ঝিরম ঘাটি হত্যাকাণ্ডে দশ মাওবাদীর মৃত্যুদণ্ড, চূড়ান্ত নয় বিশেষ আদালতের রায়

যা জানা জরুরি
- ছত্তীসগঢ়ের ঝিরম ঘাটিতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কনভয়ে ২০১৩ সালের মাওবাদী হামলার মামলায় দশজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জগদলপুরের বিশেষ এনআইএ আদালত।
- বিচারক অজয় সিং রাজপুত ১৬ সেপ্টেম্বর সাজা ঘোষণা করেন।
- আদালত এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর দশ অভিযুক্তকে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ছত্তীসগঢ়ের ঝিরম ঘাটিতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কনভয়ে ২০১৩ সালের মাওবাদী হামলার মামলায় দশজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জগদলপুরের বিশেষ এনআইএ আদালত। বিচারক অজয় সিং রাজপুত ১৬ সেপ্টেম্বর সাজা ঘোষণা করেন। আদালত এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর দশ অভিযুক্তকে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
২০১৩ সালের ২৫ মে বস্তার ও সুকমা জেলার সীমান্তবর্তী ঝিরম ঘাটিতে কংগ্রেসের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ থেকে ফেরা প্রায় ২০টি গাড়ির কনভয়ে হামলা হয়েছিল। তদন্তকারীদের হিসাবে দেড়শোর বেশি সশস্ত্র মাওবাদী রাস্তায় গাছ ও গাড়ি ফেলে পথ আটকায়, বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পাহাড়ের দিক থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা গুলি ও গ্রেনেড ছোড়ে।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নন্দকুমার পটেল, তাঁর ছেলে দীনেশ পটেল, প্রাক্তন বিধায়ক উদয় মুদলিয়ার এবং সালওয়া জুডুম প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া মহেন্দ্র কর্মা। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিদ্যাচরণ শুক্ল পরে আহত অবস্থায় মারা যান। বিভিন্ন নথিতে তাৎক্ষণিক ও পরবর্তী মৃত্যু আলাদাভাবে গণনা হওয়ায় নিহতের সংখ্যা ২৭ থেকে ২৯ বলা হয়। আহত হয়েছিলেন অন্তত ৩৮ জন।
আদালতে দণ্ডিত দশজনের মধ্যে প্রমীলা মোদিয়াম, চৈতু লেকাম ওরফে মুন্না, সুমিতা ওরফে পুনেম মোদিয়াম, মুক্কা মান্ডভি এবং কোসা কাভাসি রয়েছেন। একজন অভিযুক্ত বিচার চলাকালে মারা যান। অভিযোগপত্রে নাম থাকা আরও ২৮ জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। তাঁদের কয়েকজন পরে আত্মসমর্পণ করেছেন বা সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন; বর্তমান মামলায় প্রত্যেকের অবস্থান পৃথকভাবে হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
হামলার দু’দিন পরে তদন্তভার নিয়েছিল জাতীয় তদন্ত সংস্থা। প্রথম অভিযোগপত্র জমা পড়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে; পরের বছর অতিরিক্ত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিচার চলেছে এক দশকের বেশি সময় এবং অন্তত ২৯৪টি শুনানি হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় প্রমাণ ও সাক্ষীর নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা বিচারব্যবস্থার একটি বড় পরীক্ষা।
বিশেষ আদালতের মৃত্যুদণ্ড এখনই কার্যকর হওয়ার নয়। আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন এবং দণ্ডিতদেরও আপিলের অধিকার রয়েছে। উচ্চ আদালত সাক্ষ্য, প্রত্যেক অভিযুক্তের নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং মৃত্যুদণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় ‘বিরলতমের মধ্যে বিরল’ মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করবে। অতএব বর্তমান ফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়।
হামলার ভয়াবহতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। একই সঙ্গে দলগত অভিযোগের বদলে দশজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কী প্রমাণ রয়েছে, সেটি আলাদাভাবে টেকা দরকার। মাওবাদী সংগঠনের সদস্যপদ বা একই এলাকার বাসিন্দা হওয়া এবং নির্দিষ্ট হামলায় প্রমাণিত অংশগ্রহণ এক বিষয় নয়।
বিশ্লেষণ: তেরো বছর পরে সাজা নিহতদের পরিবারের জন্য কিছু বিচারিক স্বীকৃতি আনতে পারে। কিন্তু পলাতক অভিযুক্ত, হামলার গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক কনভয়ের নিরাপত্তার ঘাটতির প্রশ্ন এখনও বহাল। মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা দিয়ে মামলার পূর্ণ সাফল্য মাপা যাবে না। উচ্চ আদালতে টেকসই প্রমাণ, নিরপরাধকে বাদ দেওয়ার নিশ্চয়তা এবং বস্তারে সহিংসতা তৈরির রাজনৈতিক–সামাজিক পরিস্থিতির মোকাবিলা—তিনটিই প্রয়োজন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



