নিশ্চিত টিকিটের টোপে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, রাউরকেলা স্টেশনে গ্রেফতার রেলকর্মী

যা জানা জরুরি
- রাউরকেলা রেলস্টেশনে নিশ্চিত টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক মহিলা যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রেলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
- অভিযুক্ত ৫৪ বছরের কপিলেশ্বর সিংহ রেলের ‘ইনস্পেক্টর অব ওয়ার্কস’ বিভাগের ভাল্ভম্যান পদে কর্মরত।
- মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে সরকারি রেল পুলিশ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
রাউরকেলা রেলস্টেশনে নিশ্চিত টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক মহিলা যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল রেলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ৫৪ বছরের কপিলেশ্বর সিংহ রেলের ‘ইনস্পেক্টর অব ওয়ার্কস’ বিভাগের ভাল্ভম্যান পদে কর্মরত। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে সরকারি রেল পুলিশ। পরে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করানো হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ওড়িশার নুয়াপাড়া জেলার বাসিন্দা। কাজের জন্য দুই তুতো ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার তাঁরা তিতলাগড় থেকে ভুল করে হাতিয়াগামী একটি ট্রেনে উঠে পড়েন। ভুল বুঝতে পেরে অন্য একটি ট্রেনে রাউরকেলার উদ্দেশে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ তাঁরা রাউরকেলা স্টেশনে পৌঁছন।
বেঙ্গালুরু যাওয়ার জন্য তিন জনের কারও কাছেই নিশ্চিত আসন-সহ টিকিট ছিল না। ওই মহিলার দুই সঙ্গী টিকিট সংরক্ষণের বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে তিনি প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় রেলকর্মী কপিলেশ্বর তাঁর কাছে এসে নিশ্চিত টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। রেলের কর্মী হওয়ায় মহিলা তাঁর কথায় বিশ্বাস করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, টিকিটের ব্যবস্থা করার কথা বলে কপিলেশ্বর তাঁকে এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে আধিকারিকদের বিশ্রামাগারের কাছে একটি ঘরে নিয়ে যান। ভিতরে ঢোকার পরে অভিযুক্ত দরজা বন্ধ করে মহিলাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পরে মুখ বন্ধ রাখার জন্য অভিযুক্ত তাঁকে দু’হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ফল ভাল হবে না বলে হুমকিও দেন বলে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন নির্যাতিতা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দ্বিতীয় বার তাঁর উপর নির্যাতনের চেষ্টা করলে মহিলা কোনও ভাবে ঘর থেকে পালিয়ে আসেন। পরে তিনি দুই সঙ্গীকে গোটা ঘটনা জানান। তিন জন সরাসরি সরকারি রেল পুলিশের থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
উপপরিদর্শক কৈলাস মুন্ডার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করে। মহিলার দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে ডিউটিতে থাকা কর্মীর পরিচয় মেলাতে রেলের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়। অভিযোগকারিণী কপিলেশ্বরকে শনাক্ত করার পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মহিলাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাউরকেলা সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(২)(বি) ধারায় ১২৬/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করেছে রেল পুলিশ। ঘটনার সময় ঘরের আশপাশে কারা ছিলেন, নজরদারি ক্যামেরার কোনও দৃশ্য পাওয়া যায় কি না এবং অভিযুক্ত নিজের সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে আগেও কোনও যাত্রীকে প্রতারণা করেছেন কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চক্রধরপুর রেল বিভাগের আধিকারিক আদিত্য চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ রাউরকেলা স্টেশনে রেল সুরক্ষা বাহিনী ও রেল পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এমন অভিযোগ ওঠায় যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং রেলকর্মীদের চলাচল-সংক্রান্ত নজরদারি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



