যোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান চুরির মামলায় স্বস্তি পেলেন শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র অছি পরিষদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই। তদন্তকারী বিশেষ দল বা এসআইটি জানিয়েছে, অনুদান তছরুপের সঙ্গে চম্পত রাইয়ের সরাসরি যোগসূত্রের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পরিষদের প্রাক্তন সদস্য অনিল মিশ্রকেও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র দপ্তর সোমবার এসআইটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র অছি পরিষদের হাতে তুলে দিয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুসারে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পরিষদকে। তবে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র অব্যাহতি পেলেও অনুদান চুরির মূল মামলার তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরে গত ২৭ জুন চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। দু’জনেই জানিয়েছিলেন, তাঁরা নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করছেন। পরে অনুদান সংগ্রহ, গণনা, সংরক্ষণ এবং ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার গোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসআইটি।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় চম্পত রাই দাবি করেন, অনুদান চুরির ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। বরং তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অনুদান সংগ্রহে অনিয়ম রোধ করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল এবং দুর্নীতির খবর পাওয়া মাত্রই তিনি পদক্ষেপ করেছিলেন বলেও তদন্তকারীদের জানান রাই।

অছি পরিষদের অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকার গত ১৩ জুন তিন সদস্যের এসআইটি গঠন করেছিল। দলের নেতৃত্বে ছিলেন লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্ত। অন্য দুই সদস্য ছিলেন রেঞ্জ পুলিশের মহাপরিদর্শক কিরণ এস এবং অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীলরতন কুমার।

এসআইটি ২৩ জুন রাজ্য সরকারের কাছে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে অনুদান পরিচালনা ও তদারকির ব্যবস্থায় একাধিক গুরুতর ত্রুটির কথা উল্লেখ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতে অছি পরিষদের সদস্য কৃষ্ণমোহন রামজন্মভূমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২৫ জুন পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করে।

মামলায় অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং টিন্নু নামে পরিচিত রামশঙ্কর যাদব-সহ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আট অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা চলছে।

এ দিকে, সুপ্রিম কোর্টও এসআইটিকে তদন্তের অগ্রগতি জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে এবং মামলাটিকে যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র ব্যক্তিগত ভাবে অব্যাহতি পেলেও অনুদান চুরি, হিসাবরক্ষণে গাফিলতি এবং তদারকির দুর্বলতা নিয়ে বিচারবিভাগীয় নজরদারি এখনই শেষ হচ্ছে না। পরিষদ এখন এসআইটির সুপারিশ মেনে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।