সংস্কৃতি ও বিনোদন

অভিযুক্তের পক্ষে দাঁড়ানো আইনজীবী যখন নিজেই অভিযোগকারী

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • যৌন হিংসায় অভিযুক্ত পুরুষদের হয়ে আদালতে যুক্তি সাজানো, সাক্ষ্যের ফাঁক খুঁজে বার করা এবং অভিযোগকারীর স্মৃতি পরীক্ষা করা তাঁর দৈনন্দিন কাজ।
  • এক সহকর্মীর হাতে নিজে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরে সেই একই বিচারব্যবস্থায় তাঁকে অভিযোগকারী হয়ে ফিরতে হয়।
  • সুজি মিলারের নাটক অবলম্বনে নির্মিত প্রাইমা ফেসি-র চলচ্চিত্র সংস্করণে এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিনথিয়া এরিভো।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

টেসা সফল ফৌজদারি আইনজীবী। যৌন হিংসায় অভিযুক্ত পুরুষদের হয়ে আদালতে যুক্তি সাজানো, সাক্ষ্যের ফাঁক খুঁজে বার করা এবং অভিযোগকারীর স্মৃতি পরীক্ষা করা তাঁর দৈনন্দিন কাজ। এক সহকর্মীর হাতে নিজে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরে সেই একই বিচারব্যবস্থায় তাঁকে অভিযোগকারী হয়ে ফিরতে হয়। সুজি মিলারের নাটক অবলম্বনে নির্মিত প্রাইমা ফেসি-র চলচ্চিত্র সংস্করণে এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিনথিয়া এরিভো।

১৩ সেপ্টেম্বর টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির প্রদর্শন উপলক্ষে এরিভো বলেছেন, যৌন সম্মতি ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে ছবিটি কথোপকথন তৈরি করুক—এটাই তাঁর আশা। পরিচালনা করেছেন সুজানা হোয়াইট। টেসার সহকর্মীর ভূমিকায় ড্যানিয়েল ইংস। চরিত্রটির কাজ শুধু একটি ব্যক্তিগত বিপর্যয় দেখানো নয়; আইন যে ধরনের ‘বিশ্বাসযোগ্য’ আচরণ, স্মৃতি ও প্রমাণ প্রত্যাশা করে, বাস্তব মানসিক আঘাত তার সঙ্গে কতবার মেলে না, ছবিটি তা পরীক্ষা করে।

মূল নাটকটি একক অভিনয় হিসেবে মঞ্চে বিপুল সাড়া পেয়েছিল। জোডি কোমার অভিনীত মঞ্চ-সংস্করণ ওয়েস্ট এন্ড ও ব্রডওয়েতে যায় এবং পুরস্কার পায়। চলচ্চিত্রে গল্পের পরিসর বাড়ানো হয়েছে; অন্য চরিত্রেরা দৃশ্যমান হয়েছে এবং আদালতের বাইরের সম্পর্কগুলিও জায়গা পেয়েছে। এই সম্প্রসারণের সুবিধা হল সামাজিক কাঠামোটি স্পষ্ট করা। ঝুঁকি হল, একক কণ্ঠের তীব্রতা বহু চরিত্রের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে।

এরিভোর মতে, এই গল্পের আলোচনায় পুরুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। ইংসও বলেছেন, কঠিন চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও কাহিনিটির প্রয়োজনীয়তার কারণে তিনি কাজটি গ্রহণ করেছেন। নির্মাতাদের এই অবস্থান ছবির প্রচারের অংশ হলেও এর একটি বৃহত্তর তাৎপর্য আছে: যৌন হিংসা শুধু নারীর অভিজ্ঞতা নিয়ে নারীদের আলোচনা নয়; সম্মতি শেখানো, কর্মক্ষেত্রের আচরণ বদলানো এবং দায়বদ্ধতা তৈরিতে পুরুষদের ভূমিকা রয়েছে।

তবে কোনও চলচ্চিত্র নিজে থেকে আইন বদলে দেয় না। ছবিটি জনমত তৈরি করতে পারে, কিন্তু ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের মামলায় তদন্তের গুণমান, ফরেনসিক পরিষেবা, সাক্ষ্যগ্রহণের পদ্ধতি এবং অভিযোগকারীর সুরক্ষা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান ও আইনের উপর। দর্শকের আবেগ এবং বিচারিক সংস্কারকে একই জিনিস ধরে নেওয়া যাবে না।

আরও একটি সতর্কতা প্রয়োজন। টেসা কাল্পনিক চরিত্র; তাঁর অভিজ্ঞতা প্রতিটি নির্যাতিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। স্মৃতি, প্রতিক্রিয়া এবং অভিযোগ জানানোর সময় একেক মানুষের ক্ষেত্রে একেক রকম। ‘আদর্শ অভিযোগকারী’ তৈরির চেষ্টা ছবিটির বক্তব্যেরই বিরোধী হবে।

প্রাইমা ফেসি-র শক্তি তাই একটি ভূমিকা উল্টে দেওয়ায়। যে নারী এত দিন আইনের ভাষা ব্যবহার করে অন্যের সাক্ষ্য যাচাই করতেন, তাঁকেই এখন বুঝতে হয় আইনগত সত্য ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে কতটা দূরত্ব থাকতে পারে। চলচ্চিত্রটি সেই দূরত্ব দৃশ্যমান করতে পারলে আলোচনা শুধু পর্দায় থামবে না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles