ভোটের আগে চার রাজ্যে এগিয়ে আনা হল জনগণনা, মণিপুরে স্থগিত

যা জানা জরুরি
- আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে—এমন চার রাজ্যে ২০২৭ সালের জনগণনার জনসংখ্যা গণনা পর্ব এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।
- উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, গোয়া এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারপাতহীন এলাকায় এই কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর।
- তবে নির্বাচনমুখী আর এক রাজ্য মণিপুরে জনগণনার কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে—এমন চার রাজ্যে ২০২৭ সালের জনগণনার জনসংখ্যা গণনা পর্ব এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, গোয়া এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারপাতহীন এলাকায় এই কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর। চলবে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে নির্বাচনমুখী আর এক রাজ্য মণিপুরে জনগণনার কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সংশোধনের আগে জনগণনা করা যাবে না—এই দাবিতে আন্দোলন ও বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত।
ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চার রাজ্যের বাসিন্দারা ১৬ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিজেরাই অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন। তার পরে ১ ডিসেম্বর থেকে গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে সংশোধনী পর্ব। এই সময়ে কোনও পরিবারে জন্ম, মৃত্যু বা স্থানান্তরের মতো পরিবর্তন ঘটলে জনগণনার নথি সংশোধন করা হবে।
চার রাজ্যের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার নির্ধারক তারিখ রাখা হয়েছে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি রাত বারোটা। অর্থাৎ ওই মুহূর্তে দেশের যে নাগরিক যেখানে সাধারণভাবে বসবাস করবেন, তাঁকে সেখানকার জনসংখ্যার অন্তর্ভুক্ত বলে ধরা হবে। দেশের বাকি অংশে এই নির্ধারক তারিখ ২০২৭ সালের ১ মার্চ। লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলে নির্ধারক তারিখ ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর।
২০২৭ সালের প্রথমার্ধেই গোয়া, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। জনগণনা এবং নির্বাচন—দুই কাজেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ও রাজ্য সরকারি কর্মীকে নিয়োগ করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে জনগণনা হলে নির্বাচনী প্রস্তুতির সঙ্গে তার সংঘাত তৈরি হতে পারত। তাই ভোটের আগে জনসংখ্যা গণনা শেষ করে প্রশাসনিক কর্মীদের নির্বাচনের কাজে ব্যবহারের পথ খোলা রাখা হয়েছে। এর ফলে চার রাজ্যের নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হল।
কিন্তু মণিপুরের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে মেইতেই ও নাগা নাগরিক সংগঠনগুলির একাংশ দাবি করেছে, প্রথমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সংশোধন করে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে হবে; তার পরেই জনগণনা করা যেতে পারে। জনগণনা স্থগিত রাখার দাবিতে বন্ধ, বাজার বন্ধ এবং বিক্ষোভ হয়েছে। নাগা সংগঠনগুলির একটি শীর্ষ মঞ্চ গ্রামবাসীদের জনগণনাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা না করার নির্দেশও দিয়েছিল। অন্যদিকে কুকি-জো পরিষদ নাগরিকপঞ্জির দাবিকে ‘অসময়োচিত ও অযৌক্তিক’ বলে জনগণনা চালানোর পক্ষে মত দিয়েছিল।
এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে কেন্দ্র মণিপুরে জনগণনা “পরবর্তী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত” স্থগিত রেখেছে। ফলে ভোটের আগে রাজ্যটির জনসংখ্যা গণনা আদৌ শুরু হবে কি না, তা অনিশ্চিত। কোভিড অতিমারির কারণে ২০২১ সালের জনগণনা পিছিয়ে যাওয়ায় ২০২৭ সালের এই গণনাই হবে ষোলো বছর পরে ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জনগণনা। একই সঙ্গে এটিই দেশের প্রথম জনগণনা, যেখানে বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



