নেপালের বন্যায় বিপর্যস্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, ভারতে সরবরাহ কমে অর্ধেক

যা জানা জরুরি
- নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দেবীঘাট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র।
- একাধিক উৎপাদনকেন্দ্র ও সঞ্চালন পরিকাঠামোয় আঘাত আসায় প্রতিবেশী দেশটি থেকে ভারতের বিদ্যুৎ আমদানিও কমেছে।
- মানুষের প্রাণহানি, জনপদ ধ্বংস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি এই বিপর্যয় নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আন্তঃদেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দেবীঘাট জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। একাধিক উৎপাদনকেন্দ্র ও সঞ্চালন পরিকাঠামোয় আঘাত আসায় প্রতিবেশী দেশটি থেকে ভারতের বিদ্যুৎ আমদানিও কমেছে। মানুষের প্রাণহানি, জনপদ ধ্বংস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি এই বিপর্যয় নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আন্তঃদেশীয় সরবরাহ ব্যবস্থাকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ভারত সরকারের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বৃহস্পতিবার ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে জানান, নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট থেকে কমে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেবীঘাট কেন্দ্রটির ক্ষমতা প্রায় ১৪ মেগাওয়াট। ভারত নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনে। গ্রিড ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার, ২৬ আগস্ট, বিপর্যয়ের দিন সর্বোচ্চ আমদানির পরিমাণ ছিল ৯৬৩.৪ মেগাওয়াট। সর্বোচ্চ আমদানির এই হিসাব অবশ্য আধিকারিকের দেওয়া সাধারণ সরবরাহের হিসাব থেকে আলাদা।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী চিলিমে ও ত্রিশূলী কেন্দ্রও বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। ফলে সংকটের প্রভাব নেপালের সীমানার বাইরেও পড়ছে। তবে বাংলাদেশে সরবরাহ ঠিক কতটা কমেছে, তার নিশ্চিত পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রক ও গ্রিড ইন্ডিয়ার কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় উত্তর মেলেনি বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।
নেপালের জ্বালানি মন্ত্রকের প্রাথমিক হিসাবে, রাসুয়া জেলায় পাঁচটি চালু এবং তিনটি নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প আক্রান্ত হয়েছে। চালু প্রকল্পগুলির সম্মিলিত ক্ষমতা ২৩৬ মেগাওয়াট; নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলির ৩৪২.৪২ মেগাওয়াট। ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় রয়েছে আপার ত্রিশূলী–১, রাসুয়াগড়ি, রাসুয়া ভোটেকোশী, সানজেন খোলা, আপার মাইলুং ‘এ’, মাইলুং খোলা, লাংটাং খোলা এবং চিলিমে।
পাশের নুওয়াকোট জেলায় আক্রান্ত চারটি চালু প্রকল্পের সম্মিলিত ক্ষমতা ১২৩ মেগাওয়াট। আরও দু’টি নির্মীয়মাণ প্রকল্পের ক্ষমতা ৫২.৬ মেগাওয়াট। সেখানে দেবীঘাট ও ত্রিশূলীর পাশাপাশি আপার ত্রিশূলী–৩এ, আপার ত্রিশূলী–৩বি, মিডল ত্রিশূলী গঙ্গা এবং ২৫ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় রয়েছে। এই হিসাবে দু’টি জেলার আক্রান্ত চালু প্রকল্পগুলির মোট ক্ষমতা ৩৫৯ মেগাওয়াট। তবে প্রকল্পের উৎপাদনক্ষমতা এবং বাস্তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া উৎপাদন এক বিষয় নয়।
ক্ষতি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাথমিক সরকারি প্রতিবেদনে বাঁধ, জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন ভবন, প্রকল্পে পৌঁছনোর রাস্তা, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং নির্মাণসামগ্রীর ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। বিশেষত নদীর তীরবর্তী স্থাপনাগুলি প্রবল স্রোতের আঘাত পেয়েছে। ফলে উৎপাদনকেন্দ্র মেরামতের পাশাপাশি যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ পরিবহণের ব্যবস্থাও পুনরুদ্ধার করতে হবে।
নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কারিগরি দল পাঠিয়েছে। নিখোঁজ কর্মী, শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের খোঁজে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় করছে জ্বালানি মন্ত্রক। উদ্ধারকাজে সাতটি গাড়ি পাঠানো হয়েছে, প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও চোদ্দোটি। আকাশপথে উদ্ধারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
বন্যার বিপদ সম্পর্কে নিম্নপ্রবাহের বাসিন্দাদের সতর্ক করতে দুই লক্ষের বেশি মুঠোফোন বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু জলস্তর মাপার কিছু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরবর্তী ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎপাদন ও সরবরাহ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি তাই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও সচল করা জরুরি। কত দিনে কেন্দ্রগুলি পুরোপুরি চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মূল্যায়নের পরেই মেরামতের সময়, ব্যয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝা যাবে। আপাতত উদ্ধার, পরিকাঠামো পরীক্ষা এবং পরিষেবা ফেরানোই কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



