ছেলে কমিশনের কাউন্সেল, বাবার বেঞ্চে কমিশনের মামলা

যা জানা জরুরি
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার পুত্র মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল—এই খবরটি সামনে আসার পর বিচারিক শিষ্টাচার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
- প্রশ্নটি কেবল একজন বিচারপতির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নয়।
- প্রশ্নটি দুটি মামলার প্রেক্ষাপটে উঠেছে, যে দুটিই নির্বাচন কমিশন এবং বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
প্রথম মামলাটি ২০২৩ সালের সেই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে, যার মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগপ্রক্রিয়া নির্ধারিত হয়। সেই আইনে নির্বাচন কমিটির গঠন বদলে দেওয়া হয়। আগে সুপ্রিম কোর্টের অনন্ত বড়নওয়াল রায়ে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা ও প্রধান বিচারপতির একটি প্যানেলের কথা বলা হয়েছিল। সংসদ পরে যে আইন পাশ করে, তাতে প্রধান বিচারপতির জায়গায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী বসানো হয়। ফলে নিয়োগপ্যানেলে কার্যত নির্বাহী বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি হয়। এই আইনকে অনেকেই কমিশনের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিপজ্জনক বলেছেন। এই চ্যালেঞ্জটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দুই বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়—বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মা।
সেদিন দুই বিচারপতি একমত হতে পারেননি বিষয়টি কি পাঁচ বিচারপতির সংবিধান বেঞ্চে পাঠানো উচিত। বিচারপতি দত্ত মনে করেন, প্রাসঙ্গিক সাংবিধানিক নীতি আগেই স্থির হয়েছে; নতুন করে বৃহত্তর বেঞ্চের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন হতে হবে এবং স্বাধীন বলেও দেখাতে হবে। তাঁর পর্যবেক্ষণে, বিরোধী দলনেতার ভূমিকা এই প্যানেলে অনেকটাই আলংকারিক হয়ে পড়ে, কারণ প্রধানমন্ত্রী মনোনীত মন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আশা করা কঠিন। অন্যদিকে বিচারপতি শর্মা মনে করেন, ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কোনো প্রামাণিক রায় এখনও নেই, তাই অনুচ্ছেদ ১৪৫(৩) অনুসারে বিষয়টি সংবিধান বেঞ্চে যাওয়া উচিত। ফলত মামলাটি এখন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে তিনি উপযুক্ত সংবিধান বেঞ্চ গঠন করেন। বাস্তব পরিণতি হলো—ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বাধীনতা সংক্রান্ত এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি আরও পিছিয়ে গেল।
একই দিনে, অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর, বিচারপতি শর্মার নেতৃত্বাধীন আরেকটি বেঞ্চ শুনানি করেন নয়ডার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেধা রূপমের আবেদন। মেধা রূপম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা। এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁর জারি করা এক এনএসএ আটক আদেশকে অবৈধ বলে বাতিল করেছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরী নয়ডার শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হাইকোর্ট আটককে “গড়া গল্প” বলে অভিহিত করে ছাত্রীকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন এবং সেই অর্থ মেধা রূপম ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আধিকারিকদের বেতন থেকে আদায়ের নির্দেশ দেন। হাইকোর্ট আরও কঠোর ভাষায় বলেন, এমন “স্বেচ্ছাচারী” আচরণ অব্যাহত থাকলে উত্তরপ্রদেশ “অরওয়েলিয়ান দুঃস্বপ্ন”-এ পরিণত হতে পারে। বিচারপতি শর্মার বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন ত্রাণ দিয়ে হাইকোর্টের কঠোর মন্তব্য ও বেতন থেকে অর্থ আদায়ের নির্দেশ স্থগিত করেন। মামলাটি ৭ অক্টোবর গুণগত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়।
এখানেই তালিকাভুক্তি নিয়ে দ্বিতীয় স্তরের প্রশ্ন ওঠে। সুপ্রিম কোর্টের ১৩ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর রোস্টার অনুসারে হেবিয়াস কর্পাস ও নিবারক আটক সংক্রান্ত মামলা (ক্যাটেগরি ২২০১-২২০২) সিনিয়রিটি অনুসারে প্রথম চারটি বেঞ্চের কাছেই থাকে—প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি বি. ভি. নাগরত্না ও বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ। বিচারপতি শর্মার নিয়মিত রোস্টারে এই বিষয়টি সাধারণভাবে নেই। একই শ্রমিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা সংযুক্ত মামলা ইতিমধ্যে বিচারপতি নাগরত্নার বেঞ্চে চলছিল। সাধারণ রীতি হলো, সংযুক্ত বিষয় একই বেঞ্চে যায়। তা সত্ত্বেও মেধা রূপম ও উত্তরপ্রদেশ সরকারের আবেদন বিচারপতি শর্মা ও বিচারপতি এন. কে. সিং-এর বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হয়। রোস্টারের বাইরে এই বিশেষ তালিকাভুক্তি অনেকের মনে সন্দেহ তৈরি করেছে। রোস্টারের মালিক প্রধান বিচারপতি; বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতায় সম্ভব। কিন্তু কেন এই বিশেষ ব্যবস্থা হলো, যখন চারটি বেঞ্চ ইতিমধ্যে এই বিষয়ের রোস্টার পেয়েছে এবং আরও একটি বেঞ্চ সংযুক্ত মামলা শুনছে—এই প্রশ্ন এখন খোলা।
এই দুই প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তৃতীয় তথ্য। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে লিপিবদ্ধ আছে, বিচারপতি শর্মার জ্যেষ্ঠ পুত্র ২০১৭ সালে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন এবং তিনি সেখানে নির্বাচন কমিশনের স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল। তিনি কেন্দ্রীয় প্রত্যক্ষ কর বোর্ড ও আয়কর বিভাগেরও স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল। কনিষ্ঠ পুত্র ২০২০ সালে নাম নথিভুক্ত করেন এবং তিনি মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল। এই তথ্য নিজে থেকেই প্রমাণ করে না যে বিচারপতি কোনো রায়ে ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু বিচারব্যবস্থায় প্রশ্ন কেবল বাস্তব প্রভাব নিয়ে নয়, ধারণা নিয়েও। ন্যায়বিচার শুধু সম্পন্ন হলেই চলে না, তাকে সম্পন্ন বলে দেখাতেও হয়—এই কথা আদালত বহুবার বলেছে।
এখন প্রশ্নটা সোজা। কোনো বিচারপতি কি সেই সংস্থার বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় রায় দিতে পারবেন বলে মনে করা যায়, যে সংস্থার ওপর তাঁর সন্তানের পেশাগত অগ্রগতি নির্ভরশীল? নির্বাচন কমিশনের স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল হওয়া মানে নিয়মিত সেই সংস্থার হয়ে হাইকোর্টে দাঁড়ানো, ফাইল পাওয়া, সম্পর্ক রাখা। সেই একই সময়ে বাবা সুপ্রিম কোর্টে সেই সংস্থার নিয়োগআইন এবং সেই সংস্থার প্রধানের কন্যার মামলা শুনছেন। এই জ্যামিতি একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের কাছে স্বার্থের সম্ভাব্য সংঘাতের ধারণা তৈরি করে।
আরও একটি বিষয় পরিষ্কার নয়। বিচারপতি শর্মা নির্বাচন কমিশন আইন মামলার পক্ষগুলোকে বা মেধা রূপম মামলার পক্ষগুলোকে এই পেশাগত সংযোগ জানিয়েছেন কি না। বিচারিক নীতিশাস্ত্রে সংশ্লিষ্টতা থাকলে প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে সরে দাঁড়ানোই প্রথা। প্রকাশ না থাকলে ধারণার বোঝা আরও বাড়ে।
এই বিতর্ককে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন, কারণ পটভূমি ইতিমধ্যে উত্তপ্ত। অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশি গত প্রায় দশ মাসে এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত চোদ্দবার আপত্তি তুলেছেন। বিরোধীরা বলছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কমিশনের সূত্রে বলা হচ্ছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত। এই টানাপড়েনের মাঝেই নিয়োগআইন মামলা সংবিধান বেঞ্চে ঠেলে দেওয়া এবং সিইসির কন্যার মামলা রোস্টারের বাইরে একটি বেঞ্চে গিয়ে স্থগিতাদেশ পাওয়া—দুটো ঘটনাই রাজনৈতিক বিতর্কে ইন্ধন জোগাচ্ছে।
এখানে সতর্কতা জরুরি। বিচারপতির পুত্রের পেশাগত নিয়োগ এবং বিচারপতির রায়ের মধ্যে কার্যকারণ প্রমাণিত হয়নি। স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল তালিকায় নাম থাকা অনেক আইনজীবীরই পরিবারে বিচারক থাকতে পারেন; সেই কারণেই নিয়ম ও প্রকাশের সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নটা ব্যক্তি আক্রমণ নয়, প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা। নির্বাচন কমিশন যদি স্বাধীন না বলে মনে হয়, ভোটের ওপর আস্থা ভাঙে। সুপ্রিম কোর্ট যদি স্বার্থের ধারণা দূর করতে না পারে, আদালতের ওপর আস্থাও ক্ষয় পায়। দুটি প্রতিষ্ঠানই গণতন্ত্রের ভিত।
তাই এখন যে তিনটি পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসছে, সেগুলো হলো: সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে পারিবারিক-পেশাগত সংযোগের পূর্ণ প্রকাশ; রোস্টারবহির্ভূত তালিকাভুক্তির প্রশাসনিক ব্যাখ্যা; এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে সেই মামলা থেকে সরিয়ে অন্য বেঞ্চে বিষয়টি দেওয়া। এগুলো দোষী সাব্যস্ত করা নয়। এগুলো ধারণা নিরসনের পথ। গণতন্ত্রে বিচারকের সততা যেমন দরকার, তেমনই দরকার সেই সততা যেন জনমানসেও টেকে।
মূল কথা এখানেই থেমে যায় না। এটি একটি বৃহত্তর প্রশ্নের দরজা খুলে দেয়—সাংবিধানিক পদে নিয়োগ, নির্বাচনী তালিকা সংশোধন, এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কি পরস্পর থেকে আলাদা থাকে, না কি একই ক্ষমতা-কাঠামোর ছায়ায় গিয়ে মিশে যায়। সেই প্রশ্নের উত্তর আদালত দেবে। কিন্তু প্রশ্ন তোলা নাগরিকের অধিকার। এবং সেই অধিকার চর্চা করতে গিয়েও ভাষা থাকুক তথ্যনিষ্ঠ—অভিযোগ যেখানে অভিযোগ, রায় যেখানে রায়, ধারণা যেখানে ধারণা।
ভারতীয় আদালতে রেকিউজাল মানে বিচারপতি নিজে থেকে কোনো মামলা থেকে সরে দাঁড়ানো। সংবিধানে এর কোনো পৃথক ধারা নেই। নিয়ম এসেছে শপথ, ন্যায়বিচারের ধারণা এবং কয়েকটি রায় থেকে।
মূল নীতি
বিচারপতি শপথ নেন, তিনি ভয় বা পক্ষপাত ছাড়া বিচার করবেন। তার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি পুরনো সূত্র: ন্যায় শুধু সম্পন্ন হলেই চলে না, তাকে সম্পন্ন বলেও দেখাতে হয় (justice must not only be done, but must also be seen to be done)। রেকিউজাল এই “দেখা যাওয়া” অংশের হাতিয়ার।
