বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতই, রায় দু’মাসে

যা জানা জরুরি
- কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপড়েনে আপাতত স্থিতাবস্থা।
- বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে থাকছেন।
- তবে তাঁর নিয়োগের বৈধতা নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা মামলাটি আগামী দু’মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে বলে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপড়েনে আপাতত স্থিতাবস্থা। বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে থাকছেন। তবে তাঁর নিয়োগের বৈধতা নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা মামলাটি আগামী দু’মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে বলে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার জানায়, বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তটি আপাতত অন্তর্বর্তী প্রকৃতির। এই মুহূর্তে তাতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হলে বিধানসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। তাই ঋতব্রতের নিয়োগে এখনই হস্তক্ষেপ করেনি আদালত। একক বেঞ্চ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবেই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন।
বিধানসভা নির্বাচনের পর ২৯৪ আসনের মধ্যে ৮০টি আসন পেয়ে তৃণমূল প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফল ঘোষণার পাঁচ দিন পর, ৯ মে, তাঁর নাম প্রস্তাব করে অধ্যক্ষকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু এর মধ্যেই ঋতব্রতের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ বলে দাবি করে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, শোভনদেবকে সমর্থন জানিয়ে পাঠানো চিঠিতে কয়েক জন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিধানসভা সচিবালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। পরে তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে।
বিদ্রোহী শিবিরের দাবি ছিল, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন রয়েছে ঋতব্রতের সঙ্গে। সেই দাবির ভিত্তিতেই অধ্যক্ষ তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পরে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে মমতা-নেতৃত্বাধীন তৃণমূল ঋতব্রতকে বহিষ্কার করে।
অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। তাঁর যুক্তি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব রয়েছে। পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে দল থেকে বহিষ্কৃত কোনও সদস্যকে ওই পদে বসানো যায় না।
গত ১৮ জুন বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের একক বেঞ্চ অবশ্য অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন শোভনদেব।
তবে ডিভিশন বেঞ্চ থেকেও আপাতত কোনও তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেলেন না তিনি। বরং মামলায় ওঠা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে হলফনামা জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে দু’মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে আপাতত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসনে ঋতব্রতই থাকছেন। কিন্তু সেই পদে তাঁর বসা কতটা আইনসঙ্গত, তার চূড়ান্ত উত্তর এখনও আদালতের হাতে। চেয়ারে আপাতত ঋতব্রত, শেষ কথা বলবে আদালত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



