বাংলার ফুটবলারদের জাতীয় দলে দেখতে চান শুভেন্দু, মেসি-কাণ্ডকে বললেন ‘বড় কেলেঙ্কারি’

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতায় জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলার খেলাধুলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- রাজ্য থেকে আরও বেশি ফুটবলার যাতে ভারতীয় দলে সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খানকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি।
- শুধু ফুটবল নয়, কমনওয়েলথ গেমস এবং দক্ষিণ এশীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাংলার খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতায় জাতীয় ক্রীড়া দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলার খেলাধুলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য থেকে আরও বেশি ফুটবলার যাতে ভারতীয় দলে সুযোগ পান, তা নিশ্চিত করার জন্য ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খানকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি। শুধু ফুটবল নয়, কমনওয়েলথ গেমস এবং দক্ষিণ এশীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাংলার খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রবিবারের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, একসময় ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে বাংলার নাম প্রায় সমার্থক ছিল। কলকাতার তিন প্রধান—মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহামেডান স্পোর্টিং—দেশের ফুটবল ইতিহাসে অসামান্য অবদান রেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে বাংলার ফুটবলারদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছয়নি। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রতিভা চিহ্নিতকরণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, উন্নত পরিকাঠামো এবং জেলা স্তর থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা দরকার।
ক্রীড়ামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে, বাংলা থেকে ফুটবলাররা জাতীয় দলে জায়গা পান।” একই সঙ্গে ফুটবল ছাড়াও অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, তিরন্দাজি, জিমন্যাস্টিক্স এবং অন্যান্য খেলায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, প্রতিভার অভাব বাংলায় নেই; প্রয়োজন সঠিক সময়ে সেই প্রতিভাকে চিহ্নিত করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দেওয়া।
এ দিনের বক্তৃতায় গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর সল্টলেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। ঘটনাটিকে তিনি একটি “বড় কেলেঙ্কারি” বলে বর্ণনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, অত্যন্ত চড়া দামে টিকিট কেনা সত্ত্বেও প্রায় ৩৩ হাজার তরুণ ফুটবলপ্রেমী আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি তারকাকে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। এই ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং দর্শকদের স্বার্থরক্ষা আবশ্যক বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, “ফুটবলপ্রেমীদের আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য আমি ইতিমধ্যেই একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু করেছি।” তবে সেই প্রক্রিয়ার প্রকৃতি, সম্ভাব্য পরিকল্পনা কিংবা কবে তা কার্যকর হবে—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন কোনও আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা, বিদেশি দলের সফর অথবা নামী ফুটবলারদের নিয়ে প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্য সরকার একদিকে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, অন্যদিকে বাংলার নিজস্ব খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করতে চায়। তবে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় দলে বাংলার প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হলে ঘোষণার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিদ্যালয় স্তরের প্রতিযোগিতা, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, পুষ্টি, চিকিৎসা এবং পেশাদার প্রশিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয় ক্রীড়া দিবসের মঞ্চ থেকে শুভেন্দুর বার্তা তাই দ্বিমুখী—ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন এবং বাংলার প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার দরজা খুলে দেওয়া। এখন ক্রীড়া দফতর সেই লক্ষ্য পূরণে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রীড়ামহলের।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



