খবর

পুজোর ভিড় সামলাতে দশ জোড়া বিশেষ ট্রেন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • দুর্গাপুজো, দীপাবলি ও ছটের অতিরিক্ত যাত্রী সামলাতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দশ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে পূর্ব রেল।
  • প্রতিমা বিসর্জনের দিনগুলিতে কয়েকটি লোকাল ট্রেনের সময় ও চলাচলেও পরিবর্তন আনা হবে।
  • উৎসবের মরসুমে টিকিটের চাহিদা, দূরপাল্লার যাত্রা এবং শহরতলির রাতের ভিড়—এই তিন চাপ সামলাতেই ব্যবস্থা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

দুর্গাপুজো, দীপাবলি ও ছটের অতিরিক্ত যাত্রী সামলাতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দশ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে পূর্ব রেল। প্রতিমা বিসর্জনের দিনগুলিতে কয়েকটি লোকাল ট্রেনের সময় ও চলাচলেও পরিবর্তন আনা হবে। উৎসবের মরসুমে টিকিটের চাহিদা, দূরপাল্লার যাত্রা এবং শহরতলির রাতের ভিড়—এই তিন চাপ সামলাতেই ব্যবস্থা।

দশ জোড়া মানে কুড়িটি আলাদা রেলগাড়ি নয়; প্রতিটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়া ও ফেরার পরিষেবাকে এক জোড়া বলা হয়। কোন ট্রেন কত দিন চলবে, কোথায় থামবে এবং সাধারণ ভাড়ার সঙ্গে বিশেষ ভাড়ার পার্থক্য আছে কি না—টিকিট কাটার আগে যাত্রীকে পৃথক সময়সূচি দেখতে হবে। উৎসবের ঘোষণা শুনে প্রতিদিন একই পরিষেবা পাওয়া যাবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি কলকাতা স্টেশন থেকে গুজরাতের সোমনাথগামী একটি তীর্থযাত্রী ট্রেন চালু হয়েছে। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ শনিবার সেটির সূচনা করেন। ট্রেনটির ১৪ সেপ্টেম্বর সোমনাথে পৌঁছনো এবং ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় ফেরার কথা। ধর্মীয় পর্যটনকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও রেলের যৌথ উদ্যোগের এটি একটি দৃশ্যমান উদাহরণ।

পুজোর সময়ে প্রধান সমস্যা শুধু দূরপাল্লার সংরক্ষিত টিকিট নয়। শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখার লোকাল ট্রেনে গভীর রাত পর্যন্ত যাত্রী থাকে। বিসর্জনের কারণে নদীর ঘাটমুখী রাস্তা ও রেলপথে নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হয়। কোনও লোকাল বাতিল বা সংক্ষিপ্ত পথে চালালে আগাম ঘোষণা এবং বিকল্প পরিষেবা জরুরি।

বিশেষ ট্রেন ঘোষণা করলেও বাস্তব সুবিধা নির্ভর করে সময়নিষ্ঠা ও কামরার অবস্থার উপর। উৎসবের ভিড়ে নিয়মিত ট্রেনের ফাঁকে অতিরিক্ত গাড়ি চালাতে গিয়ে অনেক সময় দীর্ঘ বিলম্ব হয়। পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, রেলপুলিশ এবং মহিলা ও প্রবীণ যাত্রীর নিরাপত্তাও পরিকল্পনার অংশ হওয়া দরকার।

টিকিটের দালাল ও ভুয়ো সংরক্ষণ উৎসবের আর একটি পরিচিত সমস্যা। অতিরিক্ত ট্রেনের আসন অনলাইনে খোলার নির্দিষ্ট সময় জানানো এবং অস্বাভাবিক একাধিক বুকিং শনাক্ত করা গেলে সাধারণ যাত্রী লাভবান হবেন। শুধু ট্রেনের সংখ্যা ঘোষণা করে আসন দালালের হাতে গেলে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।

রেলের জন্য উৎসবের ভিড় বাণিজ্যিক সুযোগ, আবার জনপরিষেবার পরীক্ষাও। কলকাতাকেন্দ্রিক পুজোর প্রচারের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, সীমান্তবর্তী জেলা এবং বিহার-ঝাড়খণ্ডমুখী শ্রমজীবী যাত্রীর চাহিদা হিসাব করা প্রয়োজন।

দশ জোড়া বিশেষ ট্রেন কিছু চাপ কমাবে, কিন্তু কয়েক কোটি মানুষের চলাচলের সম্পূর্ণ সমাধান নয়। যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হবে একটি নিয়মিত হালনাগাদ সময়সূচি—কোন ট্রেন চলছে, কোথায় আসন রয়েছে এবং কোন লোকালের সময় বদলেছে, সব তথ্য একই জায়গায় পাওয়া গেলে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles