খবর

রাঁচির আন্দোলনে কেন নেই যন্তর মন্তরের পরিচিত মুখ, নেপথ্যে কৌশল ও বিভাজনের রাজনীতি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক…
  • অথচ ঝাড়খণ্ডের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে রাঁচি উত্তাল হলেও সেখানে দেখা যাচ্ছে না তাঁদের।
  • সিজেপি অবশ্য বলছে, এই অনুপস্থিতি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়; স্থানীয় ছাত্রনেতাদের সামনে রেখেই আন্দোলন চালানোর সচেতন কৌশল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে এবং সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। অথচ ঝাড়খণ্ডের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে রাঁচি উত্তাল হলেও সেখানে দেখা যাচ্ছে না তাঁদের। সিজেপি অবশ্য বলছে, এই অনুপস্থিতি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়; স্থানীয় ছাত্রনেতাদের সামনে রেখেই আন্দোলন চালানোর সচেতন কৌশল।

দীপকে গত ৯ আগস্ট ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলেন। ছাত্রদের দাবির সমর্থনে মাহাতো অনশনে রয়েছেন। পরের দিন মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে দীপকেকে রাঁচি যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাহাতো দক্ষতার সঙ্গে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; তাই সিজেপি সেখানে গিয়ে আন্দোলনটি ‘দখল’ করতে চায় না।

সিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি মঞ্চে না উঠলেও সংগঠনটি রাঁচি থেকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত নয়। রাজস্থানের সমাজকর্মী মুকেশ অলরাউন্ডারের নেতৃত্বে ২৫ জনের একটি প্রতিনিধিদল ঝাড়খণ্ডে পাঠানো হয়েছে। মুকেশ একসময় আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীপকে ও রাঙ্কারও আপ-যোগ রয়েছে। রাঁচিতে পৌঁছে প্রতিনিধিদলের সদস্যেরা প্রথমে আন্দোলনকারী ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবি এবং সিজেপির কাছে প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করেন।

মুকেশের বক্তব্য, রাঁচির ছাত্রেরা প্রধানত জানতে চেয়েছিলেন—যন্তর মন্তরের আন্দোলনে নিরাপত্তা কীভাবে সামলানো হয়েছিল এবং উত্তেজনার মধ্যেও আন্দোলনকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, দিল্লিতে এত বড় লড়াই জেতা সম্ভব হল কী করে? এই মতামত জানার পরে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্দেশ দেয়, তাদের সহযোগিতা হবে ‘মঞ্চের উপর থেকে নয়, মঞ্চের নীচ থেকে’। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক সহায়তা দেওয়া হবে, কিন্তু স্থানীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে সিজেপি সামনে আসবে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনAttachment.png

সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহের দাবি, যন্তর মন্তরের আন্দোলনকেও তাঁরা মূলত নেতাবিহীন গণআন্দোলন হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। সংগঠনটি এখন রাজনৈতিক দল নয়, বরং সরকারের উপর চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করতে চায়। দীপকে, সৌরভ ও রাঙ্কা—এই তিনজনকেই সিজেপির স্থায়ী মুখ বানিয়ে ব্যক্তিপূজার পরিবেশ তৈরি করা তাদের লক্ষ্য নয়। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে তাঁরা ২৫ জুলাইয়ের ‘বিজয়’ বলে অভিহিত করছেন। সেই সাফল্য দেশের তরুণদের নিজেদের লড়াই নিজেদেরই সংগঠিত করার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলে সিজেপির দাবি।

তবে কেবল ঘোষিত কৌশল দিয়েই পরিচিত নেতাদের অনুপস্থিতির সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা মিলছে না। রাঁচির আন্দোলনের ভিতরেই রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে। ২৫ জুলাই বাপু বাটিকায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ ২৯ জুলাই জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে সরে যায়। গোড়ায় পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবিতে ছাত্রেরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আন্দোলন ভেঙে যায় দুটি শিবিরে—জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্ম মঞ্চ এবং জেপিএসসি-জেএসএসসি অভ্যর্থী ন্যায় মঞ্চ।

রিফর্ম মঞ্চের অভিযোগ, অন্য শিবিরের বহু সদস্য ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার ঘনিষ্ঠ। পাল্টা ন্যায় মঞ্চ রিফর্ম মঞ্চকে ‘বিজেপি শিবির’ বলে আখ্যা দেয়, কারণ সেখানে নিয়মিত বিজেপি নেতা-কর্মীদের দেখা গিয়েছে। রাজ্যের জেএমএম-কংগ্রেস সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দুই গোষ্ঠী পৃথকভাবে আলোচনা করেছে। ফলে আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে অবিশ্বাস ইতিমধ্যেই যথেষ্ট গভীর।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও বহিরাগত নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তুলেছে। পরিষদের নেতা সত্যম মিশ্রের বক্তব্য, সিজেপি আসতে চাইলে আসতে পারে, তবে আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। যন্তর মন্তরের মতো ‘আজাদি’ স্লোগান বা বামপন্থী সংগঠনের কর্মসূচি তাঁরা ঝাড়খণ্ডে চান না। তাঁর দাবি, স্থানীয় ছাত্রেরা সিজেপিকে তেমন সমর্থন করেননি।

অন্যদিকে অনশনকারী উম্মে হাবিবা জানিয়েছেন, দীপকে অসুস্থতার কথা বলে সুস্থ হলে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বিজেপি-ঘনিষ্ঠ ছাত্রদের একাংশ সিজেপিকে না চাইলেও দেশজুড়ে ছাত্রবিক্ষোভের পরিবেশ তৈরিতে সংগঠনটির অবদান অস্বীকার করা যায় না বলে তাঁর মত। ন্যায় মঞ্চের সংগঠক চন্দন রজকও সিজেপির সংহতিকে স্বাগত জানিয়েছেন, কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন—তাঁরা চান না কোনও বাইরের নেতা এসে রাঁচির মঞ্চ দখল করুন।

ফলে পরিচিত মুখগুলির অনুপস্থিতির পিছনে দ্বিমুখী বাস্তবতা রয়েছে। একদিকে স্থানীয় ছাত্রদের ক্ষমতায়ন ও ব্যক্তিনির্ভরতা এড়ানোর সিজেপি-কৌশল; অন্যদিকে রাঁচির আন্দোলনে বিজেপি, এবিভিপি, জেএলকেএম এবং বিভিন্ন ছাত্রমঞ্চের পারস্পরিক সন্দেহ। এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে দীপকেরা সামনে এলে আন্দোলনের মূল দাবি ছাপিয়ে নেতৃত্ব দখলের বিতর্কই বড় হয়ে উঠতে পারত। তাই আপাতত সিজেপি আলোয় নয়—আড়াল থেকে সংগঠন ও অভিজ্ঞতার জোগান দেওয়ার পথই বেছে নিয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles