মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক দেওয়ালে সাদা রং

যা জানা জরুরি
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মন্তব্যের এক দিনের মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বিভিন্ন দেওয়ালে আঁকা রাজনৈতিক চিত্র ও স্লোগান সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হল।
- শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ নিযুক্ত এক ঠিকাদারের কর্মীরা অধিকাংশ দেওয়াললিখন মুছে দেন বলে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের একাংশ জানিয়েছেন।
- বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মন্তব্যের এক দিনের মধ্যেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বিভিন্ন দেওয়ালে আঁকা রাজনৈতিক চিত্র ও স্লোগান সাদা রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া হল। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ নিযুক্ত এক ঠিকাদারের কর্মীরা অধিকাংশ দেওয়াললিখন মুছে দেন বলে শিক্ষক ও পড়ুয়াদের একাংশ জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।
শুক্রবার যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে মাওবাদী, প্যালেস্তাইনপন্থী কিংবা কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী শক্তির ‘অবাধ বিচরণক্ষেত্র’ হয়ে থাকতে দেওয়া হবে না। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার আড়ালে ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে এমন কিছু রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।
তার পরের সকালেই দেওয়ালচিত্র মুছে ফেলার কাজ শুরু হওয়ায় দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নিযুক্ত ঠিকাদার শনিবার সকালে অধিকাংশ রাজনৈতিক দেওয়াললিখন সাদা রং দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ চায় না, বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন কোনও বিতর্ক তৈরি হোক। এখনও পর্যন্ত কোনও ছাত্র সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানায়নি।”
মুছে দেওয়া দেওয়ালচিত্রগুলির মধ্যে ছিল চার্লি চ্যাপলিনের একটি প্রতিকৃতি। তার নীচে ইংরেজিতে লেখা ছিল—“ফ্যাসিবাদ নিয়ে বিতর্ক নয়, তাকে চূর্ণ করতে হবে।” এ ছাড়া প্যালেস্তাইনের প্রতি সংহতি, রাষ্ট্রীয় দমননীতির বিরোধিতা, কাশ্মীর এবং বিভিন্ন বামপন্থী আন্দোলন সম্পর্কিত একাধিক স্লোগানও সাদা রঙের নীচে চাপা পড়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের দাবি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াললিখন ও ায়োজিতদেওয়ালচিত্রের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছাত্র আন্দোলন, আন্তর্জাতিক সংঘাত, নাগরিক অধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে এই দেওয়ালগুলি। ফলে সেগুলি মুছে দেওয়াকে নিছক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হিসেবে দেখতে নারাজ পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ। তাঁদের মতে, দেওয়ালচিত্রের বক্তব্য নিয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তা আলোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা না করে রং দিয়ে ঢেকে দেওয়া মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত করার ইঙ্গিত।
অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ মনে করছে, ক্যাম্পাসের দেওয়াল যথেচ্ছ রাজনৈতিক প্রচারের জায়গা হতে পারে না। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আঁকা ছবি বা লেখা সরিয়ে দেওয়াকে প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা উচিত। তবে ঠিক কোন নির্দেশে, কতগুলি দেওয়ালচিত্র মুছে দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন কোনও দেওয়ালনীতি তৈরি করছে কি না—রবিবার পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়নি।
ছাত্র সংগঠনগুলি আপাতত প্রকাশ্যে আন্দোলনে না নামলেও, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রগোষ্ঠীর মধ্যে আলোচনা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই এই পদক্ষেপ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি প্রশ্ন আবার সামনে এসে পড়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



