খবর

এলপিইউতে বিক্ষোভ: ১৫ ঘণ্টা পর খুলল জাতীয় সড়ক, দশ দিন ক্লাস বন্ধ

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পাঞ্জাবের ফাগওয়ারায় লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির পড়ুয়াদের বিক্ষোভে টানা ১৫ ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ থাকার পর ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
  • জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার সতিন্দর সিংহ জানান, রবিবার গভীর রাতে অবরোধ সরিয়ে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পাঞ্জাবের ফাগওয়ারায় লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির পড়ুয়াদের বিক্ষোভে টানা ১৫ ঘণ্টার বেশি অবরুদ্ধ থাকার পর ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জলন্ধরের পুলিশ কমিশনার সতিন্দর সিংহ জানান, রবিবার গভীর রাতে অবরোধ সরিয়ে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এবং বিভিন্ন প্রবেশপথে বিপুল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দশ দিনের জন্য নিয়মিত ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক ছাত্রীকে বহিরাগত ব্যক্তি ধর্ষণ করেছেন—এই অভিযোগ ঘিরে রবিবার বিক্ষোভ শুরু হয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, হস্টেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তদন্তে গড়া হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। তবে ধর্ষণের অভিযোগ এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা ঘটার দাবি অস্বীকার করে একে গুজব বলে অভিহিত করেছে।

রবিবার রাত প্রায় একটা নাগাদ ছাত্রীদের একটি হস্টেলের কাছে প্রতিবাদ শুরু হয়। সকাল আটটা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন বহু যাত্রী। বিকল্প পথ দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। দিনের মধ্যে পড়ুয়াদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের একাধিক দফা আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তথা আচার্য অশোক মিত্তলকে এসে তাঁদের অভিযোগের সমাধানের আশ্বাস দিতে হবে।

সন্ধ্যায় অবরোধ সরাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য, বিক্ষোভকারীদের একাংশ বাহিনীর উপর হামলা চালান এবং গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। পুলিশ লাঠিচার্জ করলে তাঁরা ক্যাম্পাসের দিকে সরে যান। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। পুলিশের দু’টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আধিকারিকেরা। জাতীয় সড়কের বিক্ষোভ ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরেও ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রাতের পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পুলিশ প্রশাসন।

অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল এম এফ ফারুকি জানান, নিরাপত্তার জন্য দু’হাজারের বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তাঁর বক্তব্য, হস্টেলে থাকা ছাত্রীরা নিরাপদ এবং শান্তি ফেরাতে পড়ুয়ারাও সহযোগিতা করছেন। পুলিশ কমিশনারও জানান, হস্টেলগুলিতে তল্লাশি ও খোঁজখবর নিয়ে সেখানে নতুন কোনও গোলমালের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁর দাবি, হস্টেলের অশান্তি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবর গুজব। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাকি সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে।

অশান্তির জেরে সোমবার থেকে দশ দিন নিয়মিত ক্লাস স্থগিত রাখার পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সেমেস্টারের পরীক্ষাও পিছিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে পড়ুয়ারা বাড়ি ফিরতে পারবেন। যাঁরা ক্যাম্পাসে থাকবেন, তাঁদের হস্টেল অথবা বাসস্থানের ভিতরে থাকতে এবং অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অশান্তি থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালেই বহু পড়ুয়াকে ব্যাগপত্র নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হতে দেখা যায়।

তদন্ত বিভাগের পুলিশ সুপার হরিন্দর গিল জানান, রবিবার রাত থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সোমবার সকালে নতুন করে বিক্ষোভের খবর নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এক পড়ুয়া বিশাল কুমার অবশ্য অভিযোগ করেছেন, রাতে মুখ ঢাকা বহিরাগতদের আগমনের পর হিংসা বাড়ে। তাঁর কথায়, রাতের অভিজ্ঞতায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানিয়েছেন, ফরেনসিক নমুনা, সিসিটিভির ফুটেজ এবং ফোনের তথ্য পরীক্ষা করেই তদন্তের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে। পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদেরও তদন্তপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে। আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া চলবে না। ছাত্রীদের হস্টেলে কেবল মহিলা কর্মী নিয়োগের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহযোগিতা করবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles