খবর

রামমন্দিরের প্রশাসনিক প্রধান বাছাইয়ের মুখে ‘চম্পত-চিঠি’, অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনের জল্পনা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নিজস্ব প্রতিবেদন: রামমন্দির ট্রাস্টের প্রথম পূর্ণকালীন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নিয়োগের ঠিক আগে অযোধ্যায় আলোড়ন ফেলেছে নয় পাতার একটি চিঠি।
  • চিঠিটির লেখক হিসেবে শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের নাম ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিজে এখনও তা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি।
  • তবে চিঠিতে মন্দির নির্মাণের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে নির্মাণ কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন…

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদন: রামমন্দির ট্রাস্টের প্রথম পূর্ণকালীন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক নিয়োগের ঠিক আগে অযোধ্যায় আলোড়ন ফেলেছে নয় পাতার একটি চিঠি। চিঠিটির লেখক হিসেবে শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের নাম ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিজে এখনও তা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। তবে চিঠিতে মন্দির নির্মাণের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে নির্মাণ কমিটির সভাপতি নৃপেন্দ্র মিশ্রের ভূমিকা যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

গত ১৮ আগস্ট তারিখাঙ্কিত চিঠিতে রামজন্মভূমি আন্দোলন, দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং মন্দির নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্মাণ-সংক্রান্ত কার্যকলাপের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন নৃপেন্দ্র মিশ্র। মন্দির নির্মাণের জন্য লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো এবং প্রকল্প পরিচালনার পরামর্শদাতা হিসেবে টাটা কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্সকে যুক্ত করার প্রসঙ্গও রয়েছে। অন্য কয়েকটি ভবনের নকশা ও নির্মাণের দায়িত্ব নয়ডার একটি সংস্থাকে দেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশ্রের উদ্যোগেই নির্মাণ কমিটিতে তাঁর পছন্দের কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

চিঠির ভাষায় কোথাও মিশ্রের অবদানের প্রশংসা রয়েছে, আবার কোথাও এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে ট্রাস্টের সদস্যদের মতামত না নিয়েই বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে এটি মিশ্রের ভূমিকার স্বীকৃতি, না কি ভবিষ্যতে কোনও বিতর্ক দেখা দিলে দায় নির্দিষ্ট করে রাখার চেষ্টা—তা নিয়ে অযোধ্যার ধর্মীয় ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নৃপেন্দ্র মিশ্র অবশ্য চিঠি ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধের তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও চিঠি তিনি দেখেননি। না দেখে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মন্তব্য করাও সম্ভব নয়। তাঁর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে—এই ধারণাকেও তিনি ‘মনগড়া’ বলে অভিহিত করেছেন। মিশ্রের দাবি, ট্রাস্টের মধ্যে বিভেদ রয়েছে বলে দেখানোর উদ্দেশ্যেই বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, মন্দির প্রকল্পে নির্ধারিত ৭০টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে ৬০টি ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে এবং নির্মাণে কেন্দ্র বা উত্তরপ্রদেশ সরকারের অর্থ ব্যয় করা হয়নি।

চিঠির তাৎপর্য আরও বেড়েছে চম্পত রাইয়ের সাম্প্রতিক পদত্যাগ এবং তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের জল্পনায়। মন্দিরে ভক্তদের দান ও প্রণামীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত ২৬ জুন তিনি সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দেন। ৬ জুলাই তাঁর পদত্যাগ গৃহীত হয়। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রতিবেদনে চম্পত রাইকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি। এই সূত্র ধরেই অযোধ্যার সাধু-সন্তদের একাংশ তাঁকে ট্রাস্টে ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করছেন।

রাইয়ের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির বক্তব্য, বিশেষ তদন্তকারী দল চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর তিনি নিজের বক্তব্য লিখিতভাবে জানাবেন বলেছিলেন। নয় পাতার লেখাটিই সেই প্রতিশ্রুত বিবৃতি কি না, তা অবশ্য পরিষ্কার নয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নথিতে রাইয়ের স্বাক্ষর না থাকায় এর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এর মধ্যেই আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকে প্রথম পূর্ণকালীন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিককে বেছে নেওয়া হতে পারে। পদটির জন্য ৫,৫৮৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ৩,৮৭৭ জন বিস্তারিত জীবনপঞ্জি দেন এবং প্রাথমিক যাচাইয়ের পরে ১১১ জনের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলা হয়। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্তা, অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা পেশাদারদের মধ্য থেকে ১৬ জনকে মুখোমুখি আলোচনার জন্য ডাকা হয়।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী এবং বিজ্ঞানী সুরেশ হাওয়ারের অনুসন্ধান কমিটি তিনটি নাম ট্রাস্টের কাছে পাঠাবে। নির্বাচিত আধিকারিক তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পাবেন। তাঁকে ট্রাস্টের প্রশাসন, হিসাবের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিপুল ভক্তসমাগম এবং বিশিষ্ট অতিথিদের ব্যবস্থাপনা সামলাতে হবে।

ফলে নয় পাতার চিঠিটি নিছক ঐতিহাসিক বিবরণ, নাকি নতুন প্রশাসনিক প্রধান নিয়োগের আগে ট্রাস্টের ক্ষমতার কেন্দ্র পুনর্নির্ধারণের বার্তা—সেই প্রশ্নই এখন অযোধ্যার আলোচনার কেন্দ্রে। চম্পত রাই নীরবতা ভাঙলে এবং ৩ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এলে এই জল্পনার উত্তর মিলতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles