়ী প্রদর্শনীর পাশাপাশি স্থায়ী সংগ্রহের আরও বড় অংশ দেখানো সম্ভব হবে।
নতুন পরিকল্পনার সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের দারোস লাতিনআমেরিকা সংগ্রহ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেই সংগ্রহে ১১৭ জন শিল্পীর ১,২৩২টি কাজ রয়েছে। মালবা এগুলি দীর্ঘমেয়াদে প্রদর্শন ও গবেষণার সুযোগ পেলে প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক পরিসর বাড়বে; তবে মালিকানা, ঋণ ও সংরক্ষণের শর্ত প্রকাশ করা প্রয়োজন।
প্রকল্পটির জন্য পাঁচ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনা হয়েছে। কনস্তানতিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে জাদুঘরের বার্ষিক ঘাটতির প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ ডলার তিনি বহন করেন। একজন প্রতিষ্ঠাতার দীর্ঘ সহায়তা প্রতিষ্ঠানকে স্থিতি দেয়, আবার নেতৃত্ব ও অর্থের অতিরিক্ত ব্যক্তিনির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ডলারনির্ভর নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় বড় প্রশ্ন। ভবন তৈরি করার অর্থ পাওয়া এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, কর্মী ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম বহু বছর চালানোর অর্থ এক নয়। নির্মাণ-তহবিলের পাশাপাশি পরিচালনার স্থায়ী উৎস দরকার।
প্লাসা পেরু ব্যবহারকারী স্থানীয় মানুষের মতও জরুরি। জনচত্বরের নিচে প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারিত হলে নির্মাণের সময় শব্দ, রাস্তা বন্ধ ও গাছের ক্ষতি হতে পারে। কাজ শেষে চত্বর আগের মতো বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য থাকবে কি না এবং জাদুঘরের বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান জনপরিসর সীমিত করবে কি না—পরিকল্পনায় তা পরিষ্কার হওয়া উচিত।
বিশ্লেষণ: বড় জাদুঘর মানেই বেশি সাংস্কৃতিক প্রবেশাধিকার নয়। নতুন কক্ষের সঙ্গে টিকিটের দাম, বিনামূল্যের দিন, বিদ্যালয়ের যাতায়াত এবং স্প্যানিশের পাশাপাশি অন্য ভাষায় ব্যাখ্যার ব্যবস্থা না-বাড়লে ভবন বড় হলেও দর্শকের সামাজিক পরিসর একই থাকতে পারে।
এসকোবেদোর ভূগর্ভস্থ নকশার সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা হল জাদুঘর ও চত্বরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না-করা। সফল হলে উপরে শহর, নিচে শিল্প—দুটি জনজীবন পাশাপাশি থাকবে। ব্যর্থ হলে জনপরিসরের নিচে ব্যয়বহুল সাংস্কৃতিক দ্বীপ তৈরি হবে। নকশার সৌন্দর্যের পাশাপাশি অর্থায়ন ও নাগরিক অধিকারের স্বচ্ছতাই প্রকল্পের প্রকৃত মান নির্ধারণ করবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



