ক্যানসার শনাক্তে নতুন এমআরআই রঞ্জক

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: ফুসফুসের এক মিলিমিটার আকারের টিউমার এবং শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র ক্যানসার এমআরআই ছবিতে শনাক্ত করার একটি প্রোটিনভিত্তিক রঞ্জক তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের…
- ১১ সেপ্টেম্বর সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত গবেষণায় hProCA32.Collagen2 নামের পরীক্ষামূলক বৈপরীত্য-বর্ধক পদার্থটি প্রাণী-মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে।
- ফল আশাব্যঞ্জক হলেও মানুষের রোগনির্ণয়ে ব্যবহারের অনুমোদন এখনও নেই।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: ফুসফুসের এক মিলিমিটার আকারের টিউমার এবং শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র ক্যানসার এমআরআই ছবিতে শনাক্ত করার একটি প্রোটিনভিত্তিক রঞ্জক তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। ১১ সেপ্টেম্বর সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত গবেষণায় hProCA32.Collagen2 নামের পরীক্ষামূলক বৈপরীত্য-বর্ধক পদার্থটি প্রাণী-মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে। ফল আশাব্যঞ্জক হলেও মানুষের রোগনির্ণয়ে ব্যবহারের অনুমোদন এখনও নেই।
বর্তমানে ফুসফুসের ক্যানসার পরীক্ষায় কম মাত্রার সিটি স্ক্যান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সিটি স্ক্যানে আয়নিত বিকিরণ লাগে, আর সাধারণ এমআরআইয়ে বাতাসভরা ফুসফুসের পরিষ্কার ছবি পাওয়া কঠিন। নতুন পদার্থটি প্রথম ধরনের কোলাজেনকে লক্ষ্য করে। আক্রমণাত্মক টিউমার ও মেটাস্টেসিসের আশপাশের কাঠামোয় এই প্রোটিনের উপস্থিতি তুলনায় বেশি হতে পারে।
রঞ্জকটির প্রোটিন অংশে গ্যাডোলিনিয়ামজাত সংকেত-বর্ধক উপাদান এমনভাবে বাঁধা হয়েছে, যাতে লক্ষ্যবস্তুর কাছে জমে এমআরআইয়ের বৈপরীত্য বাড়ে। পরীক্ষাগারে কোষ এবং প্রাণীর ফুসফুসের ক্যানসার-মডেলে গবেষকেরা প্রাথমিক টিউমারের পাশাপাশি যকৃৎ, হাড় বা অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র ক্ষত দেখতে পেয়েছেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে শনাক্ত করা সবচেয়ে ছোট ক্ষতের ব্যাস প্রায় এক মিলিমিটার।
কোলাজেনের পুনর্গঠন দেখা গেলে শুধু টিউমারের অবস্থান নয়, তার চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ক্যানসার বাড়ার সময়ে পুরনো কোলাজেন ভেঙে নতুন তন্তু বিশেষ বিন্যাসে তৈরি হয়। গবেষকদের দাবি, এই পরিবর্তন আক্রমণাত্মকতা, ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা এবং চিকিৎসায় সাড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে। কিন্তু কোনও এমআরআই-ছবি একাই কোষের ধরন নিশ্চিত করে না; সন্দেহজনক ক্ষতে জীবকলা পরীক্ষা এখনও প্রয়োজন হতে পারে।
গবেষণার নেতৃত্বে থাকা জেনি ইয়াং ইনলাইটা বায়োসায়েন্সেসের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক আধিকারিক। প্রতিষ্ঠানটি পদার্থটির বাণিজ্যিক উন্নয়ন করছে। তাই ‘যুগান্তকারী’ বা জীবকলা পরীক্ষার প্রয়োজন কমিয়ে দেওয়ার মতো বক্তব্যকে কোম্পানির প্রত্যাশা হিসেবেই পড়তে হবে। মূল গবেষণা প্রাণীর উপর; মানুষের শরীরে নিরাপত্তা, সঠিক মাত্রা, কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশন এবং ভুল ইতিবাচক সংকেতের হার অজানা।
বিশেষত গ্যাডোলিনিয়ামযুক্ত রঞ্জক ব্যবহারে কিডনির গুরুতর অসুখ থাকা রোগীর ঝুঁকি আলাদাভাবে বিচার করতে হয়। নতুন প্রোটিন কাঠামো অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিরোধ-প্রতিক্রিয়া ঘটায় কি না, বারবার ব্যবহারে জমে থাকে কি না এবং সাধারণ প্রদাহ বা ফাইব্রোসিসকেও ক্যানসার বলে দেখায় কি না—মানব-পরীক্ষায় এগুলি যাচাই দরকার।
বিশ্লেষণ: প্রযুক্তিটির সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা বিকিরণ ছাড়াই একই রোগীর টিউমারের গঠন বারবার পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু এক মিলিমিটার ক্ষত দেখা এবং সেই ক্ষত চিকিৎসার প্রয়োজন এমন ক্যানসার বলে প্রমাণ করা এক কথা নয়। অতিরিক্ত সংবেদনশীল পরীক্ষা ক্ষতিহীন অস্বাভাবিকতা ধরে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও উদ্বেগ বাড়াতে পারে। মানব-পরীক্ষায় বর্তমান সিটি স্ক্যানের সঙ্গে সরাসরি তুলনা, মৃত্যুহার বা চিকিৎসার ফল বদলের প্রমাণ এবং স্বাধীন পুনরাবৃত্তির আগে এটি সম্ভাবনাময় গবেষণা—প্রস্তুত রোগনির্ণয় নয়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য সতর্কতা: এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। পরীক্ষা বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিবন্ধিত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।