দুই ধরনের পরিস্থিতি আলাদা।
প্রকৃত পক্ষপাত — বিচারপতির সিদ্ধান্ত সত্যিই প্রভাবিত হয়েছে, এমন প্রমাণ। এটা দুর্লভ এবং প্রমাণ করা কঠিন।
পক্ষপাতের যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা — একজন সাধারণ, বিচক্ষণ পর্যবেক্ষক মনে করতে পারেন বিচারপতি নিরপেক্ষ নাও থাকতে পারেন। ভারতে বেশিরভাগ রেকিউজাল এই দ্বিতীয় মানদণ্ডে হয়। সুপ্রিম কোর্ট Ranjit Thakur v. Union of India (1987) এবং পরবর্তী রায়ে বলেছে, পরীক্ষাটা বিচারপতির মনে কী আছে তা নয়; বাইরে থেকে পরিস্থিতি কেমন দেখায় তা।
কখন সরে দাঁড়ানোর কথা
কোনো বাধ্যতামূলক তালিকা নেই। প্রথায় যেসব ক্ষেত্রে রেকিউজাল প্রত্যাশিত:
• বিচারপতি বা নিকটাত্মীয় মামলার পক্ষ
• আর্থিক স্বার্থ (শেয়ার, সম্পত্তি, চুক্তি)
• নিকটাত্মীয় কোনো পক্ষের আইনজীবী, বিশেষ করে সেই পক্ষের নিয়মিত কাউন্সেল
• আগে একই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে হাজির হয়েছিলেন
• ব্যক্তিগত শত্রুতা বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব, যা নিরপেক্ষতা ভাঙতে পারে বলে মনে হয়
• একই ঘটনা বা একই পক্ষ নিয়ে আগে এমন মন্তব্য করেছেন যা মন স্থির করে ফেলেছে বলে ধারণা জন্মায়
Supreme Court Rules, 2013 বা হাইকোর্ট রুলসে “এই এই সম্পর্ক থাকলে অবশ্যই সরে দাঁড়াবেন” বলে কোনো চেকলিস্ট নেই। সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত। কেউ জানান, কেউ জানান না; কেউ সরেন, কেউ বলেন আমি নিরপেক্ষ থাকতে পারব।
কে সিদ্ধান্ত নেন
এই কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট। যে ব্যক্তির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, তিনিই বলেন প্রশ্নটা যথেষ্ট কি না। আন্তর্জাতিক কিছু আদালতে লিখিত প্রকাশ ও বাইরের পর্যালোচনা আছে; ভারতে তা প্রায় নেই।
প্রকাশ (disclosure)
রেকিউজালের আগে থাকে প্রকাশ। বিচারপতি পক্ষদের জানান, তাঁর পরিবার বা অতীত এই মামলার সঙ্গে কীভাবে যুক্ত। তারপর পক্ষ আপত্তি তুলতে পারে, অথবা আপত্তি তোলে না। প্রকাশ না করলে পরবর্তীতে ধারণার বোঝা বাড়ে—এমনকি রায় সঠিক হলেও।
ভারতে প্রকাশের কোনো বাধ্যতামূলক ফর্ম নেই। অনেকে মৌখিক বলেন; অনেকে নীরব থাকেন। জাতীয় বিচারিক নিয়মাবলি বা ইন-হাউস প্রক্রিয়ায়ও পরিবারের পেশাগত নিয়োগ নিয়মিত ঘোষণার ব্যবস্থা নেই।
এই বিতর্কে নিয়ম কী বলে
রেকিউজালের মানদণ্ড অনুসারে এখানে যা প্রাসঙ্গিক:
• পুত্র সেই মামলায় হাজির নন। সংঘাত প্রত্যক্ষ নয়।
• কিন্তু স্ট্যান্ডিং কাউন্সেল মানে সেই সংস্থার সঙ্গে চলমান পেশাগত সম্পর্ক। কমিশনের স্বার্থ রক্ষা করাই তাঁর কাজ।
• নিয়োগআইন মামলার ফল কমিশনের গঠন ও ক্ষমতাকে ছুঁয়ে যায়। মেধা রূপম মামলা কমিশনের প্রধানের পরিবারকে ছুঁয়ে যায়।
• প্রশ্ন প্রমাণিত প্রভাব নয়; যুক্তিসঙ্গত পর্যবেক্ষকের ধারণা। সেই মানদণ্ডে অনেকেই প্রকাশ ও রেকিউজাল আশা করেন।
• প্রকাশ হয়েছিল কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
রোস্টার ও রেকিউজাল এক নয়
রোস্টার বলে কোন বেঞ্চ কোন বিষয় শুনবে। রেকিউজাল বলে কোন বিচারপতি কোন মামলায় বসবেন না। সিজেআই রোস্টারের বাইরে মামলা দিতে পারেন; তাতে রেকিউজালের দায় কাটে না। উল্টো, রোস্টারের বাইরে সংবেদনশীল মামলা এলে প্রকাশের দায় আরও বাড়ে।
সংক্ষেপে নিয়মের ফাঁক
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



