উদ্ধার বিপদসংকেত ও খালি লাইফবোট, এখনও নিখোঁজ ‘ওশেন উইনার’-এর ২২ নাবিক

যা জানা জরুরি
- ওড়িশা উপকূলে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশেন উইনার’-এর বিপদসংকেত প্রেরণকারী যন্ত্র এবং একটি লাইফবোট উদ্ধার করা হয়েছে।
- কিন্তু জাহাজটির নিখোঁজ ২২ জন নাবিকের কোনও সন্ধান এখনও মেলেনি।
- ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও নৌবাহিনী জাহাজ, বিমান এবং ওই এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জলযানের সাহায্যে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ওড়িশা উপকূলে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশেন উইনার’-এর বিপদসংকেত প্রেরণকারী যন্ত্র এবং একটি লাইফবোট উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু জাহাজটির নিখোঁজ ২২ জন নাবিকের কোনও সন্ধান এখনও মেলেনি। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও নৌবাহিনী জাহাজ, বিমান এবং ওই এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জলযানের সাহায্যে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
পানামার পতাকাবাহী ‘এমভি ওশেন উইনার’-এ মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন চিনের, তিনজন মায়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। জাহাজডুবির পরে জীবনভেলায় ভাসতে থাকা দুই চিনা নাবিককে ২২ আগস্ট উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে উপকূলরক্ষী বাহিনীর একটি জাহাজে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। দু’জনকে পারাদ্বীপে নিয়ে আসার পরে চিনা দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।
উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, আকাশপথে অনুসন্ধান চালানোর সময় নৌবাহিনীর একটি বিমান সমুদ্র থেকে ভেসে আসা বিপদসংকেত শনাক্ত করে। বিমানের দেওয়া অবস্থান অনুসরণ করে উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ ‘আইসিজিএস বরদ’ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছয়। মঙ্গলবার সকাল প্রায় সাতটা নাগাদ সেখানে ‘ওশেন উইনার’-এর একটি লাইফবোট দেখতে পাওয়া যায়। উদ্ধারকারী দল সেটিতে উঠে তল্লাশি চালালেও কোনও নাবিককে পাওয়া যায়নি।
পরে একই এলাকা থেকে একটি জরুরি অবস্থানসূচক বেতার সংকেতযন্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরীক্ষার পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি ডুবে যাওয়া জাহাজটিরই। এই যন্ত্রটি বিপদের সময় স্বয়ংক্রিয় অথবা হাতে চালু করে জাহাজের অবস্থান-সহ সংকেত পাঠায়। যন্ত্রটি উদ্ধার হওয়ায় জাহাজডুবির সম্ভাব্য স্থান সম্পর্কে অনুসন্ধানকারীরা আরও নির্দিষ্ট ধারণা পেয়েছেন। তবে খালি লাইফবোট উদ্ধারের ঘটনায় নিখোঁজ নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
‘ওশেন উইনার’ ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে ৭২ হাজার টনের বেশি লৌহ আকরিক নিয়ে চিনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। পথে সিঙ্গাপুরে জাহাজটির থামার কথা ছিল। পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৩০ নটিক্যাল মাইল বা ৪২৫ কিলোমিটার দূরে জাহাজটি হঠাৎ এক দিকে কাত হয়ে পড়ে। আধিকারিকদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়। এত দ্রুত বিপর্যয় ঘটায় অধিকাংশ নাবিক জীবনরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চিনের বেজিংস্থিত সামুদ্রিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার সমন্বয়কেন্দ্র ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চিন অনুসন্ধানে সাহায্য করার জন্য দুটি বাণিজ্যিক জাহাজও পাঠিয়েছে। সমুদ্রের প্রবল স্রোত ও ঢেউ নিখোঁজ নাবিকদের জাহাজডুবির স্থান থেকে অনেক দূরে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে—এই আশঙ্কায় তল্লাশির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত উপকূলরক্ষী জাহাজ, বিমান ও আশপাশের বাণিজ্যিক জলযানকে অভিযানে যুক্ত করা হলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন করে কাউকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



