‘মানবতা কোথায়?’ জেলে ইমরান খানের উপর নির্যাতনের অভিযোগ ছেলেদের

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: পাকিস্তানের কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উপর ‘নিঃসঙ্গ কারাবাস’ এবং দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন করে রাখার মাধ্যমে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন তাঁর…
- বাবার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিরপেক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
- আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম প্রশ্ন তোলেন, “কাউকে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়া, ছোট ছোট কৌশলে নির্যাতন করা, বই পড়তে…
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: পাকিস্তানের কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উপর ‘নিঃসঙ্গ কারাবাস’ এবং দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন করে রাখার মাধ্যমে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলেমান খান। বাবার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিরপেক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য তথ্য প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিম প্রশ্ন তোলেন, “কাউকে ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়া, ছোট ছোট কৌশলে নির্যাতন করা, বই পড়তে না দেওয়া, সন্তানদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে না দেওয়া এবং দিনের ২৩ ঘণ্টা একটি বিচ্ছিন্ন কক্ষে আটকে রাখা—এর মধ্যে মানবতা কোথায়?”
সুলেমানের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একা ও বিচ্ছিন্ন করে রেখে তাঁর বাবাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই, স্বাধীন চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন। সরকার বলছে, তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভাল। সেই দাবির পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ চাই।”
সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ ১৮ আগস্ট ইমরানকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনালে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল বলে দাবি করেন সুলেমান। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে একটি সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পরীক্ষার পরে তাঁকে আবার সরাসরি কারাকক্ষে ফিরিয়ে আনা হয়।
পাকিস্তান সরকার অবশ্য ইমরানের সঙ্গে কোনও ধরনের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে। পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক জানিয়েছে, ইমরানের অসুস্থতা নিয়ে প্রকাশিত খবরের কোনও সমর্থন কারাগারের নথি বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এই বক্তব্যের জবাবে সুলেমান প্রশ্ন তোলেন, “তা হলে তারা কী লুকোচ্ছে? আমরা প্রমাণ দেখতে চাই যে তিনি সত্যিই সুস্থ আছেন।”
কাসিমের দাবি, ইমরান হৃদ্কম্পন এবং তীব্র উদ্বেগে ভুগছেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তিনি আমার দেখা সবচেয়ে শান্ত, স্থির, মানসিকভাবে দৃঢ় ও কঠিন মানুষ। সেই মানুষটি উদ্বেগ বা মানসিক চাপে ভুগছেন—এ কথা শোনা আমাদের কাছে প্রায় অকল্পনীয়।”
কাসিম জানান, তাঁরা এখন যত বেশি সম্ভব মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন, যাতে বিশ্ব পাকিস্তান সরকারের দুর্নীতি এবং আইনের শাসনের প্রতি তাদের ‘সম্পূর্ণ অশ্রদ্ধা’ দেখতে পায়।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ইমরান খান ২০২২ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে সরকারি উপহার বিক্রি—এমন একশোরও বেশি মামলায় ইমরান অভিযুক্ত হয়েছেন। তবে সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করে সেগুলিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



