খবর

যন্তর মন্তর থেকে রাঁচি: যুব-ক্ষোভ সামলাতে চাকরি, প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছ পরীক্ষার প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীদের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: যন্তর মন্তর থেকে রাঁচি—পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রতিবাদে যুবসমাজের আন্দোলন এখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে বড় সতর্কবার্তা।
  • তারই প্রতিফলন দেখা গেল স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায়।
  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বিজেপি ও বিরোধী-শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী—প্রায় সকলেই যুবশক্তি, কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ নিয়োগের কথা বললেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: যন্তর মন্তর থেকে রাঁচি—পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগে দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের প্রতিবাদে যুবসমাজের আন্দোলন এখন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে বড় সতর্কবার্তা। তারই প্রতিফলন দেখা গেল স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বিজেপি ও বিরোধী-শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী—প্রায় সকলেই যুবশক্তি, কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছ নিয়োগের কথা বললেন। কোথাও ঘোষণা হল নতুন যুবনীতি, কোথাও বিনামূল্যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশিক্ষণ, কোথাও আবার সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি।

সাম্প্রতিক দিল্লির যুববিক্ষোভ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্বের সমস্যাকে দেশের ঘরে ঘরে আলোচনার বিষয় করে তুলেছে। তার পর রাঁচিতে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন, অনশন এবং বিধানসভা অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান পরিস্থিতির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে নেতাদের ‘যুবশক্তি’ নিয়ে বাড়তি আগ্রহকে নিছক কাকতালীয় বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন। তিন বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাতেই তাই যুবসমাজকে কাছে টানার স্পষ্ট চেষ্টা দেখা গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের জন্য নতুন যুবনীতি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। এই নীতির লক্ষ্য হবে দক্ষতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। তাঁর দাবি, নকলচক্র ও নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। রাজ্যের জনমিতিক সুবিধাকে ‘উন্নয়নের ইঞ্জিনে’ পরিণত করা হচ্ছে। কৃত্রিম মেধা, যন্ত্রশিক্ষা, অর্ধপরিবাহী, তথ্যভাণ্ডার কেন্দ্র, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সাইবার প্রযুক্তি, রোবট নির্মাণ, বৈদ্যুতিক যান, কৃষিপ্রযুক্তি ও আর্থিক প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের জন্য কাজ এগিয়েছে বলেও দাবি করেন যোগী।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী ঘোষণা করেছেন ‘মুখ্যমন্ত্রী যুব ভবিষ্য নির্মাণ যোজনা’। সাত কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে সরকারি বিদ্যালয়ের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ১০ হাজার পড়ুয়াকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। গঠিত হবে যুব কমিশন। পাশাপাশি ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের স্বনিযুক্তি ও উদ্যোগ গড়ে তুলতে পৃথক উৎসাহ প্রকল্প চালু করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন, গোয়া কর্মী নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি যুবক-যুবতীকে চাকরি দেওয়া হবে।

২০২৭ সালের শেষ দিকে নির্বাচন হওয়ার কথা গুজরাতে। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল ঘোষণা করেছেন, সংরক্ষিত শ্রেণির নন-ক্রিমি লেয়ারের যুবকদের বিদেশে পড়াশোনার ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের বার্ষিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা ছয় লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লক্ষ টাকা করা হবে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা যুবকল্যাণের জন্য ‘যুব ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ নামে নতুন বিভাগ তৈরির কথা জানিয়েছেন। তবে ‘জেন জ়ি’ কিংবা ‘জেন আলফা’র মতো পাশ্চাত্য জনমিতিক অভিধানে তাঁর বিশ্বাস নেই। তাঁর ভাষায়, নতুন প্রজন্ম তাঁর কাছে রাজ্যের সন্তান; তাদের জন্য কাজ করা এবং রাজ্যের সম্পদ ব্যবহার করা সরকারের দায়িত্ব।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পরীক্ষাব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আধুনিক করতে রাজ্য পরীক্ষা সংস্কার কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন। পড়ুয়াদের অভিযোগ ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৭ আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে ছাত্র সহায়তা পোর্টাল।

ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দিতে ‘সিজি অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর কম্পিটিটিভ এগজ়াম’ প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ২০২৭ সালকে ‘যুববর্ষ’ হিসেবে পালনের কথা জানিয়েছেন। মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, উদ্যোগ, সরকারি ও বেসরকারি কর্মসংস্থান এবং নতুন ব্যবসাকে সহায়তা হবে এর মূল লক্ষ্য। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্প ঘোষণা না করলেও যুবকদের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর সরকারের দায়বদ্ধতার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিও পিছিয়ে থাকেনি। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু দাবি করেছেন, কংগ্রেস সরকার কয়েক হাজার যুবককে সরকারি চাকরি দিয়েছে এবং নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে। তাঁদের আমলে একটি প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়নি বলে পূর্বতন বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি।

বিজেপির একাংশের স্বীকারোক্তি, দিল্লির আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে কিংবা নতুন করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হলে তার নির্বাচনী মূল্য দিতে হতে পারে। সরকারি ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা ভবিষ্যৎ বলবে। আপাতত প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতিশ্রুতির লক্ষ্য যুবসমাজের হারানো আস্থা কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনা। কিন্তু চাকরির ঘোষণা আর প্রশিক্ষণ প্রকল্প দিয়ে ক্ষোভ সাময়িক ভাবে প্রশমিত করা গেলেও, সময়মতো নিয়োগ, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং দুর্নীতির দায় নির্ধারণ না হলে যন্তর মন্তর ও রাঁচির বার্তা আবারও রাজপথে ফিরে আসতে পারে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles